শরীয়তপুরে বিএনপি–জামায়াত সংঘর্ষ, আহত ১২
উত্তরদক্ষিণ। মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারি, ২০২৬, আপডেট ২০:১০
শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলায় ফেসবুকে দেওয়া একটি স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুরে উপজেলার ভোজেশ্বর বাজারের পাইলট মোড় এলাকায় এ সংঘর্ষ হয়।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, স্থানীয় এক নারী ইউপি সদস্য ও বিএনপির নেত্রী ‘না’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছেন—এমন অভিযোগ তুলে জামায়াতের এক সমর্থক ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন।
ওই স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।এর জেরে মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুরে বিএনপির নেতাকর্মীরা পাইলট মোড় এলাকায় ভোটের প্রচারণায় গেলে জামায়াত নেতাদের সঙ্গে তাদের কথা-কাটাকাটি শুরু হয়।
একপর্যায়ে ভোজেশ্বর ইউনিয়ন জামায়াতের আমির কাহেদ নজরুল ইসলাম ও জপসা ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সবুজ মাদবরের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। বিষয়টি দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে দুই পক্ষের কর্মী-সমর্থকেরা সেখানে জড়ো হন এবং পরিস্থিতি সংঘর্ষে রূপ নেয়।
সংঘর্ষের সময় লাঠিসোঁটা নিয়ে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়। এতে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে শরীয়তপুর জেলা সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ঘটনার বিষয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করে ভোজেশ্বর ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মিজান শিকদার বলেন, প্রশাসনের উপস্থিতিতে আলোচনার সময় হঠাৎ মোটরসাইকেলে করে জামায়াত ও শিবিরের কর্মীরা এসে তাদের ওপর হামলা চালায়।
তিনি ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।অন্যদিকে জামায়াত কর্মী মিজানুর রহমান বলেন, প্রচারণা শেষে তারা জামায়াত নেতা কাহেদ নজরুল ইসলামের দোকানে অবস্থান করছিলেন। এ সময় বিএনপির লোকজন এসে হুমকি দেয়।
তিনি ভিডিও ধারণ করতে গেলে তার ওপর হামলা চালানো হয়। তিনি এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার চান।নড়িয়া থানার ওসি মোহাম্মদ বাহার মিয়া জানান, ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আহতদের হাসপাতালে পাঠানো হয়। বিএনপির পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। আইনি কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।
ইউডি/এআর

