সিন্ডিকেটমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার ঘোষণা জামায়াত আমিরের
উত্তরদক্ষিণ। মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারি, ২০২৬, আপডেট ১৮:৫০
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশে সিন্ডিকেটই এখন সবচেয়ে বড় শত্রু। এই সিন্ডিকেট গোটা বাংলাদেশকে অবশ করে দিয়েছে। জামায়াত ক্ষমতায় এলে এই সিন্ডিকেটের হাত গুঁড়িয়ে াদদেওয়া হবে এবং একটি সিন্ডিকেটমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সকালে যশোর ঈদগাহ ময়দানে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।ডা. শফিকুর রহমান বলেন, চাঁদাবাজি করে দেশ চালানো যাবে না।
চাঁদাবাজদের শাস্তি দিয়ে দূরে ঠেলে দেব না। তাদের বুকে টেনে নিয়ে হাতে কাজ তুলে দেব। যারা তাদের বিপথে নিয়েছে, তাদেরও সুপথে ফিরিয়ে আনব।
সুপথে এসে সবাই রাজনীতি করুক।বিএনপিকে ইঙ্গিত করে কঠোর মন্তব্যবিএনপির দিকে ইঙ্গিত করে জামায়াত আমির বলেন, ‘এক দিকে ফ্যামিলি কার্ড, অন্য দিকে নারীদের গায়ে হাত—এই দুটো একসঙ্গে চলতে পারে না।
এর মানে তারা জিতলে কেউ নিরাপদ থাকবে না।’তিনি বলেন, ‘যে দল নিজের কর্মীদের শৃঙ্খলায় রাখতে পারে না, কর্মীদের জীবনের নিরাপত্তা দিতে পারে না—সে দল যত বড়ই হোক, তাদের হাতে বাংলাদেশ নিরাপদ নয়। দেশ গড়ার আগে নিজের দলকে গুছান।
এতে দেশও লাভবান হবে, আপনারাও হবেন। প্রয়োজনে আমরা সহযোগিতাও করব। কিন্তু আল্লাহর ওয়াস্তে শৃঙ্খলায় আসুন।’গণভোট নিয়ে স্পষ্ট অবস্থানগণভোট প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, বাইরে যত কথাই বলা হোক, ভেতরে ভেতরে একটি দল গণভোট নিয়ে অস্বস্তিতে রয়েছে। ‘কারণ গণভোট হলে ফ্যাসিবাদ কায়েম হবে না। গণভোট হলে কারও সম্পদ লুট করা যাবে না।
দলীয় চাঁদাবাজির রমরমা ব্যবসা বন্ধ হবে।’তিনি আরও বলেন, ‘১৮ কোটি মানুষ গণভোট চায়। ১৮ কোটি মানুষ পরিবর্তন চায়। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ মানেই আজাদী, আর ‘না’ মানে গোলামী।
১২ তারিখ প্রথম ভোটটাই পড়বে গণভোটের হ্যাঁ ভোটের পক্ষে।’মামলা বাণিজ্যের নিন্দাজুলাই আন্দোলনের পর মামলা বাণিজ্য করে মানুষকে হয়রানি করার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ‘আমরা হাজার হাজার মামলা করিনি।
আমাদের মামলার আসামি সর্বোচ্চ ৯৮ জন। অথচ অনেকে হাজার হাজার মামলা দিয়ে মানুষকে নির্যাতন করেছে। এটি বিচারকে হত্যা করার শামিল।
আমরা এ ধরনের মামলা বাণিজ্য করতেও চাই না, দেখতেও চাই না।’তিনি এসব থেকে মুক্তির জন্য দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।যশোরকে সিটি করপোরেশন করার প্রতিশ্রুতিযশোরবাসীর বিভিন্ন দাবি প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, ‘আমাদের প্রতীক দাঁড়িপাল্লা।
পাল্লার মাপে কোনো কমবেশি হবে না। যার যা প্রাপ্য, তা বুঝে দেওয়া হবে।’তিনি ক্ষমতায় গেলে যশোরকে সিটি করপোরেশন ঘোষণা করার প্রতিশ্রুতিও দেন।জনসভায় উপস্থিত নেতারাযশোর জেলা জামায়াতের আমির গোলাম রসুলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরোয়ার ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম।এ ছাড়া বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের একাধিক নেতা এবং বিভিন্ন আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থীরা।
ইউডি/এআর

