চট্টগ্রাম বন্দরের ধর্মঘট: বাণিজ্য স্থবির

চট্টগ্রাম বন্দরের ধর্মঘট: বাণিজ্য স্থবির

উত্তরদক্ষিণ। শনিবার, ৩১ জানুয়ারি, ২০২৬, আপডেট ১৫:১৫

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের কড়া হুঁশিয়ারি উপেক্ষা করে নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) দুবাইভিত্তিক অপারেটর ‘ডিপি ওয়ার্ল্ড’-কে ইজারা দেয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সর্বাত্মক ধর্মঘট পালন করছেন বন্দর শ্রমিক-কর্মচারীরা।

শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সকাল থেকে শুরু হওয়া এই ধর্মঘটে কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে দেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রায় ৯০ শতাংশ পরিচালনাকারী এই সমুদ্রবন্দর।

দেখা গেছে, শনিবার সকাল থেকেই চট্টগ্রাম বন্দরের কোনো গেটে পণ্যবাহী ট্রাক কিংবা কাভার্ডভ্যান ছিল না। পুরো এলাকা ছিল অনেকটাই শুনশান। পণ্য খালাস বন্ধ থাকায় বন্দরের ভেতরে কোনো গাড়ি প্রবেশ করেনি কিংবা বেরও হয়নি।

শ্রমিক নেতারা জানান, বন্দরের ভেতরের অপারেশনাল কার্যক্রমও পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। শ্রমিক-কর্মচারীরা সকালে কর্মস্থলে এসে হাজিরা খাতায় সই করলেও কোনো ধরনের কাজে অংশ নেননি। এতে কন্টেইনার হ্যান্ডলিংসহ সব কাজ বন্ধ হয়ে যায়। পরে সকাল ১১টার দিকে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন বন্দর এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল বের করে। এ সময় এনসিটি বিদেশিদের ইজারা দেয়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরকারকে সরে আসার আহ্বান জানান আন্দোলনকারীরা।

আন্দোলনরত এক শ্রমিক নেতা বলেন, ‘কর্মচারীরা তাদের ডিউটি পয়েন্টে গিয়ে হাজিরা দিয়েছে, কিন্তু কেউ কাজ করবে না। আমাদের আন্দোলনটা এটাই ছিল এবং সেটাই আমরা করছি। বাংলাদেশের অর্থনীতির কথা চিন্তা করে সরকারকে এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার অনুরোধ জানাচ্ছি। অন্যথায় আমরা আরও কঠোর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হবো।’

আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করে বলেন, ‘বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বে-টার্মিনাল বা লালদিয়ার চরে কাজ দেয়া নিয়ে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু আমাদের নিজস্ব টাকায় নির্মিত এবং শতভাগ লাভজনক এনসিটি, যেখানে নতুন করে এক টাকাও বিনিয়োগের প্রয়োজন নেই, সেটি কেন আমরা বিদেশিদের হাতে তুলে দেব?’ ষড়যন্ত্রকারীরা চট্টগ্রাম বন্দরকে বিদেশিদের হাতে তুলে দিয়ে দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংস করে দিতে চায় বলেও মন্তব্য করেন তারা।

এদিকে, সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আন্দোলন এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে কর্মচারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সকাল থেকেই বন্দর ভবনের সামনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে দেখা গেছে।

তবে শ্রমিক নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, সরকার এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে না এলে বহির্নোঙরেও পণ্য খালাস বন্ধ করে দেয়া হবে। পূর্বঘোষিত দুই দিনের ধর্মঘটের অংশ হিসেবে রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রমের পাশাপাশি দাফতরিক কাজও বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছেন শ্রমিক-কর্মচারীরা।

ইউডি/রেজা

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading