যুবকদের হাতে বেকার ভাতা দিয়ে লজ্জিত না করে, সম্মানের কাজ দিতে চাই: জামায়াত আমির
উত্তরদক্ষিণ। মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারি, ২০২৬, আপডেট ১২:২০
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আমরা যুবকদের হাতে বেকার ভাতা তুলে দিয়ে তাদের লজ্জিত করতে চাই না। আমরা তাদের দক্ষ জনবল হিসেবে গড়ে তুলে সম্মানের কাজ দিতে চাই।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণার অংশ হিসেবে মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সকালে যশোর ঈদগাহ ময়দানে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘দেশের মানুষ কোনো বিশেষ পরিবার বা দলের রাজনীতি চায় না, তারা চায় জনগণের রাজনীতি। আসন্ন গণভোটই ঠিক করবে দেশ আজাদির পথে যাবে নাকি গোলামির পথে। গণভোটে বিজয়ী হলে দেশে আর কোনো স্বৈরাচারী শাসন, দলীয় চাঁদাবাজি বা জনসম্পদে হাত দেয়ার সুযোগ থাকবে না।’
জেলা জামায়াতের আমির ও যশোর-৪ আসনের প্রার্থী গোলাম রসুলের সভাপতিত্বে সমাবেশে জামায়াতের আমির নারীদের সম্মান ও নিরাপত্তার বিষয়ে কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করে বলেন, ‘কিছু সংগঠন একদিকে ফ্যামিলি কার্ড দেয়ার কথা বলে, অন্যদিকে আমাদের মা-বোনদের গায়ে হাত তোলে। যারা এখনই মা-বোনদের বেইজ্জতি করে, তাদের হাতে দেশ নিরাপদ নয়।’
তিনি ঘোষণা করেন, ‘জামায়াত ক্ষমতায় গেলে শিক্ষা, কর্মস্থল এবং যাতায়াতে নারীদের জন্য শতভাগ নিরাপত্তা ও পৃথক উন্নত ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে। সব ধর্মের মানুষ যেন তাদের ধর্মীয় পোশাক ও রীতি পালন করতে পারে, সেই স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হবে।’
ডা. শফিকুর রহমান যুবসমাজের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আমরা যুবকদের হাতে বেকার ভাতা তুলে দিয়ে তাদের লজ্জিত করতে চাই না। আমরা তাদের দক্ষ জনবল হিসেবে গড়ে তুলে সম্মানের কাজ দিতে চাই। বেকার ভাতা মানে বেকারত্বকে উৎসাহিত করা, যা আমরা করব না।’
দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও সিন্ডিকেট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেটের কারণে মানুষ আজ পিষ্ট। আমরা এই সিন্ডিকেটের হাত গুঁড়িয়ে দেব এবং ব্যবসায়ীদের চাঁদার হাত থেকে মুক্তি দেব।’
এমনকি যারা বর্তমানে ভুল পথে বা চাঁদাবাজিতে লিপ্ত, তাদের সঠিক পথে ফিরিয়ে এনে কর্মসংস্থানের মাধ্যমে পুনর্বাসিত করার আশ্বাস দেন জামায়াত আমির।
২০০১-২০০৬ মেয়াদে জামায়াতের মন্ত্রীদের সততার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের দুজন মন্ত্রী তিনটি মন্ত্রণালয় চালিয়েছেন। তাদের আঙ্গুলে কোনো দুর্নীতির ময়লা লাগেনি। তারা প্রমাণ করেছেন জামায়াত শুধু সৎ নয়, অত্যন্ত স্মার্ট ও দক্ষ।
যশোরে নির্বাচনী প্রচারণায় বাধার অভিযোগ তুলে তিনি প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনকে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘জামায়াত কোনো প্রতিশোধের রাজনীতিতে বিশ্বাসী নয়।’
এ সময় তিনি ভুয়া ও গায়েবি মামলার মাধ্যমে কাউকে হয়রানি না করার জন্য দলীয় নেতাকর্মীদের কঠোর নির্দেশ দেন।
পরিশেষে, আগামী ১২ তারিখের নির্বাচনে দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যেই তরুণরা রক্ত দিয়ে নতুন বাংলাদেশ এনেছে, তারাই পরিবর্তনের বাংলাদেশ গড়ে তুলবে।’
এ সময় তিনি আসন্ন নির্বাচনে ১৮ কোটি মানুষের বিজয় নিশ্চিত করতে এবং জুলাই বিপ্লবের শহীদদের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে ভোট দেয়ার আহ্বান জানান।
বক্তব্য শেষে আমীরে জামায়াত যশোরের ৬টি আসনের প্রার্থীদের হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতিকৃতি তুলে দেন। সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য মোবারক হোসেন, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম সাদ্দামসহ যশোরের ৬টি আসনের প্রার্থীরা।
ইউডি/রেজা

