ইরান ও আমেরিকা উত্তেজনা: ট্রাম্পের সামরিক পরিকল্পনা

ইরান ও আমেরিকা উত্তেজনা: ট্রাম্পের সামরিক পরিকল্পনা

উত্তরদক্ষিণ। রবিবার, ০১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, আপডেট ১১:৫৮

ইরান ইস্যুতে ওয়াশিংটনের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়লেও হামলা সংক্রান্ত পরিকল্পনা মধ্যপ্রাচ্যের মিত্রদের থেকে গোপন রাখছেন বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।

ইরানের উদ্দেশে রণতরী পাঠিয়ে যুদ্ধের স্পষ্ট বার্তা দিয়েও বারবার সমঝোতার আশা দিচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্থানীয় সময় শনিবার (৩১ জানুয়ারি) ফক্স নিউজকে দেয়া সাক্ষাতকারে তিনি বলেন, খামেনি প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা চললেও, ভবিষ্যত এখনো অনিশ্চিত।

সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের পরিকল্পনা আঞ্চলিক মিত্রদের কাছ থেকেও গোপন করা হয়েছে বলে জানান ট্রাম্প। তিনি বলেন, নিরাপত্তার কারণে উপসাগরীয় মিত্রদের পরিকল্পনার কথা জানানো যাচ্ছে না।

এছাড়া তেহরান গুরুত্ব দিয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনা করছে বলে দাবি করেন ট্রাম্প। শনিবার এয়ার ফোর্স ওয়ানে ট্রাম্পের কাছে সাংবাদিকরা জানতে চান, ইরান নিয়ে তার সবশেষ চিন্তাভাবনা কী? শুরুতে কোনো জবাব না দিতে চাইলেও পরে তিনি বলেন, আমরা ওই অঞ্চলে ব্যাপক সামরিক সম্পদ জোরদার করেছি। আশা করি তারা (তেহরান) এমন বিষয় নিয়ে আলোচনা করবে যা গ্রহণযোগ্য।

এরমধ্যেই, ইসরাইলের আকাবা উপসাগরের তীরবর্তী দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দর শহর এইলাতে ভিড়েছে মার্কিন নৌবাহিনীর ডেস্ট্রয়ার। ইসরাইলি সেনাবাহিনীর জানায়, এটি পূর্বপরিকল্পিত পদক্ষেপ এবং যুক্তরাষ্ট্র–ইসরাইল চলমান সামরিক সহযোগিতার অংশ।

ট্রাম্পের বক্তব্যের বিপরীতে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন, কূটনীতি অগ্রাধিকার হলেও চাপের মুখে আলোচনায় বসবে না তেহরান।

মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির সঙ্গে ফোনালাপে পেজেশকিয়ান বলেন, যুদ্ধ ইরান, আমেরিকা কিংবা অঞ্চল কারও স্বার্থে নয়। পাশাপাশি এক জনসভায় ইরানের প্রেসিডেন্ট আবারও দেশজুড়ে সাম্প্রতিক বিক্ষোভের জন্য ট্রাম্প এবং নেতানিয়াহুকে দায়ী করেন।

তিনি বলেন, ট্রাম্প হোক, নেতানিয়াহু হোক, কিংবা ইউরোপীয়রা তারা সবাই উসকানি দিতে চেয়েছে, বিভাজন সৃষ্টি করেছে, অস্ত্র জুগিয়েছে। তারা এই স্রোতে বহু নিরীহ মানুষকে টেনে এনেছে, তাদের রাস্তায় নামিয়েছে এবং উসকে দিয়েছে। এই দেশকে টুকরো টুকরো করে জনগণের মধ্যে সংঘাত ও ঘৃণা ছড়িয়ে দেয়ার অপচেষ্টা করেছে।

ইরানের পরমাণু শক্তি সংস্থার প্রধান মোহাম্মদ এসলামি বলেছেন, কৌশলগত দিক থেকে ইরানের পারমাণবিক অস্ত্রের প্রয়োজন নেই। তার ভাষায়, ইরান বর্তমানে এমন সামরিক ও প্রতিরোধক্ষমতা অর্জন করেছে, যার মাধ্যমে দেশটি নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সক্ষম।

এদিকে ইরানের সেনাপ্রধান আমির হাতামি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, মার্কিন ঘাঁটি, জাহাজ ও মিত্রদের লক্ষ্য করে হামলার জবাব দেয়া হবে। চলমান উত্তেজনার মধ্যেই, মধ্য-ফেব্রুয়ারিতে উত্তর ইন্ডিয়া মহাসাগরে চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে যৌথ নৌ মহড়ার ঘোষণা দিয়েছে ইরান।

মহড়ায় ইরানের নিয়মিত নৌবাহিনী ও ইসলামিক রেভ্যুলুশনারি গার্ড কর্পস বা আইআরজিসির নৌ ইউনিটের পাশাপাশি চীন ও রাশিয়ার নৌবাহিনীর ইউনিট অংশ নেবে।

ইউডি/রেজা

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading