বিশ্বকাপ জিতে টেন্ডুলকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ স্যামসনের

বিশ্বকাপ জিতে টেন্ডুলকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ স্যামসনের

উত্তরদক্ষিণ। সোমবার, ০৯ মার্চ, ২০২৬, আপডেট ১৩:০০

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টি–টোয়েন্টি সিরিজে বাজে পারফরম্যান্সের পর সঞ্জু স্যামসনের মনে হয়েছিল তার স্বপ্ন ভেঙে গেছে। তবে গত দুই মাসে শচিন টেন্ডুলকারের সঙ্গে নিয়মিত কথা বলাই তাকে আবার ঘুরে দাঁড়ানোর আত্মবিশ্বাস দিয়েছে। ভারতের সফল টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শিরোপা ধরে রাখার অভিযানে টুর্নামেন্টসেরা হওয়ার পর স্যামসন জানান, সিনিয়র ক্রিকেটারদের কাছ থেকে তিনি অনেক পরামর্শ ও সহায়তা পেয়েছেন।

তিনি বলেন, “সত্যি বলতে সিনিয়র অনেক খেলোয়াড়ই আমাকে পরামর্শ দিয়েছেন। অনেক সাবেক ক্রিকেটার আমার সঙ্গে যোগাযোগ করে সাহায্য করার চেষ্টা করেছেন। গত কয়েক মাস ধরে আমি শচিন স্যারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগে ছিলাম। অস্ট্রেলিয়ায় টি–টোয়েন্টি সিরিজে যখন আমি দলে থেকেও খেলতে পারছিলাম না, তখন ভাবছিলাম আসলে কী ধরনের মানসিকতা প্রয়োজন।”

স্যামসন জানান, সেই সময় তিনি নিজেই টেন্ডুলকারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং দীর্ঘ আলোচনা করেন। এমনকি ফাইনালের আগের রাতেও টেন্ডুলকার তাকে ফোন করে খোঁজ নিয়েছিলেন। তার ভাষায়, “তার মতো একজনের কাছ থেকে পরামর্শ পাওয়া- খেলার প্রস্তুতি, পরিষ্কার ভাবনা ও ম্যাচ সম্পর্কে সচেতনতা, এসব আমার জন্য বিশাল ব্যাপার। যারা আমাকে সমর্থন করেছেন তাদের সবার কাছে আমি কৃতজ্ঞ।”

নিউজিল্যান্ড সিরিজে পাঁচ ইনিংসে মাত্র ৪৬ রান করার পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন স্যামসন। পরে একাদশ থেকেও বাদ পড়েন এবং তার জায়গায় সুযোগ পান ইশান কিশান। সুপার এইট পর্যন্ত তাকে আবার সুযোগের জন্য অপেক্ষা করতে হয়। তবে সুযোগ পেয়ে দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়ান তিনি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে কার্যত কোয়ার্টার ফাইনালসম ম্যাচ থেকে শুরু করে টানা তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে করেন ৯৭*, ৮৯ ও ৮৯ রান। মাত্র পাঁচ ম্যাচ খেলেই ৩২১ রান করে তিনি টুর্নামেন্টে তৃতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হন। তার স্ট্রাইক রেট ছিল ১৯৯.৩৭।

স্যামসন বলেন, “নিউজিল্যান্ড সিরিজের পর আমি পুরোপুরি ভেঙে পড়েছিলাম। মনে হয়েছিল আমার স্বপ্ন শেষ হয়ে গেছে। ভাবছিলাম আর কী করতে পারি। কিন্তু ঈশ্বরের পরিকল্পনা অন্য ছিল। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোতে হঠাৎ আবার সুযোগ পেলাম এবং দেশের জন্য যা পারি করেছি। আমি গর্বিত যে স্বপ্ন দেখার সাহস রেখেছিলাম।”

তিনি আরও জানান, এই ঘুরে দাঁড়ানোর প্রক্রিয়া আসলে শুরু হয়েছিল ২০২৪ সালের টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকেই। তখন রোহিত শর্মার অধীনে বিশ্বকাপজয়ী দলে থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ক্যারিবিয়ানে আয়োজিত সেই আসরে তিনি একটি ম্যাচেও খেলতে পারেননি। স্যামসন বলেন, “২০২৪ বিশ্বকাপে আমি কোনো ম্যাচ খেলতে পারিনি, কিন্তু তখন থেকেই স্বপ্ন দেখছিলাম। কল্পনা করতাম যে একদিন এমন পারফরম্যান্স করব। সেই লক্ষ্যেই কঠোর পরিশ্রম করেছি। ঈশ্বরের কৃপায় আজ সবকিছু বদলে গেছে।”

ইউডি/কেএস

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading