বরগুনায় হরিণসহ গ্রেপ্তার স্বামী, ক্ষোভে তালাক দিলেন স্ত্রী
উত্তরদক্ষিণ। বুধবার, ০৪ মার্চ, ২০২৬, আপডেট ১৭:১৮
বরগুনার পাথরঘাটায় হরিণ শিকারের অভিযোগে গ্রেপ্তার হন মো. হানিফা (৪৫) নামের এক ব্যক্তি। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওই ব্যক্তিকে তালাকের নোটিশ দিয়েছেন তাঁর স্ত্রী শাহীনুর বেগম (৪০)। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে পাথরঘাটা পৌর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
এর আগের দিন গত সোমবার রাতে পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের বাদুরতলার খাল এলাকা থেকে দুটি জবাই করা হরিণসহ গ্রেপ্তার হন হানিফা।
মো. হানিফা পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের হাঁড়িটানা গ্রামের বাসিন্দা। বিয়ের পর দীর্ঘদিন ধরে স্ত্রী শাহীনুরকে নিয়ে পাথরঘাটা পৌর শহরের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে বসবাস করতেন।
তালাকের সত্যতা নিশ্চিত করে পাথরঘাটা পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর ও বিএনপির স্থানীয় নেতা আবদুস সালাম শরীফ বলেন, ‘হানিফা আগে ছোট ট্রলারে মাছ ধরতেন। তবে কবে থেকে হরিণ শিকারে জড়িয়ে পড়লেন—তা বলতে পারছি না। জবাই করা দুই হরিণ ও শিকারের ফাঁদসহ হাতেনাতে গ্রেপ্তারের পর তাঁকে তালাক দিয়েছেন শাহীনুর। তালাকের অনুলিপি পাথরঘাটা সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বরাবরে ডাকযোগে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।’
শাহীনুরের ভাই জহিরুল ইসলাম বন বিভাগের পাথরঘাটা সদর বিট কার্যালয়ের বনপ্রহরী হিসেবে কর্মরত। তিনি বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে হরিণ শিকার থেকে হানিফাকে ফিরে আসতে বলা হলেও তিনি শুনছিলেন না। এতে আমারও দুর্নাম হয়। তাই হরিণসহ ধরা পড়ায় আমার বোন শাহীনুর তাঁকে তালাক দিয়েছে।’
বন বিভাগের পাথরঘাটা রেঞ্জ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হানিফাকে গ্রেপ্তারের সময় হরিণ শিকারের ৯টি ফাঁদ ও জবাই করা দুটি হরিণ জব্দ করা হয়েছে। এ সময় জব্দ করা হয় একটি ইঞ্জিনচালিত ট্রলারও। এ ঘটনায় পাথরঘাটা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. পনির শেখ তাঁকে (হানিফ) এক বছরের কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।
আদালতের নির্দেশে জব্দ করা হরিণ দুটির চামড়া ও শিং সংরক্ষণ করা হয়েছে। মাংসে কেরোসিন মিশিয়ে মাটিচাপা দেওয়া হয়েছে।
হরিণঘাটা সংরক্ষিত বনসংলগ্ন হাঁড়িটানা ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শাহ আলম বলেন, বন রক্ষায় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আরও তদারকি প্রয়োজন।
ইউডি/রেজা

