দেশে জনসংখ্যার ১১.৪ শতাংশ থ্যালাসেমিয়ার বাহক: সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী
উত্তরদক্ষিণ। শনিবার, ০৭ মার্চ, ২০২৬, আপডেট ২০:৪৫
দেশের মোট জনসংখ্যার ১১ দশমিক চার শতাংশ বা দুই কোটিরও বেশি মানুষ থ্যালাসেমিয়ার বাহক বলে জানিয়েছেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন। তিনি বলেছেন, “থ্যালাসেমিয়ার চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। এ রোগে আক্রান্তদের মধ্যে ৯০ শতাংশই চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করতে সক্ষম নন। আমরা যদি পূর্বে থেকেই সতর্কতা অবলম্বন করতে পারি তাহলে থ্যালাসেমিয়া রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অনেকাংশেই কমাতে পারি।”
শনিবার (৭ মার্চ) ঢাকার গ্রীন রোডের তাহের ভবনে বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া সমিতির (বিটিএস) প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ফারজানা শারমীন বলেন, “বংশগত রোগ থ্যালাসেমিয়া নিয়ন্ত্রণে সর্বস্তরের জনসাধারণের মাঝে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা জরুরি।” বিটিএস সমিতির কর্ণধারদের উদ্দেশে করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “এ রোগ নিয়ন্ত্রণে কী ধরনের কার্যকর পদক্ষেপ, নীতিগত উদ্যোগ ও চিকিৎসা সহায়তা প্রয়োজন সে সংক্রান্ত ডকুমেন্টস প্রস্তুত করে আপনারা সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। বাংলাদেশে আর কোনও শিশু যেন থ্যালাসেমিয়া রোগ নিয়ে জন্মগ্রহণ না করে তার জন্য সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় পদক্ষেপ নেবে।”
তিনি আরও বলেন, “আমাদের সমাজে যারা থ্যালাসেমিয়া যোদ্ধা রয়েছে তাদের প্রতি যদি আমরা সঠিকভাবে যত্নবান হতে পারি, তাহলে তারা আমাদের সমাজের জন্য সম্পদ হয়ে গড়ে উঠতে পারে। এ জন্য কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। থ্যালাসেমিয়া যোদ্ধাদের জন্য আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি মানসিক সহায়তাও তাদের সঠিকভাবে বেঁচে থাকার জন্য জরুরি।”
মূল অনুষ্ঠানের শুরুতে দু’জন থ্যালাসেমিয়া যোদ্ধা নওশীন তানজীম এবং লুবাবা তাসনীম তাদের জীবনযুদ্ধের বিভিন্ন অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। এছাড়া অনুভূতি ব্যক্ত করেন দু’জন থ্যালাসেমিয়া যোদ্ধার অভিভাবক। তারা থ্যালাসেমিয়ার জন্য হিমোগ্লোবিন ইলেক্ট্রোফোরেসিস টেস্ট বিনামূল্যে করার প্রস্তাব করেন এবং একটি বিশেষায়িত থ্যালাসেমিয়া হাসপাতাল প্রতিষ্ঠাসহ থ্যালাসেমিয়া রোগ সম্পর্কে গণসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য সরকারিভাবে উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান।
ইউডি/এআর

