ইরানে মার্কিন হামলা যে কোনো সময়, লক্ষ্য সরকার পতন
উত্তরদক্ষিণ। রবিবার, ০১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, আপডেট ১৫:২৭
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। ইরানে সম্ভাব্য বড় ধরনের হামলার হুমকি ঘিরে যুদ্ধের আশঙ্কা জোরালো হচ্ছে।
এমন প্রেক্ষাপটে আমেরিকা ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ড্রপ সাইট নিউজ এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
প্রতিবেদনে একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়, মার্কিন সেনাবাহিনীর সিনিয়র কর্মকর্তারা মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার কয়েকটি প্রধান মিত্র দেশের নেতৃত্বকে জানিয়েছেন—প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চলতি সপ্তাহান্তেই ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলার অনুমোদন দিতে পারেন।
মিত্র দেশগুলোর কাছে মার্কিন কর্মকর্তাদের বার্তা অনুযায়ী, রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) থেকেই হামলা শুরু হতে পারে।ড্রপ সাইট নিউজকে আমেরিকার সাবেক এক শীর্ষ গোয়েন্দা কর্মকর্তা জানান, সম্ভাব্য এই হামলার লক্ষ্য ইরানের পারমাণবিক বা ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নয়; বরং ইরানে সরকার পরিবর্তন।
ওই কর্মকর্তা বর্তমানে আরব কয়েকটি সরকারের পরামর্শক এবং মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের একজন অনানুষ্ঠানিক উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করছেন।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, পরিকল্পিত হামলায় ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র অবকাঠামো ও অন্যান্য সামরিক স্থাপনায় আঘাত হানার পাশাপাশি ইরানি সরকারের ‘শিরশ্ছেদ’ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিশেষ করে ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নেতৃত্ব ও সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস করাই মূল লক্ষ্য।
সূত্রগুলোর দাবি, ট্রাম্প প্রশাসনের বিশ্বাস—ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বে সফল হামলা হলে দেশটির সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ শুরু করবে, যা শেষ পর্যন্ত সরকার পতনের দিকে নিয়ে যাবে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইরানে হামলার বিষয়ে আশাবাদী।
তিনি ট্রাম্পকে আশ্বস্ত করেছেন যে ইরানে নতুন সরকার প্রতিষ্ঠায় ইসরায়েল সহযোগিতা করতে পারবে এবং সেই সরকার পশ্চিমা বিশ্বের ঘনিষ্ঠ মিত্র হবে।
ড্রপ সাইট নিউজের কাছে কথা বলা দুইজন সিনিয়র আরব গোয়েন্দা কর্মকর্তা জানান, তাদের কাছে তথ্য এসেছে—ইরানে মার্কিন হামলা ‘যেকোনো মুহূর্তে’ শুরু হতে পারে।
এর আগে ইরান সরকার স্পষ্ট করে জানিয়েছে, দেশটির ওপর যেকোনো হামলাকে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ হিসেবে বিবেচনা করা হবে এবং সে অনুযায়ী জবাব দেওয়া হবে।
ইউডি/এআর

