ট্রাম্পকে শায়েস্তা করতে পদক্ষেপ নিচ্ছে ইউরোপ
উত্তরদক্ষিণ। বুধবার, ২১ জানুয়ারি, ২০২৬, আপডেট ১৭:৪০
ডেনমার্কের অধীন গ্রিনল্যান্ড দখল নিয়ে আগ্রাসী অবস্থান নিয়েছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পরিকল্পনা বাস্তবায়নে চাপ বাড়াতে ডেনমার্কসহ ইউরোপের ঘনিষ্ঠ মিত্রদের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের হুমকিও দিয়েছেন তিনি।
ট্রাম্পের এ ধরনের পদক্ষেপে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।এই প্রেক্ষাপটে আমেরিকাকে চাপের মুখে ফেলতে গত জুলাইয়ে স্বাক্ষরিত ইইউ–আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তির অনুমোদন স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) ফ্রান্সের স্ট্রাসবুর্গে আনুষ্ঠানিকভাবে এ সিদ্ধান্ত ঘোষণা হতে পারে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কমিটির ঘনিষ্ঠ সূত্র।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে ইউরোপ ও আমেরিকার
মধ্যে চলমান উত্তেজনা আরও তীব্র হতে পারে। বিশেষ করে গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ট্রাম্পের কঠোর অবস্থান এবং নতুন শুল্ক আরোপের হুমকি পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছে।
এরই মধ্যে এই টানাপোড়েনের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বৈশ্বিক আর্থিক বাজারে। মঙ্গলবার আটলান্টিকের উভয় পাশেই শেয়ারবাজারে দরপতন দেখা যায়। ইউরোপের প্রধান শেয়ারবাজারগুলো টানা দ্বিতীয় দিনের মতো কমেছে।
আমেরিকার ডাও জোন্স সূচক ১ দশমিক ৭ শতাংশের বেশি, এসঅ্যান্ডপি ৫০০ দুই শতাংশের বেশি এবং নাসদাক সূচক প্রায় ২ দশমিক ৪ শতাংশ কমে বন্ধ হয়।
এদিকে, আমেরিকা–ইউরোপ উত্তেজনার প্রভাবে বুধবার এশিয়া–প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের বাজারে মিশ্র চিত্র দেখা গেছে। জাপান ও হংকংয়ের সূচক কিছুটা কমলেও চীন ও হংকংয়ের কয়েকটি শেয়ারে সামান্য ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা গেছে।
অনিশ্চয়তার মধ্যে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে পরিচিত মূল্যবান ধাতুর দাম বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো প্রতি আউন্স সোনার দাম ৪ হাজার ৮০০ ডলার ছাড়িয়েছে।
মুদ্রাবাজারে মার্কিন ডলার প্রধান মুদ্রাগুলোর বিপরীতে মোটামুটি স্থিতিশীল থাকলেও আগের রাতে এর মান ০ দশমিক ৫ শতাংশ কমেছে, যা ডিসেম্বরের শুরু থেকে এক দিনের মধ্যে সবচেয়ে বড় পতন।
উল্লেখ্য, ট্রাম্পের স্কটল্যান্ডের টার্নবেরি গলফ কোর্সে গত জুলাইয়ে হওয়া সমঝোতার পর ইইউ ও আমেরিকার মধ্যে বাণিজ্য উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হয়েছিল। ওই চুক্তি অনুযায়ী ইউরোপীয় পণ্যের ওপর মার্কিন শুল্ক ১৫ শতাংশে নামিয়ে আনার কথা ছিল, যা এর আগে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর হুমকি দেওয়া হয়েছিল।
বিনিময়ে ইউরোপ আমেরিকা বিনিয়োগ ও কিছু সংস্কারে সম্মত হয়।তবে চুক্তিটি কার্যকর করতে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের অনুমোদন প্রয়োজন। গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ট্রাম্পের নতুন শুল্ক হুমকির পর ইউরোপীয় পার্লামেন্টের প্রভাবশালী জার্মান সদস্য মানফ্রেড ওয়েবার বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে চুক্তির অনুমোদন দেওয়া সম্ভব নয়।
আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কমিটির চেয়ারম্যান বার্ন্ড লাঙ্গে জানান, গ্রিনল্যান্ড নিয়ে হুমকির কারণে চুক্তি স্থগিত করা ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই। তার মতে, একটি ইইউ সদস্য রাষ্ট্রের ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্বকে হুমকির মুখে ফেলে এবং শুল্ককে চাপ প্রয়োগের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে আমেরিকা ইইউ–আমেরিকা বাণিজ্য সম্পর্কের স্থিতিশীলতা নষ্ট করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত ইইউর পক্ষ থেকে পাল্টা শুল্ক আরোপের পথও খুলে দিতে পারে। এর আগে আমেরিকার ‘লিবারেশন ডে’ শুল্কের প্রতিক্রিয়ায় প্রায় ৯৩ বিলিয়ন ইউরো মূল্যের মার্কিন পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা করেছিল ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যা পরে সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়।
সেই ছাড়ের মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি। চুক্তি অনুমোদন না হলে ৭ ফেব্রুয়ারি থেকেই নতুন শুল্ক কার্যকর হতে পারে।
সুত্র: বিবিসি
ইউডি/এআর

