‘থাকবেন ধানের শীষের সঙ্গে কিন্তু ভোট দেবেন ঐক্যজোটে’
উত্তরদক্ষিণ। শনিবার , ০৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, আপডেট ১৬:২০
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে ‘আধিপত্যবাদ থেকে মুক্তি ও ফ্যাসিবাদকে কবর দেওয়ার নির্বাচন’ হিসেবে অভিহিত করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও ১১ দলীয় ঐক্যজোটের প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহ।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে যশোর শহরের ভৈরব চত্বরে আয়োজিত এক নির্বাচনী পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বক্তব্যের শুরুতেই হাসনাত আবদুল্লাহ একটি রাজনৈতিক পক্ষের কড়া সমালোচনা করে বলেন, তারা চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও নারী লাঞ্ছনার মতো কাজে লিপ্ত থেকে ভারতের দালিলি করার চেষ্টা করছে।
তিনি বিএনপির বর্তমান অবস্থাকে ইঙ্গিত করে বলেন, ‘দলের ভেতরে হাইব্রিডরা এসে ত্যাগী নেতাকর্মীদের অবমূল্যায়ন করছে।
ধানের শীষের অনেক নেতাকর্মী চাপে পড়ে মিছিলে গেলেও গোপনে আমাদের সমর্থন জানাচ্ছেন। আপনারা তাদের কাছে আমার দাওয়াত পৌঁছে দিন—তারা যেন মিছিলে ধানের শীষের সাথে থাকলেও ভোটকেন্দ্রে ১১ দলীয় ঐক্যজোটে ভোট দেন।’
পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকার সমালোচনা করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘বিবেকের কাছে দায়বদ্ধ থাকুন, কোনো রাজনৈতিক দলের কাছে নয়। আপনারা জনগণের টাকায় বেতন পান, তাই জনগণের হয়ে কাজ করুন।
জুলাই আন্দোলনের কথা ভুলে যাবেন না, গুলি দিয়েও মানুষকে থামানো যায়নি। ডিবি হারুন বা বেনজীরদের মতো লোকেরাও আজ কোথাও নেই। কোনো দলের পুলিশ না হয়ে বাংলাদেশের পুলিশ হওয়ার চেষ্টা করুন।’
তিনি আরও যোগ করেন, অবৈধ টাকা বা রাজনৈতিক নেতার গোলামি করলে আগামী পাঁচ বছর পোস্টিং ও বদলির জন্য তাদের দাসত্ব করতে হবে।হাসনাত আবদুল্লাহ যশোরবাসীকে আগামী ১২ তারিখ সকাল সাড়ে সাতটা থেকে কেন্দ্রে উপস্থিত থাকার এবং ফলাফল ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত পাহারা দেওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, যারা জমি দখল ও টেন্ডারবাজি করে তারা আজ আমাদের বিপক্ষে। এদের রুখে দিয়ে দাঁড়িপাল্লা ও শাপলা কলির বিজয় নিশ্চিত করতে হবে।পথসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী ভিপি আব্দুল কাদের বলেন, ‘হাসনাত আব্দুল্লাহ কেবল একজন ব্যক্তি নন, তিনি অন্যায়ের বিরুদ্ধে এক শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র।
১২ তারিখে যশোরের সব চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের লালকার্ড দেখানো হবে।’জাতীয় নাগরিক পার্টির প্রধান সমন্বয়কারী নুরুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় কেন্দ্রীয় নেতা সাকিব শাহরিয়ারসহ জোটের বিভিন্ন শরিক দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।
সভা শেষে একটি বিশাল নির্বাচনী মিছিল শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পথসভাকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা লক্ষ্য করা গেছে।
ইউডি/এআর

