ই-সিগারেট নিষিদ্ধের বিধান কেন অবৈধ নয়, প্রশ্ন হাইকোর্টের

ই-সিগারেট নিষিদ্ধের বিধান কেন অবৈধ নয়, প্রশ্ন হাইকোর্টের

উত্তরদক্ষিণ। সোমবার, ০২ মার্চ, ২০২৬, আপডেট ০৯:২০

ইলেকট্রনিক নিকোটিন ডেলিভারি সিস্টেম বা ই-সিগারেট নিষিদ্ধ এবং তা ভঙ্গ করলে শাস্তির বিধান রেখে ২০০৫ সালে প্রণীত ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন’-এর ৬(গ) ধারাকে অসাংবিধানিক বা অবৈধ ঘোষণা করা যাবে কি না, তা নিয়ে হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন।

একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, আমদানিকৃত ভ্যাপ, ভ্যাপিং ডিভাইস, ড্যাপার, ই-লিকুইড ও ই-সিগারেট জব্দ বা বাজেয়াপ্ত না করার জন্য। এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে আইন সচিব, বাণিজ্য সচিব ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের শুল্ক বিভাগকে।

রবিবার (১ মার্চ) এই রিটের প্রাথমিক শুনানির পর বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এ আদেশ দেন।

রিটের পক্ষে আদালতে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম ও এইচ এম সানজিদ সিদ্দিকী।

ইলেকট্রনিক নিকোটিন ডেলিভারি সিস্টেম বা ই-সিগারেট হলো একটি বৈদ্যুতিক ডিভাইস, যা তরল নিকোটিন ও অন্যান্য রাসায়নিক উপাদান গরম করে বাষ্প উৎপন্ন করে। অন্যদিকে, ইমার্জিং টোব্যাকো প্রোডাক্ট হলো নতুন প্রজন্মের নিকোটিনযুক্ত তামাকজাত পণ্য, যা ধোঁয়াবিহীন বা বাষ্পের মাধ্যমে সেবন করা হয়।

২০০৫ সালের ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইনের ৬৯(গ) ধারায় এই ধরনের ইলেকট্রনিক নিকোটিন ডেলিভারি সিস্টেম এবং ইমার্জিং টোব্যাকো প্রোডাক্ট নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

আইনের ৬৯(গ) ধারায় বলা আছে, এসব পণ্যের উৎপাদন, আমদানি, রপ্তানি, সংরক্ষণ, বিজ্ঞাপন, প্রচার, বিপণন, বিতরণ, ক্রয়-বিক্রয় ও পরিবহণ করলে সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের ব্যবস্থা থাকবে। এছাড়া ব্যবহার করলে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হবে।

গত বছর অন্তর্বর্তী সরকার সংশোধন আনে এবং অধ্যাদেশ জারি করে। এতে ৬৯(গ) ধারার বিধান হুবুহু অধ্যাদেশের ৭ ধারায় রাখা হয়। এ কারণে ২০০৫ সালের আইনের ৬৯(গ) ধারা এবং নতুন অধ্যাদেশের ৭ ধারা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন ‘ভেপার ক্লাউড লিমিটেড’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুদ উজ জামানসহ ১৮টি ইএনডিএস বা ই-সিগারেট আমদানি ও বিপণনকারী প্রতিষ্ঠান।

শুনানির পর হাইকোর্ট রুলসহ আদেশ দেন।

আইনজীবী সানজিদ সিদ্দিকী বলেন, সিগারেট বা ধূমপান ক্যান্সারের অন্যতম কারণ। বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত, ই-সিগারেট বা ইএনডিএস সিগারেটের তুলনায় কম ক্ষতিকারক। এজন্য অনেকেই সিগারেটের বিকল্প হিসেবে ই-সিগারেট সেবন করছেন। আইনটির মূল উদ্দেশ্য ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা।

সানজিদ সিদ্দিকী জানান, রিট আবেদনকারীরা দীর্ঘদিন ধরে ভেপ বা ইএনডিএস আমদানি, বিতরণ ও বিক্রি করছেন এবং সরকারকে কর প্রদান করছেন। ৬(গ) ধারার বিধান সংবিধানের ৪০ অনুচ্ছেদের পরিপন্থী। ফলে এটি মূল আইন এবং সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মনে করা হচ্ছে।

ইউডি/কেএস

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading