আমেরিকা জ্বালানি অবরোধের মধ্যে কিউবা দখলের ইঙ্গিত দিলেন ট্রাম্প

আমেরিকা জ্বালানি অবরোধের মধ্যে কিউবা দখলের ইঙ্গিত দিলেন ট্রাম্প

উত্তরদক্ষিণ। শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, আপডেট ১০:৩৫

কিউবার ওপর কঠোর জ্বালানি অবরোধ আরোপের পর এবার দেশটিকে ‘বন্ধুত্বপূর্ণভাবে’ দখল করে নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। খবর আল-জাজিরার।

শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) হোয়াইট হাউজের লনে টেক্সাস যাওয়ার উদ্দেশ্যে প্রেসিডেন্টশিয়াল হেলিকপ্টার ‘মেরিন ওয়ান’-এ ওঠার প্রস্তুতি নেওয়ার সময় ট্রাম্প সাংবাদিকদের কাছে কিউবা দখলের ইঙ্গিত দেন। এসময় সংবাদকর্মীদের মুখোমুখি হয়ে তিনি ইরান ও কিউবার মতো দেশগুলোর সঙ্গে আমেরিকার উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্নের উত্তর দেন। উল্লেখ্য, এই দুই দেশেই ট্রাম্প নতুন সরকার দেখতে চান বলে আগে জানিয়েছিলেন।

কিউবার ক্ষেত্রে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, “কিউবা সরকার আমাদের সাথে কথা বলছে এবং আপনারা জানেন যে তারা অনেক বড় বিপদে আছে। তাদের কাছে কোনো টাকা নেই। এই মুহূর্তে তাদের কিছুই নেই, তবে তারা আমাদের সাথে কথা বলছে।” তিনি আরো যোগ করেন, “হয়তো আমরা কিউবার একটি বন্ধুত্বপূর্ণ দখল দেখতে পাব। শেষ পর্যন্ত আমরা খুব ভালোভাবেই কিউবাকে বন্ধুত্বপূর্ণভাবে দখল করে নিতে পারি।”

গত দুই মাস ধরে ট্রাম্প অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে এই কমিউনিস্ট শাসিত ক্যারিবীয় দ্বীপটিতে সরকার পরিবর্তনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। শুক্রবারের বক্তব্যে তিনি আবারো জোর দিয়ে বলেন যে, কিউবা একটি ‘ব্যর্থ রাষ্ট্র’ যা পতনের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে।

ট্রাম্প বলেন, “আমি যখন ছোট ছিলাম তখন থেকেই কিউবার কথা শুনছি। সবাই সেখানে (সরকার) পরিবর্তন চেয়েছিল এবং আমি এখন তা ঘটতে দেখছি।”

আমেরিকার উপকূল থেকে মাত্র ১৪৫ কিলোমিটার (৯০ মাইল) দূরে অবস্থিত কিউবার সঙ্গে আমেরিকার সম্পর্ক দীর্ঘদিন থেকেই বৈরী। ১৯৬০-এর দশক থেকে যুক্তরাষ্ট্র এই দ্বীপটির ওপর পূর্ণ বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে রেখেছে, যা এর অর্থনীতিকে দুর্বল করে দিয়েছে।

তবে গত ৩ জানুয়ারি থেকে উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করে, যখন ট্রাম্প কিউবার ঘনিষ্ঠ মিত্র ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণ ও বন্দি করার জন্য একটি সামরিক অভিযানের নির্দেশ দেন। সেই অভিযানে ভেনেজুয়েলার সামরিক বাহিনীর পাশাপাশি আনুমানিক ৩২ জন কিউবান সৈন্য নিহত হয়।

এর পরপরই ট্রাম্প কিউবার ওপর চাপ আরো বাড়িয়ে দেন এবং প্রকাশ্যে ইঙ্গিত দিতে শুরু করেন যে, সেখানকার সরকার ‘পতনের জন্য প্রস্তুত’। গত ১১ জানুয়ারি তিনি ঘোষণা করেন, ভেনেজুয়েলা থেকে আর কোনো তেল বা অর্থ কিউবায় যাবে না। এরপর ২৯ জানুয়ারি এক নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে তিনি হুমকি দেন, যেসব দেশ সরাসরি বা পরোক্ষভাবে কিউবাকে তেল সরবরাহ করবে, তাদের ওপর শুল্ক আরোপ করা হবে।

জাতিসংঘ সতর্ক করে বলেছে, কিউবার বিদ্যুৎ গ্রিড মূলত জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল এবং জ্বালানি সরবরাহ পুনরুদ্ধার না হলে সেখানে একটি ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় ঘটতে পারে।

আল-জাজিরার খবর বলছে, ট্রাম্প প্রশাসন পশ্চিম গোলার্ধে আমেরিকার প্রভাব বিস্তারের ইচ্ছাকে গোপন রাখেনি। ২০২৫ সালের অভিষেক ভাষণে ট্রাম্প অঙ্গীকার করেছিলেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ‘আবারো নিজেকে একটি বর্ধিষ্ণু জাতি হিসেবে বিবেচনা করবে’, যার মধ্যে ভূখণ্ড সম্প্রসারণও অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।

সেই ভাষণের পর থেকে ট্রাম্প গাজাকে ‘নিজের করে নেওয়া’ এবং ভেনেজুয়েলা ‘পরিচালনা’ করার প্রস্তাব দিয়েছেন। পাশাপাশি গ্রিনল্যান্ড, কানাডা এবং পানামাকে তাদের সার্বভৌমত্ব ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছেন। তিনি তার এই পরিকল্পনাকে তার নিজের নামের সঙ্গে মিলিয়ে ‘ডনরো ডকট্রিন’ নীতি বলে অভিহিত করছেন।

কিউবা সরকার ট্রাম্পের এমন পররাষ্ট্র নীতিকে আমেরিকা সাম্রাজ্যবাদের প্রমাণ হিসেবে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ-কানেল ট্রাম্পের বিরুদ্ধে জ্বালানি অবরোধের মাধ্যমে ‘কিউবার অর্থনীতিকে হত্যা’ চেষ্টার অভিযোগ তুলেছেন।

ইউডি/কেএস

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading