ভূমি ও কৃষিজমির অপব্যবহারের সর্বোচ্চ শাস্তি ৩ বছরের জেল

ভূমি ও কৃষিজমির অপব্যবহারের সর্বোচ্চ শাস্তি ৩ বছরের জেল

উত্তরদক্ষিণ। বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারি , ২০২৬, আপডেট ১২:৪৭

ভূমি ও কৃষিজমি অপব্যবহারের সর্বোচ্চ শাস্তি তিন বছরের জেল বা ১০ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রেখে ‘ভূমি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও কৃষিভূমি সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৬’ জারি করা হয়েছে।

গত ১৯ জানুয়ারি রাষ্ট্রপতি এ অধ্যাদেশ জারি করেছেন। আইন মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগ থেকে অধ্যাদেশের গেজেট জারি করা হয়েছে। রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলায় এ অধ্যাদেশ প্রযোজ্য হবে না।

যে অপরাধে যে শাস্তি
অধ্যাদেশে বলা হয়, অনুমোদন ছাড়া কোনো ভূমির জোন পরিবর্তন করলে সর্বোচ্চ ছয় মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড পেতে হবে।

অনুমোদন ছাড়া কৃষিভূমি অকৃষি কাজে ব্যবহার করলে সর্বোচ্চ এক বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড, বা উভয় দণ্ড দেওয়া যাবে। এছাড়া কৃষিভূমি, জলাধার বা জলাভূমিতে বাণিজ্যিক, আবাসন, রিসোর্ট, শিল্পপ্রতিষ্ঠান, কারখানা বা অনুরূপ স্থাপনা কিংবা অবকাঠামো নির্মাণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ দুই বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ চার লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

ইটভাটায় বা অন্য কোনো কাজে ব্যবহারের জন্য কৃষিভূমির উপরিভাগের মাটি (টপ সয়েল), পাহাড় ও টিলা অথবা জলাধারের পাড়ের মাটি ক্রয়, বিক্রয়, অপসারণ, পরিবহন বা ব্যবহার করলে সর্বোচ্চ দুই বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড দেওয়া যাবে।

বিশেষ কৃষি অঞ্চলের ভূমির ক্ষতিসাধন, ভূমিরূপ পরিবর্তন বা কৃষি ছাড়া অন্য কোনো কাজে ব্যবহার করলে সর্বোচ্চ তিন বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের পাশাপাশি অতিরিক্ত ক্ষতিপূরণ ও সংশোধনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া যাবে বলে অধ্যাদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।

জলাধার, জলাভূমি, পাহাড় ও টিলা এবং বন ও বনভূমির ক্ষতিসাধন ও ভূমিরূপ পরিবর্তনের অপরাধগুলোকে অ-আমলযোগ্য, জামিনযোগ্য ও অ-আপসযোগ্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে প্রচলিত আইনের একই প্রকৃতির অপরাধের জন্য নির্ধারিত দণ্ডের বিধান অনুসরণ করা হবে। পাশাপাশি অতিরিক্তভাবে ক্ষতিপূরণ আদায়, ভূমির প্রকৃতি পুনঃস্থাপন, অবৈধভাবে ভরাট করা মাটি ও স্থাপনা অপসারণ এবং বৃক্ষরোপণসহ প্রয়োজনীয় সংশোধনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে অধ্যাদেশে।

ইউডি/কেএস

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading