খামেনি নিহত: ইরানের রাজপথে শোকাহত হাজার হাজার মানুষের ঢল
উত্তরদক্ষিণ। রবিবার, ০১ মার্চ, ২০২৬, আপডেট ২২:০০
আমেরিকা ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার খবরে শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েছে পুরো ইরান।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করেছে। রবিবার দেশটির রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন শহরের রাজপথে নেমে এসেছেন লাখো মানুষ।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন খামেনির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে জানিয়েছে, ‘ইসলামি বিপ্লবের নেতা শাহাদাত বরণ করেছেন।’ তার মৃত্যুতে দেশজুড়ে ৪০ দিনের জাতীয় শোক এবং সাত দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে ইরান সরকার।
খামেনির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ইরানের বড় শহরগুলোতে বিশাল জনসমাগম ঘটে। তেহরানের ইনকিলাব চত্বরে শত শত মানুষ খামেনির পোস্টার ও জাতীয় পতাকা নিয়ে জড়ো হন। এ সময় তারা আমেরিকা ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
পবিত্র নগরী কোমেও শোকাতুর মানুষের ঢল নামে। সেখানকার হযরত মাসুমে (রা.) দরগাহে জড়ো হয়ে শত শত মানুষ এই হামলার তীব্র নিন্দা জানান। মাশহাদে দেশটির অন্যতম পবিত্র ধর্মীয় স্থান ইমাম রেজা মাজারের গম্বুজে কালো পতাকা টাঙিয়ে শোক প্রকাশ করা হয়। সেখানে অনেককে কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা গেছে।
ইরানের সরকারি সূত্রগুলো জানিয়েছে, শনিবার ভোরে তেহরানে নিজ কার্যালয়ে থাকা অবস্থায় হামলার শিকার হন খামেনি। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম খামেনির ভূগর্ভস্থ বা নিরাপদ আশ্রয়ে লুকিয়ে থাকার দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, তিনি জনগণের মাঝে নিজের দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় ছিলেন।
এই হামলায় খামেনির পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্যও নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে তার মেয়ে, জামাতা, নাতি এবং পুত্রবধূ রয়েছেন বলে ইরানি সূত্রে জানা গেছে।
ইরান রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, আমেরিকা ও ইসরায়েলি এই হামলায় এখন পর্যন্ত ২০১ জন নিহত এবং ৭৪৭ জন আহত হয়েছেন। হতাহতদের মধ্যে সাধারণ নাগরিকের সংখ্যাই বেশি।
সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড
ইউডি/এআর

