সৌদি-মার্কিন পারমাণবিক চুক্তিতে থাকছে না কঠোর নিরাপত্তা শর্ত
উত্তরদক্ষিণ। শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, আপডেট ১৯:৫০
সৌদি আরবের সঙ্গে একটি বেসামরিক পারমাণবিক চুক্তি করতে যাচ্ছে আমেরিকা । তবে দীর্ঘদিনের মার্কিন নীতি অনুযায়ী পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথ বন্ধ করতে যেসব কঠোর নিরাপত্তা শর্ত (গার্ডরেল) আরোপ করা হতো, প্রস্তাবিত এই চুক্তিতে তা রাখছে না আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন।
কংগ্রেসে পাঠানো একটি নথি পর্যালোচনা করে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।সম্প্রতি রাশিয়া ও আমেরিকার মধ্যকার সর্বশেষ কৌশলগত অস্ত্র সীমাবদ্ধতা চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়া এবং চীনের পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার বিস্তারের ফলে বিশ্বজুড়ে নতুন করে পারমাণবিক প্রতিযোগিতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটেই ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপ সামনে এলো।
আমেরিকার পূর্ববর্তী প্রশাসন এবং অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ গোষ্ঠীগুলো দীর্ঘকাল ধরে দাবি জানিয়ে আসছে যে, সৌদি আরব যাতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করতে না পারে বা ব্যবহৃত পারমাণবিক জ্বালানি প্রক্রিয়াজাত করতে না পারে, সেই শর্ত চুক্তিতে থাকতে হবে। এমনকি বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও যখন সিনেটর ছিলেন, তিনিও এই কঠোর শর্তের পক্ষে ছিলেন।
এ ছাড়া দাবি রয়েছে যে, সৌদি আরবকে যেন জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) অ্যাডিশনাল প্রোটোকল মেনে চলতে বাধ্য করা হয়। এর ফলে আইএইএ যেকোনো স্থানে অতর্কিত তল্লাশিসহ দেশটির পারমাণবিক কার্যক্রমের ওপর ব্যাপক তদারকির ক্ষমতা পাবে।
তবে অ্যাডভোকেসি গ্রুপ আর্মস কন্ট্রোল অ্যাসোসিয়েশন (এসিএ) জানিয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন গত নভেম্বরেই কংগ্রেসকে ইঙ্গিত দিয়েছে যে তারা এই প্রোটোকল অনুসরণ করছে না।
কংগ্রেসে পাঠানো প্রতিবেদনে ট্রাম্প প্রশাসন বলেছে, ১২৩ এগ্রিমেন্ট নামে পরিচিত এই চুক্তি মার্কিন শিল্পকে সৌদি আরবের পরমাণু উন্নয়নের কেন্দ্রে রাখবে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। তবে প্রতিবেদনে সমৃদ্ধকরণ ও পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণের মতো সংবেদনশীল ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সুরক্ষা ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যা পরোক্ষভাবে সৌদি আরবের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচির পথ খুলে দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইউডি/এআর

