রেকর্ড ব্যয়ের নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলায় সর্বোচ্চ বরাদ্দ

রেকর্ড ব্যয়ের নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলায় সর্বোচ্চ বরাদ্দ

উত্তরদক্ষিণ। রবিবার, ০১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, আপডেট ১৮:৫৫

বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ব্যয়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজন করতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট একসঙ্গে আয়োজন করতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ১৫০ কোটি টাকা, যা আগের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তুলনায় প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা বেশি।

এবারের নির্বাচনে নিরাপত্তা খাতে ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা দাবি করেছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলো। তবে, প্রাথমিকভাবে তাদের জন্য ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যা মোট নির্বাচনি ব্যয়ের প্রায় ৪০ শতাংশ।

কোন বাহিনী কত বরাদ্দ পাচ্ছে:
আইনশৃঙ্খলা খাতে সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ পাচ্ছে আনসার বাহিনী—৫৪৪ কোটি ২৩ লাখ টাকা। পুলিশের পেছনে ব্যয় হচ্ছে ২৭০ কোটি ২১ লাখ টাকা। তিন বাহিনীর জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে মোট ১৮৫ কোটি ২৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পাচ্ছে ১৪৮ কোটি ৫৮ লাখ, নৌবাহিনী ২৩ কোটি ৩৭ লাখ এবং বিমানবাহিনী ১৩ কোটি ৩০ লাখ টাকা। বডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) পাচ্ছে ১০০ কোটি ১৭ লাখ, কোস্ট গার্ড ৩৩ কোটি ৭০ লাখ, র‌্যাব ২১ কোটি ৭৭ লাখ, গ্রাম পুলিশ ১৫ কোটি ৮০ লাখ টাকা। ফায়ার সার্ভিস ১ কোটি, এনটিএমএসি ৫২ লাখ, স্বশস্ত্র বিভাগ ৫৫ লাখ, ডিজিএফআই ২ কোটি, স্বরাষ্ট্র বিভাগ ৪০ লাখ টাকা পাচ্ছে।

অন্যান্য খাতে যত বরাদ্দ:
নির্বাচন পরিচালনা বাবদ ইসি ব্যয় ধরেছে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে বাহিনী ও কর্মকর্তাদের দৈনিক খোরাকি ভাতা ৭৩০ কোটি, সরকারি যানবাহনের জ্বালানি ২৯৮ কোটি, চুক্তিভিত্তিক যানবাহন ২০১ কোটি, বিভিন্ন পণ্য কেনাকাটা ৫৮১ কোটি, সম্মানি ৫১৫ কোটি, যন্ত্রপাতি ক্রয় ১৬২ কোটি এবং মুদ্রণ ও বাঁধাইয়ে ১০৮ কোটি টাকা ব্যয়ের হিসাব করা হয়েছে।

এছাড়া, যাতায়াত ভাতায় ১০৯ কোটি, বিজ্ঞাপন ও প্রচারে ১০৩ কোটি, আপ্যায়নে ১৮৪ কোটি, পরিবহন ব্যয় ৮০ কোটি এবং অনিয়মিত শ্রমিকদের মজুরিতে ৩১ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

গণভোটের প্রচারণায় এবার নির্বাচন কমিশনের পাশাপাশি বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ও ইসি থেকে অর্থ বরাদ্দ নিচ্ছে, যা অতীতের কোনো নির্বাচনে দেখা যায়নি। সূত্র জানায়, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ৪৬ কোটি, তথ্য মন্ত্রণালয় ৪ কোটি ৫২ লাখ, ধর্ম মন্ত্রণালয় ৬ কোটি ৯৮ লাখ, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ৪ কোটি ৫২ লাখ, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় ৪ কোটি ৩৪ লাখ টাকা বরাদ্দ নিয়েছে। ইসির জনসংযোগ শাখা ব্যয় করছে ৪ কোটি টাকা।

ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা (সিসিটিভি) কেনার জন্য ইসি থেকে ৭০ কোটি টাকা নিয়েছে এলজিইডি। গণভোটের ব্যালট ছাপাতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪০ কোটি টাকা।

পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিতে বিশ্বের ১২৩টি দেশ থেকে ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৮২ জন প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন করেছেন। প্রতিটি ভোট গ্রহণে সরকারের গড় ব্যয় প্রায় ৭০০ টাকা। ১০ লাখের বেশি প্রিসাইডিং ও পোলিং অফিসারকে প্রশিক্ষণ দিতে ব্যয় হচ্ছে প্রায় ৭ কোটি টাকা।

নির্বাচন কমিশন (ইসি) বলছে, এবারের নির্বাচনে ব্যয় বৃদ্ধির প্রধান কারণ একাধিক নতুন কার্যক্রম সংযোজন। সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি গণভোট আয়োজন করতে গিয়ে অতিরিক্ত ব্যালট পেপার ছাপানো, আলাদা বাক্স, পরিবহন ও সংরক্ষণ ব্যবস্থার প্রয়োজন হচ্ছে। একইসঙ্গে ভোট গ্রহণ ও গণনার জন্য বাড়তি জনবল নিয়োগ, প্রশিক্ষণ এবং ভাতা বাবদ ব্যয়ও বেড়েছে।

প্রথমবারের মতো পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থার পরিসর বাড়ানোয় ব্যয়ের চাপ আরো বেড়েছে। পোস্টাল ব্যালট ছাপানো, ডাকযোগে পাঠানো, ফেরত আনা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আলাদা লজিস্টিক ও প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন হচ্ছে। এতে মুদ্রণ, ডাক ব্যয় এবং তদারকিতে অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ করতে হয়েছে।

ইসি সূত্র জানিয়েছে, নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করতে এবার নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনায় বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কেন্দ্রভিত্তিক নিরাপত্তা, নজরদারি, নির্বাচন সংশ্লিষ্ট আইটি সাপোর্ট এবং ফলাফল ব্যবস্থাপনায় অতিরিক্ত খরচ যুক্ত হয়েছে। এসব কারণ মিলিয়েই এবারের নির্বাচন দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যয়বহুল হতে যাচ্ছে বলে মনে করছে নির্বাচন কমিশন।

নির্বাচনী ব্যয় প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ রাইজিংবিডিকে ডটকমকে বলেছেন, “আমি ব্যক্তিগতভাবে নির্বাচনি ব্যয় কমানোর পক্ষে। কিন্তু, গণভোট ও পোস্টাল ব্যালট যুক্ত হওয়ায় এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রচারণা ব্যয় আসায় এবার খরচ বেড়েছে।”

ইউডি/রেজা

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading