ঈদযাত্রার ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু ৩ মার্চ, কাটবেন যেভাবে

ঈদযাত্রার ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু ৩ মার্চ, কাটবেন যেভাবে

শিলা আক্তার। বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, আপডেট ১৫:৪০

আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হচ্ছে আগামী ৩ মার্চ। প্রথম দিন ১৩ মার্চের ট্রেনের টিকিট দেওয়া হবে। এবারও সব টিকিট অনলাইনে বিক্রি করা হবে। এছাড়া, ঈদযাত্রায় যাত্রীদের জন্য পাঁচ জোড়া বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রেলপথ মন্ত্রণালয় এ তথ‌্য জা‌নি‌য়েছে। গত ২২ ফেব্রুয়ারি ঈদে ট্রেনযাত্রার এক প্রস্তুতিমূলক সভায় এসব সিদ্ধান্ত হয়।

৩ মার্চ পাওয়া যাবে ১৩ মার্চের টিকিট। ৪ মার্চ ১৪ মার্চের, ৫ মার্চ ১৫ মার্চের, ৬ মার্চ ১৬ মার্চের, ৭ মার্চ ১৭ মার্চের, ৮ মার্চ ১৮ মার্চের এবং ৯ মার্চ ১৯ মার্চের অগ্রিম টিকিট বিক্রি করা হবে।

ঈদের চাঁদ দেখার উপর নির্ভর করে ২০, ২১ ও ২২ মার্চের টিকিট বিক্রয় করা হবে। একজন যাত্রী সর্বোচ্চ ১ বার সর্বাধিক ৪টি করে টিকেট ক্রয় করতে পারবেন। ঈদ অগ্রিম ও ফেরত যাত্রার টিকেট রিফান্ড করা যাবে না। যাত্রার দিন মোট আসনের (উচ্চ শ্রেণী ব্যতিত) ২৫ শতাংশ স্ট্যান্ডিং টিকেট স্টেশন কাউন্টার থেকে বিক্রয় করা হবে।

ঈদ ফেরত টিকিট বিক্রয় সূচি
ঈদ ফেরত যাত্রার টিকিট বিক্রি শুরু হবে ১৩ মার্চ থেকে। ১৩ মার্চ পাওয়া যাবে ২৩ মার্চের টিকিট। ১৪ মার্চ ২৪ মার্চের, ১৫ মার্চ ২৫ মার্চের, ১৬ মার্চ ২৬ মার্চের, ১৭ মার্চ ২৭ মার্চের, ১৮ মার্চ ২৮ মার্চের এবং ১৯ মার্চ ২৯ মার্চের ফিরতি যাত্রার টিকিট বিক্রি করা হবে।

ঘোষণা অনুযায়ী, ১৬ মার্চ ২০২৬ থেকে ঈদের আগের দিন পর্যন্ত সব আন্তঃনগর ট্রেনের সাপ্তাহিক বন্ধের দিন (অফ-ডে) প্রত্যাহার করা হবে। ঈদের পর পুনরায় আগের নিয়ম অনুযায়ী সাপ্তাহিক ছুটি কার্যকর থাকবে।

যাত্রীসেবা নির্বিঘ্ন ও সময়ানুবর্তিতা নিশ্চিত করতে ডিভিশনাল ও জোনাল কন্ট্রোলে পৃথক মনিটরিং সেল গঠন করে কর্মকর্তাদের জরুরি ডিউটি দেওয়া হবে। গুরুত্বপূর্ণ ও জংশন স্টেশন এবং সিগন্যাল কেবিনগুলোতে কর্মকর্তা ও পরিদর্শদের সরাসরি তদারকির মাধ্যমে ট্রেন পরিচালনা করা হবে।

দুর্ঘটনা প্রতিরোধ ও ট্রেনের সিডিউল ঠিক রাখতে রেলপথে বিশেষ পেট্রোলিংয়ের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। রেলসেতুগুলোর নিরাপত্তায় নেওয়া হচ্ছে বাড়তি সতর্কতা। সিগন্যালিং ব্যবস্থা, কোচ ও ইঞ্জিনের নিবিড় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও রক্ষণাবেক্ষণ সম্পন্ন করা হবে। সম্ভাব্য দুর্ঘটনা মোকাবিলায় রিলিফ ট্রেন সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখা হবে বলে জানানো হয়।

ঈদের দিন বিশেষ ব্যবস্থাপনায় কিছু মেইল এক্সপ্রেস ট্রেন চলাচল করবে। তবে ১৯ মার্চ ২০২৬ রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে ঈদের দিন সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত কন্টেইনার ও জ্বালানি তেলবাহী ট্রেন ছাড়া সব ধরনের গুডস ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকবে।

নিরাপত্তা জোরদারে ঢাকা, বিমানবন্দর, জয়দেবপুর, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, সিলেট, রাজশাহী ও খুলনাসহ বড় স্টেশনগুলোতে জিআরপি, আরএনবি, বিজিবি, র‌্যাব ও স্থানীয় পুলিশের সমন্বয়ে সার্বক্ষণিক নজরদারি থাকবে। টিকিটবিহীন যাত্রীদের স্টেশনে প্রবেশ ঠেকাতে কড়াকড়ি আরোপ করা হবে। চলন্ত ট্রেন, স্টেশন ও রেললাইনে নাশকতা প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা বাড়ানো হবে।

এছাড়া, টিকিটধারী যাত্রীদের স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে ১৬ মার্চ থেকে ঈদের আগের দিন পর্যন্ত জয়দেবপুর থেকে ঢাকামুখী এবং ঢাকা থেকে জয়দেবপুরমুখী আন্তঃজোনাল আন্তঃনগর ট্রেনে কোনো টিকিট ইস্যু করা হবে না।

ঈদে স্পেশাল ট্রেনের সময়সূচি
চট্টগ্রাম-চাঁদপুর-চট্টগ্রাম রুটে ‘চাঁদপুর ঈদ স্পেশাল-১’ চট্টগ্রাম থেকে বিকেল ৩টা ৩০ মিনিটে ছেড়ে রাত ৮টা ২০ মিনিটে চাঁদপুর পৌঁছাবে। ‘চাঁদপুর ঈদ স্পেশাল-২’ ভোর ৪টায় চাঁদপুর থেকে ছেড়ে সকাল ৮টা ৫০ মিনিটে চট্টগ্রাম পৌঁছাবে।

ঢাকা-দেওয়ানগঞ্জ-ঢাকা রুটে ‘তিস্তা স্পেশাল-৩’ সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে ঢাকা থেকে ছেড়ে বিকেল ৩টা ৩০ মিনিটে দেওয়ানগঞ্জ পৌঁছাবে। ‘তিস্তা স্পেশাল-৪’ বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটে দেওয়ানগঞ্জ থেকে ছেড়ে রাত ১০টা ১৫ মিনিটে ঢাকায় পৌঁছাবে।

ভৈরববাজার-কিশোরগঞ্জ-ভৈরববাজার রুটে ‘শোলাকিয়া ঈদ স্পেশাল-৫’ সকাল ৬টায় ভৈরববাজার থেকে ছেড়ে সকাল ৮টায় কিশোরগঞ্জ পৌঁছাবে। ‘শোলাকিয়া ঈদ স্পেশাল-৬’ দুপুর ১২টায় কিশোরগঞ্জ থেকে ছেড়ে দুপুর ২টায় ভৈরববাজারে পৌঁছাবে।

ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ-ময়মনসিংহ রুটে ‘শোলাকিয়া ঈদ স্পেশাল-৭’ ভোর ৫টা ৪৫ মিনিটে ময়মনসিংহ থেকে ছেড়ে সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে কিশোরগঞ্জ পৌঁছাবে। ‘শোলাকিয়া ঈদ স্পেশাল-৮’ দুপুর ১২টায় কিশোরগঞ্জ থেকে ছেড়ে বিকেল ৩টায় ময়মনসিংহে পৌঁছাবে।

জয়দেবপুর-পার্বতীপুর-জয়দেবপুর রুটে ‘পার্বতীপুর ঈদ স্পেশাল-৯’ সন্ধ্যা ৭টায় জয়দেবপুর থেকে ছেড়ে রাত ২টা ৩০ মিনিটে পার্বতীপুর পৌঁছাবে। ‘পার্বতীপুর ঈদ স্পেশাল-১০’ সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে পার্বতীপুর থেকে ছেড়ে দুপুর ২টা ২০ মিনিটে জয়দেবপুরে পৌঁছাবে।

ঈদের পর পার্বতীপুর স্পেশাল-৯ সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে জয়দেবপুর থেকে ছেড়ে দুপুর ২টা ৫০ মিনিটে পার্বতীপুর পৌঁছাবে। স্পেশাল-১০ রাত ১০টা ২০ মিনিটে পার্বতীপুর থেকে ছেড়ে ভোর ৫টা ৪৫ মিনিটে জয়দেবপুর পৌঁছাবে।

টিকিট কাটবেন যেভাবে
প্রথমে বাংলাদেশ রেলওয়ের https://railapp.railway.gov.bd ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে হবে। পরে ওয়েবসাইটের উপরের দিকে রেজিস্ট্রেশন ট্যাব ক্লিক করতে হবে। এতে রেজিস্ট্রেশন নামে নতুন একটি পেজ আসবে। এ পেজে ব্যক্তিগত তথ্যাদি দিয়ে সংশ্লিষ্ট ঘরগুলো পূরণ করতে হবে। মোবাইল নাম্বরে একটি ওটিপি চলে আসবে। সেটি সঠিকভাবে পূরণ করে ভেরিফাই বাটনে ক্লিক করতে হবে।

সব তথ্য ঠিক থাকলে রেজিস্ট্রেশন সফল হবে এবং বাংলাদেশ রেলওয়ে নামে নতুন একটি পেজ আসবে। এখানে ইউজার অটো লগইন হয়ে যাবে। টিকিট কেনার পদ্ধতি প্রথমে বাংলাদেশ রেলওয়ের ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে হবে। অটো লগইন না হয়ে থাকলে প্যানেলে ই-মেইল ও পাসওয়ার্ড পূরণ করে লগইন বাটনে ক্লিক করতে হবে। লগইনের পর যে পেজ আসবে তাতে কাঙ্ক্ষিত ভ্রমণ তারিখ, প্রারম্ভিক স্টেশন, গন্তব্য স্টেশন, শ্রেণি পূরণ করে ফাইন্ড টিকিট বাটনে ক্লিক করতে হবে। পরের পেজে ট্রেনের নাম, সিট অ্যাভেলেবিলিটি (আসন আছে কি নেই) ও ট্রেন ছাড়ার সময় দেখাবে। ট্রেন অনুযায়ী ভিউ সিটস বাটনে ক্লিক করে আসন খালি থাকাসাপেক্ষে পছন্দের আসন সিলেক্ট করে কন্টিনিউ পারচেজে ক্লিক করতে হবে।

ভিসা, মাস্টার কার্ড কিংবা বিকাশে পেমেন্ট করলে একটি ই-টিকিট অটো ডাউনলোড হবে। পাশাপাশি যাত্রীর ই-মেইলে টিকিটের কপি চলে যাবে। ই-মেইলের ইনবক্স থেকে টিকিট প্রিন্ট করে ফটো আইডিসহ ই-টিকেট প্রদত্ত টিকিট প্রিন্ট ইনফরমেশন দিয়ে সংশ্লিষ্ট সোর্স স্টেশন থেকে যাত্রার আগে ছাপানো টিকিট সংগ্রহ করা যাবে।

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading