সুন্দরবনের শুঁটকি পল্লীতে ব্যস্ততা, ৮ কোটি টাকা রাজস্বের লক্ষ্যমাত্রা

সুন্দরবনের শুঁটকি পল্লীতে ব্যস্ততা, ৮ কোটি টাকা রাজস্বের লক্ষ্যমাত্রা

উত্তরদক্ষিণ। মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারি, ২০২৬, আপডেট ১৮:৫৫

সুন্দরবনের গহীনে দুবলার চরে জমে উঠেছে শুঁটকি মৌসুমের কর্মযজ্ঞ। পাঁচ মাসের জন্য সমুদ্র পাড়ি দিয়ে হাজারো জেলে এখন জীবিকার তাগিদে সেখানে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দেখা যায়, জেলেদের মনে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, রোগ-শোক, সুপেয় পানি সংকট আর দস্যু আতঙ্ক থাকলেও সমুদ্রের মাছ আহরণকে ঘিরে তারা নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছেন।

ভোরের আলো ফুটতেই গভীর সমুদ্র থেকে মাছ ভর্তি ট্রলার ভিড়ছে দুবলার চরে। আহরিত মাছ ট্রলার থেকে নামিয়ে ঝাঁকা ভরে চরে নিয়ে আসছেন জেলেরা। বনের গহীনে গড়ে উঠেছে অস্থায়ী জনপদ, যেখানে জীবিকার প্রয়োজনে এসেছেন ১০ হাজারেরও বেশি জেলে। সেখানে এখন চলছে শুঁটকি তৈরির মহাকর্মযজ্ঞ।

চরের প্রতিটি প্রান্তে এখন জেলেদের ব্যস্ততা। দিন-রাত কাজ চলছে প্রতিটি সাবাড়ে। কেউ মাছ কাটছেন, কেউ পরিষ্কার করছেন, আবার কেউ সাজিয়ে রাখছেন বাঁশের মাচা বা পাটিতে। এখানকার লইট্টা, ফ্যাইসা, খলিসা, ছুরি, বৈরাগী, চিংড়ি, রূপচাঁদা ও পোঁয়াসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ শুঁটকি হয়ে চলে যায় চট্টগ্রাম, সৈয়দপুর, রংপুর ও ঢাকাসহ দেশের বড় বড় বাণিজ্যকেন্দ্রগুলোতে।

তবে জেলেদের মনে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, রোগ-শোক, সুপেয় পানি সংকট, দাদনের বেড়াজাল, শুঁটকির কম দাম আর দস্যু আতঙ্ক বিরাজ করছে। তারা এসব সংকট সমাধানে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানিয়েছেন।

জেলেদের সংকট সমাধানের আশ্বাস দিয়ে খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক ইমরান আহমেদ বলেন, ‘জেলেদের পানি ও চিকিৎসাসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রকল্প নেয়া হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের ৫টি চর নিয়ে গঠিত শুঁটকি পল্লী কেন্দ্র দুবলা। প্রতি বছর নভেম্বর থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত কর্মযজ্ঞ চলে এই পল্লীতে। এখান থেকে গত বছর সরকার সাড়ে ৬ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করেছে। চলতি মৌসুমে এই লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৮ কোটি টাকা।

ইউডি/রেজা

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading