ইরান একসঙ্গে শত শত ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়লে কি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ টিকবে?

ইরান একসঙ্গে শত শত ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়লে কি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ টিকবে?

উত্তরদক্ষিণ। মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারি, ২০২৬, আপডেট ১৭:১৫

চলমান উত্তেজনার মধ্যেই ইরানের কাছে বিমানবাহী রণতরী ‍মোতায়েন করেছে আমেরিকা। এ ঘটনার পর দেশ দু’টির মধ্যে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা করছেন অনেকে। কিন্তু ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতার সামনে আমেরিকা তার যুদ্ধজাহাজকে রক্ষা করতে পারবে কি না, সেটিও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে।

গণমাধ্যমের প্রতিবেদন মতে, মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে বড় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার রয়েছে ইরানের কাছে, যা সংখ্যা আনুমানিক তিন হাজারের বেশি। এর মধ্যে নিখুঁতভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম ফাতেহ–১১০ এর মতো গাইডেড ক্ষেপণাস্ত্রও রয়েছে।

তেহরানের কৌশল নির্ভর করে আমেরিকার নৌবাহিনীর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সক্ষমতার চেয়ে বেশি সংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্র একযোগে নিক্ষেপের ওপর। শত সস্তা ড্রোন ও রকেট একসঙ্গে ছুড়ে ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপের ট্র্যাকিং রাডারকে বিপর্যস্ত করতে চায় ইরান।

শক্তিশালী হলেও, বিমানবাহী রণতরীকে সুরক্ষা দেয়া প্রতিটি আর্লেই বার্ক-শ্রেণির ডেস্ট্রয়ারে সাধারণত ৯০ থেকে ৯৬টি ভার্টিক্যাল লঞ্চ সেল থাকে। তবে ইরানের ছুড়ে দেয়া ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যা যদি এই প্রতিরক্ষামূলক ক্ষেপণাস্ত্রের সীমা ছাড়িয়ে যায়, তবে জাহাজগুলোর গোলাবারুদ কার্যত শেষ হয়ে যেতে পারে।

যুদ্ধজাহাজের প্রধান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হলো এজিস কমব্যাট সিস্টেম, যা শক্তিশালী এসপিওয়াই–১ রাডারের মাধ্যমে একসঙ্গে ১০০টির বেশি লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করতে পারে। এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সবচেয়ে বিপজ্জনক হুমকিগুলোকে অগ্রাধিকার দেয় এবং মাঝ আকাশে তাদের ধ্বংস করার জন্য ইন্টারসেপ্টরগুলিকে নির্দেশ দেয়।

হুমকি যতটা সম্ভব দূরে থাকতেই ধ্বংস করার চেষ্টা করে মার্কিন নৌবাহিনী। এ কাজে ব্যবহৃত হয় স্ট্যান্ডার্ড মিসাইল–৬ (এসএম–৬), যা প্রায় ২৪০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। এতে করে ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যা বিমানবাহী রণতরীর কাছাকাছি পৌঁছানোর আগেই অনেকটা কমে যায়।

যেসব হুমকি বাইরের প্রতিরক্ষা স্তর ভেদ করে ভেতরে ঢুকে পড়ে, সেগুলোকে মোকাবিলায় ব্যবহৃত হয় ইভলভড সিস্প্যারো মিসাইল (ইএসএসএম)। আকারে ছোট হওয়ায় একটি লঞ্চ সেলেই চারটি ক্ষেপণাস্ত্র বহন করা যায়, যা নিকটতম লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধে তার ফায়ারপাওয়ার বা অগ্নিশক্তি চারগুণ বাড়িয়ে দেয়।।

এরপরও সব প্রতিরক্ষা ভেদ করে কোনো ক্ষেপণাস্ত্র এগিয়ে এলে শেষ মুহূর্তে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সক্রিয় হয় ফ্যালানক্স ক্লোজ-ইন ওয়েপন সিস্টেম (সিআইডব্লিউএস)। রাডার-নিয়ন্ত্রিত এই গ্যাটলিং গান প্রতি মিনিটে প্রায় ৪,৫০০ রাউন্ড গুলি ছুড়ে আঘাতের ঠিক কয়েক সেকেন্ড আগে ওয়ারহেডকে ধ্বংস করে দিতে পারে।

সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি মার্কিন জাহাজগুলো শত্রুর নির্দেশনা-ব্যবস্থাকে বিভ্রান্ত করতে এসএলকিউ–৩২ ইলেকট্রনিক যুদ্ধব্যবস্থাও ব্যবহার করে। এর মাধ্যমে গুলি না ছুড়েই আসন্ন ক্ষেপণাস্ত্রকে জাহাজ থেকে দূরে টেনে নেয়া সম্ভব।

এছাড়াও পারস্য উপসাগরের সবচেয়ে সংকীর্ণ অংশের প্রস্থ মাত্র ৩৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার। এই নিকটবর্তী অবস্থানের কারণে মার্কিন কমান্ডারদের হাতে প্রতিক্রিয়া জানানোর সময় খুবই কম থাকে। কারণ স্থলভিত্তিক জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র মাত্র কয়েক মিনিটেই নৌবহরে আঘাত হানতে পারে।

সূত্র: উইওন

ইউডি/রেজা

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading