সাবেক উপদেষ্টার অস্ত্রের লাইসেন্স কাণ্ড, যা বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
উত্তরদক্ষিণ। সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, আপডেট ১৭:০৫
সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের একজন উপদেষ্টার বয়স পূর্ণ না হওয়ার পরও অস্ত্রের লাইসেন্স পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জানিয়েছেন, বিষয়টি আইনানুগভাবে দেখা হবে, তবে লাইসেন্স প্রদানের ক্ষেত্রে ব্যক্তির সামাজিক অবস্থান ও নিরাপত্তার গুরুত্বও বিবেচনার দাবি রাখে।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
সাবেক ওই উপদেষ্টার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হবে কি না–এমন প্রশ্নে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘এগুলো সব আইনানুগভাবে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে এখন দেখতে হবে কাকে কোন বিবেচনায় লাইসেন্স দেয়া হয়েছে। সামাজিক নিরাপত্তা বা সামাজিক অবস্থান–এগুলো বিবেচনায় নিতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘একজন উপদেষ্টাকে–তার হয়তো বয়স বিবেচনাটা না রেখে সামাজিক গুরুত্ব এবং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার বিষয়গুলো চিন্তা করে লাইসেন্স দেয়া হয়েছে। এই বিষয়গুলো সব বিবেচনায় রেখেই তো আমাদের কথা বলতে হবে।’
উল্লেখ্য, গত বছরের ২৯ জুন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের যুব ও ক্রীড়া এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া মরক্কোয় ‘ওআইসি ইয়ুথ ক্যাপিটাল ইন্টারন্যাশনাল প্রোগ্রামে’ অংশ নিতে যাওয়ার পথে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স্ক্যানিংয়ের সময় তার ব্যাগে ম্যাগাজিন পাওয়া যায়। তখন প্রশ্ন ওঠে–ম্যাগাজিনটি কার এবং সেটি বৈধ কি না?
পরে ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেয়া ব্যাখ্যায় আসিফ মাহমুদ বলেন, নিরাপত্তার স্বার্থে তার লাইসেন্স করা বৈধ অস্ত্র আছে। তিনি জানান, গণ-অভ্যুত্থানের নেতৃত্বের ওপরে কয়েক দফায় হত্যাচেষ্টা চালানো হয়েছে, তাই নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিতের উদ্দেশ্যে তিনি অস্ত্র রেখেছেন। তবে আইন অনুযায়ী নির্ধারিত বয়স না হওয়ার পরও তিনি কীভাবে অস্ত্রের লাইসেন্স পেলেন, তা নিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়।
বিগত ১৫ বছরে দেয়া সব অস্ত্রের লাইসেন্স রিভিউ করার ঘোষণা দিয়ে মন্ত্রী বলেন, হাসিনা আমলসহ বিভিন্ন সময়ে দেয়া লাইসেন্সগুলো যথাযথ প্রক্রিয়া মেনে ইস্যু করা হয়েছে কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে। যদি কোনো লাইসেন্স নিয়মবহির্ভূতভাবে দেয়া হয়ে থাকে বা লাইসেন্সধারী ব্যক্তি তা পাওয়ার উপযুক্ত না হন, তবে সেই লাইসেন্স বাতিল করা হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অস্ত্র জমা না দেয়ায় এরইমধ্যে ১০ হাজারের বেশি অস্ত্রের লাইসেন্স অবৈধ হয়ে গেছে। এসব অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে পুলিশকে কঠোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘লাইসেন্স ইস্যু করার ক্ষেত্রে যদি কোনো অনিয়ম পাওয়া যায় এবং লাইসেন্স বাতিল হয়, তবে সেই লাইসেন্সের অধীন কেনা অস্ত্রটিও অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে।’
অনেক ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয়ের অনাপত্তি পত্র বা প্রয়োজনীয় নথি ছাড়াই লাইসেন্স ইস্যু হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, নথিপত্রের এই গরমিলগুলো তদন্ত করে দেখতে পুলিশ কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। জালিয়াতি বা অনিয়মের মাধ্যমে কেউ সুবিধা নিয়ে থাকলে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় কোনো ব্যক্তি বা পদের বিশেষ সুবিধা দেয়ার সুযোগ নেই, তবে লাইসেন্স প্রদানের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় নীতিমালায় থাকা নিরাপত্তার বিষয়টিও সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।
ইউডি/রেজা

