নিরাপত্তা ঝুঁকিতে জামায়াত আমির
উত্তরদক্ষিণ। শনিবার, ২৪ জানুয়ারি , ২০২৬, আপডেট ১:২৩
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানকে ঘিরে বহুমাত্রিক নিরাপত্তা ঝুঁকির আশঙ্কা প্রকাশ করেছে সরকারের একটি গোয়েন্দা সংস্থা। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এক গোপন প্রতিবেদনে তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা জোরদারে সাত দফা সুপারিশ করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।
গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের পর পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতায় ডা. শফিকুর রহমান একজন প্রভাবশালী জাতীয় রাজনৈতিক নেতা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন।
এই অবস্থান তাকে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক—উভয় পর্যায়েই সম্ভাব্য হুমকির মুখে ফেলেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ঝুঁকিপ্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, আসন্ন ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ডা. শফিকুর রহমানের ওপর অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়তে পারে। ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের কিছু আন্ডারগ্রাউন্ড ক্যাডার ‘গুপ্ত ঘাতক’ ব্যবহার করে তার বাসভবন বা চলাচলের পথে হামলার পরিকল্পনা করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
বিশেষ করে তিনি অতীতে একাধিকবার নিজ বাসভবন থেকে গ্রেপ্তার হওয়ায় বাসস্থানটি জনসম্মুখে পরিচিত হয়ে গেছে, যা নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়িয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়।ঢাকার মগবাজারে অবস্থিত জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়কেও ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
ভবন সংস্কারে বিদেশি অর্থায়নের অভিযোগ ওঠায় আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা সংস্থার নজরদারির সম্ভাবনার কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।টার্গেট কিলিংয়ের আশঙ্কাগোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের উদাহরণ তুলে ধরে বলা হয়েছে, ডা. শফিকুর রহমানের ক্ষেত্রেও একই ধরনের ‘টার্গেট কিলিং’, মোটরসাইকেল আরোহী হামলা বা স্নাইপার অ্যাটাকের ঝুঁকি উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
খোলা মাঠে জনসভা, বড় সমাবেশ কিংবা নির্বাচনী প্রচারণার সময় আত্মঘাতী হামলা বা পরিকল্পিত বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির মাধ্যমে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কার কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা ও আন্তর্জাতিক মাত্রাপ্রতিবেদনে বলা হয়, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর রাজনৈতিক কৃতিত্ব কে নেবে—এই প্রশ্নে বিএনপি, জামায়াত ও নবগঠিত ন্যাশনাল সিটিজেনস পার্টি (এনসিপি)-এর মধ্যে তীব্র রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা তৈরি হয়েছে।
এই ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রেক্ষাপটে ডা. শফিকুর রহমানকে শারীরিকভাবে রাজনৈতিক মাঠ থেকে সরিয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্রের আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ভারত, ইসরাইল, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের গোয়েন্দা সংস্থার সম্ভাব্য নজরদারির কথাও প্রতিবেদনে এসেছে। বিশেষ করে জামায়াতের ফিলিস্তিনপন্থী অবস্থান, তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে রাজনৈতিক যোগাযোগ এবং ভারতের নিরাপত্তা উদ্বেগকে ঝুঁকির উপাদান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
গোয়েন্দা সংস্থার ৭ দফা সুপারিশডা. শফিকুর রহমানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিবেদনে যেসব সুপারিশ করা হয়েছে, সেগুলো হলো—
ব্যক্তিগত গানম্যান ও চলাচলের সময় পুলিশ এস্কর্টবাসভবন ও কার্যালয়ে পোশাকি পুলিশ মোতায়েনবাসস্থান, কার্যালয় ও জনসভাস্থলে নিবিড় গোয়েন্দা নজরদারিব্যক্তিগত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পূর্ণাঙ্গ ব্যাকগ্রাউন্ড যাচাইজনসভা ও কার্যালয়ে আর্চওয়ে, মেটাল ডিটেক্টর ও ব্যাগেজ স্ক্যানার স্থাপনদলের স্বেচ্ছাসেবকদের নিরাপত্তা বিষয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণবাসভবন ও কার্যালয়ে সিসিটিভি, প্রবেশ-প্রস্থান নিয়ন্ত্রণ ও প্রয়োজন অনুযায়ী নিরাপত্তা ব্যারিয়ার স্থাপনএ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
ইউডি/এআর

