আন্তর্জাতিক নাটক: ইউক্রেন ও ইরানের সন্ত্রাসী অভিযোগ
উত্তরদক্ষিণ। বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, আপডেট ১৯:৩৬
ইউরোপীয় ইউনিয়নের পর এবার ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)–কে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে ঘোষণা করেছে ইউক্রেন। তেহরানের সঙ্গে দ্বন্দ্বের মধ্যে চলতি সপ্তাহে এক ভাষণে এ ঘোষণা দেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ইউক্রেনের সেনাবাহিনী ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ ঘোষণার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইরান।
মার্কিন হামলার আশঙ্কার মাঝে গত সপ্তাহে (২৯ জানুয়ারি) ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড কোরকে (আইআরজিসি) ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। এই সিদ্ধান্তের ফলে ইরানের সঙ্গে ইউরোপের উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় তেহরান ইউরোপীয় সেনাবাহিনীকে ‘সন্ত্রাসী গোষ্ঠী’ হিসেবে আখ্যা দেয়ার হুমকি দেয় এবং ইরানে নিযুক্ত ইইউ রাষ্ট্রগুলোর রাষ্ট্রদূতদের তলব করে প্রতিবাদ জানায়। এর কয়েকদিন পর চলতি সপ্তাহে একই পদক্ষেপ নেয় ইউক্রেন।
এক ভাষণে জেলেনস্কি বলেন, রাশিয়ার আগ্রাসী যুদ্ধে ইরানের ভূমিকার কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তিনি জানান, ইউক্রেনের শহর ও জনপদে আঘাত হানা হাজার হাজার ‘শাহেদ’ ড্রোনের কথা কিয়েভ কখনও ভুলবে না। এসব ড্রোন ইরানে নকশা করা এবং রাশিয়া যুদ্ধে ব্যবহার করছে।
তিনি আরও বলেন, ইউক্রেন আগেই আইআরজিসিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করেছে এবং ‘আমাদের জন্য এই বিষয়টি চূড়ান্তভাবে বন্ধ।’ জেলেনস্কির ভাষায়, ‘বিশ্বের সব সন্ত্রাসী একই ধরনের আচরণ ও নিন্দার যোগ্য।’
পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ইরান জানিয়েছে, তারাও ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনীকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করবে এবং তেহরান থেকে ইউক্রেনীয় রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কার করবে।
ইউক্রেন ও তার মিত্ররা দীর্ঘদিন ধরেই রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে সামরিক সহযোগিতার কথা বলে আসছে, বিশেষ করে ড্রোন ও সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি নিয়ে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ইউক্রেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে রাশিয়া প্রায় ৮ হাজার ৬০টি ইরান-নির্মিত শাহেদ ড্রোন ব্যবহার করেছে।
ইউক্রেনের শীর্ষ সামরিক কমান্ডার জানুয়ারিতে জানান, রাশিয়া প্রতিদিন শত শত শাহেদ ড্রোন উৎপাদন করছে এবং উৎপাদন আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
ইউডি/এআর

