কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইন কে?
উত্তরদক্ষিণ। সোমবার (০২ ফেব্রুয়ারি) ২০২৬, আপডেট ২৩:২০
‘আমি কোনো যৌন শিকারি নই, আমি একজন “অপরাধী”—একজন খুনি আর যে রুটি চুরি করে, তাদের মধ্যে যতটুকু পার্থক্য।’ ২০১১ সালে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এমন মন্তব্য করেছিলেন আমেরিকার কুখ্যাত অর্থলগ্নিকারী জেফ্রি এপস্টেইন।
নিউইয়র্কের একটি কারাগারে আটক থাকা অবস্থায় ২০১৯ সালের ১০ আগস্ট এপস্টেইনের মৃত্যু হয়। তখন তিনি জামিনের সুযোগ ছাড়াই যৌন পাচারের মামলায় বিচার শুরুর অপেক্ষায় ছিলেন। ওই মামলায় তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছিলেন।
এর এক দশকেরও বেশি সময় আগে অপ্রাপ্তবয়স্কের কাছ থেকে যৌনসেবা নেওয়ার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়ে কারাভোগ করেন এপস্টেইন। সে সময় তাকে আমেরিকায় যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত করা হয়।
পরবর্তী সময়ে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে—যৌনতার উদ্দেশ্যে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের নিয়ে একটি ‘বিস্তৃত নেটওয়ার্ক’ পরিচালনা করতেন তিনি। যদিও এসব অভিযোগও তিনি অস্বীকার করেছিলেন।
এপস্টেইন ফাইলস প্রকাশ নিয়ে বিতর্ক
২০২৫ সালের নভেম্বরে আমেরিকার কংগ্রেসের উভয় কক্ষ বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতায় ‘এপস্টেইন ফাইলস ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্ট’ অনুমোদন করে। এরপর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আইনে সই করেন এবং বিচার বিভাগকে ১৯ ডিসেম্বরের মধ্যে এপস্টেইন–সংক্রান্ত সব তদন্ত নথি প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়।
নির্ধারিত দিনে কিছু নথি প্রকাশ করা হলেও বেশিরভাগ উপকরণ তখনও গোপন থাকে। পরবর্তী সপ্তাহগুলোতে আরও নথি প্রকাশ করা হয়। তবে পুরো প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
আমেরিকার ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্লাঞ্চ ৩০ জানুয়ারি প্রকাশিত একটি নথিকে ‘অত্যন্ত বিস্তৃত পরিসরে নথি শনাক্ত ও পর্যালোচনা প্রক্রিয়ার সমাপ্তি’ বলে উল্লেখ করেন। তবে বিরোধী ডেমোক্র্যাটসহ বিভিন্ন মহলের দাবি—যথাযথ কারণ ছাড়াই বহু নথি এখনও প্রকাশ করা হয়নি।
এ পর্যন্ত প্রকাশিত নথিতে এপস্টেইনের বিলাসী জীবনযাপন এবং প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে তার যোগাযোগের নানা তথ্য উঠে এসেছে।
ইউডি/এবি

