ফেডারেল রিজার্ভের পরবর্তী প্রধান হিসেবে ট্রাম্পের মনোনয়ন পেলেন কেভিন ওয়ার্শ

ফেডারেল রিজার্ভের পরবর্তী প্রধান হিসেবে ট্রাম্পের মনোনয়ন পেলেন কেভিন ওয়ার্শ

উত্তরদক্ষিণ। শনিবার, ৩১ জানুয়ারি, ২০২৬, আপডেট ১৫:৫৫

ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের পরবর্তী প্রধান হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির সাবেক কর্মকর্তা কেভিন ওয়ার্শকে মনোনয়ন দিতে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।

ব্যাংকটির বর্তমান প্রধান জেরোম পাওয়েলের মেয়াদ এ বছরের মে মাসে শেষ হতে যাচ্ছে, সেনেটের অনুমোদন পেলে ওয়ার্শ তার স্থলাভিষিক্ত হবেন।

সুদের হার দ্রুত না কমানোয় পাওয়েলের বিরুদ্ধে আগে অনেকবারই তোপ দেগেছেন ট্রাম্প, অথচ তার হাত ধরেই পাওয়েল ২০১৭ সালে প্রভাবশালী এ ব্যাংকটির প্রধান পদে আসেন।

ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদেই ওয়ার্শকে ফেডারেল রিজার্ভের চেয়ার পদে নিয়োগের কথা ভেবেছিলেন, যদিও শেষ পর্যন্ত পাওয়েলেই ভরসা রাখেন। ওয়ার্শের শ্বশুর রোনাল্ড লডার, প্রসাধনী কোম্পানি এস্টি লডারের বিপুল সম্পদের উত্তরাধিকারী। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ট্রাম্পকে অর্থ দিয়ে যাচ্ছেন এবং তার খুব ঘনিষ্ঠ সহচরও, বলছে এনডিটিভি।

রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট চান ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার কমে ১ শতাংশের মতো হোক, কিন্তু এখন রয়েছে ৩ দশমিক ৬ শতাংশের কাছাকাছি। ওয়ার্শ নিজেও একসময় সুদের হার কমানোর বিপক্ষে ছিলেন। সেসময় তার যুক্তি ছিল, সুদের হার বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতিকে নিয়ন্ত্রণে রাখা।

তবে সম্প্রতি তাকে তার পুরনো অবস্থান থেকে সরে আসতে দেখা গেছে। এখন তিনি সুদের হার কমানোর পক্ষেই বলছেন। তিনি ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে ‘শাসন বদলেরও’ ডাক দিয়েছিলেন। জলবায়ু পরিবর্তন, বৈচিত্র্য, সমতা ও অন্তর্ভুক্তির মতো বিষয়ে জড়িয়ে পড়ায় পাওয়েলের কঠোর সমালোচনাও করেছেন তিনি। বলেছেন, এসব বিষয় ফেডারেল রিজার্ভের এখতিয়ারের বাইরে।

ওয়ার্শকে ফেডের চেয়ার পদে বসাতে পারলে ব্যাংকটির সঙ্গে হোয়াইট হাউসের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হবে বলেই মনে হচ্ছে, সেক্ষেত্রে সংস্থাটির ওপর ট্রাম্প আরও কর্তৃত্ব খাটাতে পারবেন।

অগাস্টে তিনি ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা কব্জায় নিতে ৭ গভর্নরের একজন লিসা কুককে বরখাস্তের চেষ্টা করেন। তিনি ওই পর্ষদে তিনজনকে নিয়োগ দিয়েছিলেন, এর মধ্যে দুজন নিয়োগ পেয়েছিলেন তার প্রথম মেয়াদে। নিজের চাকরি টিকিয়ে রাখতে কুক মামলা করে দেন, সেটি নিষ্পত্তি হওয়ার আগ পর্যন্ত তাকে চাকরিতে রাখতে সুপ্রিম কোর্টেরও সায় আছে বলেই মনে হচ্ছে।

ফেডের প্রধান পদে ট্রাম্পের মনোনয়নে মার্কিন কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সেনেট সায় দিলে সুদের হার আরও কমানোর চ্যালেঞ্জে পড়বেন ওয়ার্শ। তিনি ব্যাংকের সুদের হার নির্ধারণ কমিটির ১৯ সদস্যের একজন হবেন, যে কমিটির ১২ সদস্যকে প্রত্যেকবার সুদের হার ঠিক করা নিয়ে ভোট দিতে হয়।

কমিটিটি এখনই দ্বিধাবিভক্ত। এর অনেক সদস্যই ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ থেকে সুদের হার অপরিবর্তিত রাখার পক্ষে। বিপক্ষে যারা আছেন তারা চান সুদের হার কমিয়ে চাকরি বাড়িয়ে অর্থনীতিকে গতিশীল করা।

জুলাইয়ে সিএনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ওয়ার্শ বলেছিলেন, “ফেডের নীতি বহুদিন ধরে অকার্যকর হয়ে আছে। এখন যে সেন্ট্রাল ব্যাংকটি বসে সেটি ২০০৬ সালে আমি যে সেন্ট্রাল ব্যাংকে যোগ দিয়েছিলাম, তার চেয়ে অনেক আলাদা।”

২০২১-২২ সালে মূল্যস্ফীতি বাড়ার সুযোগ করে দিয়ে ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক ‘গত ৪৫ বছরের মধ্যে সামষ্টিক অর্থনীতিতে সবচেয়ে মারাত্মক ভুলটি করেছে, যা দেশকে বিভক্ত করেছে’, বলেছিলেন তিনি।

ইউডি/রেজা

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading