সংসদে দেখে দেখে পড়া অ্যালাউড না: স্পিকার
উত্তরদক্ষিণ। রবিবার, ১৫ মার্চ, ২০২৬, আপডেট ১৬:৪৫
জাতীয় সংসদে দেখে দেখে পড়া অ্যালাউড না বলে জানিয়েছেন স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তিনি সংসদ সদস্যদের না দেখে বক্তব্য দেওয়ার অভ্যাস করার অনুরোধ করেন।রোববার (১৫ মার্চ) বেলা ১১টার পর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের দ্বিতীয় দিনের কার্যক্রমে সংসদ সদস্যদের উদ্দেশ করে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে দুই সংসদ সদস্য কাগজ দেখে পুরো বক্তব্য দেন।জামায়াতের সংসদ সদস্য মাসুদ বিন সাঈদীকে উদ্দেশ করে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘বিনয়ের সঙ্গে দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। সংসদে দেখে দেখে পড়া অ্যালাউড না। আপনি নোট রাখবেন। একবার তাকিয়ে হাউসের দিকে তাকিয়ে বক্তব্য রাখবেন।’ইসলামী আন্দোলনের সংসদ সদস্য অলি উল্লাহকে উদ্দেশ করে স্পিকার বলেন, ‘আপনিও আপনার পূর্ববর্তী বক্তার মতো দেখে দেখে পড়েছেন। সংসদে এটা অ্যালাউড না। সংসদে না দেখে বলার অভ্যাস করুন।’তিনি বলেন, এটা সংসদের রেওয়াজ। সবার তা মান্য করা উচিত। সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী লিখিত বক্তব্য পাঠ করার আগে স্পিকারের পূর্বানুমতি নিতে হয়।এর আগে পিরোজপুর-১ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী বলেন, পিরোজপুরের মানুষ শত প্রতিকূলতা ডিঙিয়ে তাকে নির্বাচিত করে যে আমানত দিয়েছেন, তার সর্বোচ্চ মর্যাদা তিনি আজীবন রক্ষা করবেন। একই সঙ্গে তিনি তার পিতা আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর আদর্শ সমুন্নত রেখে এলাকায় উন্নয়ন ও দেশে ইনসাফ কায়েমের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।মাসুদ সাঈদী ভাষা আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের শহীদ আবু সাঈদ ও মুগ্ধসহ সব শহীদের স্মরণ করেন। তিনি বলেন, ‘তথাকথিত ক্যাঙ্গারু ট্রাইব্যুনালে মিথ্যাচারের মাধ্যমে নির্মমভাবে হত্যার শিকার হওয়া আমার সম্মানিত পিতা আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীসহ ইসলামী আন্দোলনের অসংখ্য নেতাকর্মীর রক্তস্নাত ত্যাগের বিনিময়ে আজ আমরা এই সংসদে কথা বলার সুযোগ পেয়েছি।’শিক্ষা ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতার ওপর জোর দিয়ে মাসুদ সাঈদী বলেন, ‘দেশে ইনসাফ কায়েম করতে হলে দুর্নীতিতে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করতে হবে। গত ১৫ বছরে কেবল সড়ক ও জনপথ বিভাগেই ৫২ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত লুটপাট হয়েছে বলে টিআইবির প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।’ তিনি সরকারি সুযোগ-সুবিধা ও শুল্কমুক্ত গাড়ি বর্জনের সংস্কৃতিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার আহ্বান জানান।বিএনপি সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না নেওয়ায় জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে বলে মনে করেন মাসুদ সাঈদী। তিনি বলেন, ‘বিএনপি জুলাই সনদে বিশ্বাসী কিনা, গণঅভ্যুত্থানের গণআকাঙ্ক্ষার প্রতি শ্রদ্ধাশীল কি না, জনগণের প্রত্যাশামতো সংবিধান সংস্কার করে নতুন এক বাংলাদেশ বিনির্মাণ করবে কি না—এ প্রশ্ন জনমনে ঘুরপাক খাচ্ছে। আমরা আশা করি, গণরায়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নেবেন।’
ইউডি/এআর

