তারেক রহমান: নির্বাসন থেকে ক্ষমতার শিখরে

তারেক রহমান: নির্বাসন থেকে ক্ষমতার শিখরে

উত্তরদক্ষিণ। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) ২০২৬, আপডেট ০০:৩০

লন্ডনে ১৭ বছর নির্বাসনে কাটিয়ে দেশে ফেরার দুই মাসের মধ্যে নির্বাচনে জয়ী হয়ে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

সরকারপ্রধান হিসেবে তিনি বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেবেন, ঠিক যেমন একসময় তার বাবা-মা দিয়েছিলেন।

তার বাবা জিয়াউর রহমান ছিলেন বাংলাদেশের সেনাপ্রধান ও রাষ্ট্রপতি, যার হাত ধরে ১৯৭৮ সালে বিএনপি প্রতিষ্ঠা পেয়েছিল। আর মা খালেদা জিয়া তিনবারে ১০ বছর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। চার দশকের বেশি সময় তিনি বিএনপির নেতৃত্ব দিয়েছেন।

বিএনপি যে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে জিতে ক্ষমতায় যাবে, তারেক রহমান যে প্রধানমন্ত্রী হবেন, অনেকের কাছে তা অনুমিতই ছিল। তবে ২০২৪ সালের অগাস্টের আগে অনেকের কাছেই বিষয়টি ছিল অনেক দূরবর্তী ভাবনা।

বিগত সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে যেতে হয়েছিল তারেক রহমানকে। ২০০৮ সালে মুক্তি পাওয়ার পর তিনি চিকিৎসার জন্য দেশ ছাড়েন।

ওই বছর নবম সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের কাছে হেরে যায় বিএনপি। পরের দেড় দশক ইতিহাসের সবচেয়ে দুঃসময় পার করেছে তারেকের দল।

নেতাকর্মীরা রাস্তার আন্দোলনে পুলিশের মার খেয়েছে, অনেকে ‘গুম’ হয়েছে; পুলিশ অভিযান চালিয়ে বিএনপি অফিসে তালা দিয়েছে; এমনকি খালেদা জিয়াকে দুর্নীতির দায় মাথায় নিয়ে জেলে যেতে হয়েছে। লন্ডনে নির্বাসিত জীবনে তারেক রহমানকে দূরে বসেই সব দেখতে হয়েছে।

সে কারণে তরেক রহমানের জন্য গত বৃহস্পতিবারের নির্বাচন বিরাট এক রূপান্তরের মাহেন্দ্রক্ষণ।

গতবছর ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরে নেতাকর্মী-সমর্থকদের কাছে বিরোচিত সংবর্ধন পান তারেক। তার পাঁচ দিনের মাথায় মাকে হারান। এ বছর ৯ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে পান দলের নেতৃত্ব। এরপর ভোটের মাঠে দলকে তিনি এগিয়ে নিয়ে যান চূড়ান্ত লক্ষ্যে।

দেশে ফিরে লাখো জনতার সংবর্ধনা সমাবেশে তারেক মার্কিন নাগরিক অধিকার কর্মী মার্টিন লুথার কিং জুনিয়রের ঐতিহাসিক উক্তি “আই হ্যাভ অ্যা ড্রিম”–এর আদলে বলেছিলেন, “আই হ্যাভ আ প্ল্যান।” সেটাই ছিল তার ভোটের প্রচারের মূল সুর। দেশের একটি বড় অংশ ঘুরে বেরিয়ে সেই সুরেই তিনি দলের তৃণমূলকে সংগঠিত করেছেন।

সেই সঙ্গে আওয়ামী লীগহীন ভোটের মাঠে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ওঠা সাবেক মিত্র জামায়াতে ইসলামীর একাত্তরের অতীত আর তাদের নারী নীতি মনে করিয়ে দিয়ে ‘ভাসমান’ ভোটারদের মনোযোগ আকর্ষণ করার চেষ্টা করেছেন তারেক।

বিশ্লেষকরা বলছেন, তার সেই কৌশল অংশত কাজেও লেগেছে। তার সঙ্গে জামায়াতকে ঠেকানোর চেষ্টায় অনেক ভেটোর ভোটার বেছে নিয়েছেন বিএনপিকে। সব মিলিয়ে দুই তৃতীয়াংশ আসনে জয়ী হয়ে দীর্ঘ দুই দশক পর ক্ষমতায় ফিরছে দলটি।

ইউডি/এবি

badhan

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading