ঈদে নিরাপত্তা শঙ্কা নেই, রয়েছে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি: ডিএমপি কমিশনার
উত্তরদক্ষিণ। বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ, ২০২৬, আপডেট ১১:৩০
আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাতে অংশ নিতে জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সকালে ঈদগাহ ময়দানের প্রস্তুতিমূলক কাজ পরিদর্শন শেষে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম গণমাধ্যমকে এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবার জাতীয় ঈদগাহে ঈদের নামাজ আদায়ের বিষয়ে সম্মতি দিয়েছেন। প্রথা অনুযায়ী রাষ্ট্রপতিও এই জামাতে অংশগ্রহণ করবেন।
ফলে দীর্ঘ সময় পর দেশের দুই শীর্ষ ভিভিআইপিকে একই সঙ্গে জাতীয় ঈদগাহের জামাতে নামাজ আদায় করতে দেখা যাবে।এই বিশেষ পরিস্থিতি বিবেচনায় ঈদগাহ ও সংলগ্ন এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা সর্বোচ্চ জোরদার করা হচ্ছে।
জাতীয় ঈদগাহের প্রস্তুতির বিষয়ে মীর শাহে আলম বলেন, ‘ঈদগাহের সার্বিক কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। এবার নারী ও পুরুষ মিলিয়ে প্রায় ৪০ হাজার মুসল্লি যাতে নির্বিঘ্নে নামাজ আদায় করতে পারেন, সেই ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
ওজুখানা থেকে শুরু করে বৃষ্টির পানি নিষ্কাশন—সব দিকেই কড়া নজর দেওয়া হচ্ছে।’যদি প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা ভারী বৃষ্টির কারণে জাতীয় ঈদগাহ ময়দান নামাজ আদায়ের উপযোগী না থাকে, তবে বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসের ওপর ভিত্তি করে প্রশাসন সব ধরনের আগাম প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে বলে প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন।বিগত কয়েক বছরের তুলনায় এবার জাতীয় ঈদগাহে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ এবং নিরাপত্তার সমন্বয় এক নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রাজধানীর জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে পবিত্র ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাতকে কেন্দ্র করে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কয়েক স্তরের কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সকালে জাতীয় ঈদগাহ পরিদর্শন করেন ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার। তিনি সাংবাদিকদের জানান, ঢাকায় ঈদুল ফিতরের জন্য ১২১টি ঈদগাহ ও ১ হাজার ৫৯৯টি মসজিদে মোট ১ হাজার ৭২০টি জামাত অনুষ্ঠিত হবে।
তিনি বলেন, “ঈদকে কেন্দ্র করে কোনও ধরনের নিরাপত্তা শঙ্কা নেই, তবে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।”
জাতীয় ঈদগাহে প্রধান জামাত সকাল সাড়ে ৮টায় হবে, যেখানে ৩৫ হাজারেরও বেশি মুসল্লি নামাজ আদায় করবেন। বায়তুল মোকাররমে পর্যায়ক্রমে পাঁচটি জামাত অনুষ্ঠিত হবে, প্রথম জামাত শুরু হবে সকাল ৭টায়।
এছাড়া আগারগাঁওয়ের পুরাতন বাণিজ্য মেলার মাঠে উত্তর সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে।ডিএমপি কমিশনার জানান, নিরাপত্তার জন্য প্রবেশ গেটে আর্চওয়ে ও মেটাল ডিটেক্টর স্থাপন করা হবে।
জাতীয় ঈদগাহসহ আশেপাশের এলাকায় সিসিটিভি মনিটরিং থাকবে। প্রধান তিনটি সড়ক—মৎস্য ভবন, প্রেস ক্লাব ও শিক্ষাভবন—থেকে ব্যারিকেডের মাধ্যমে গাড়ি প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করা হবে। ঈদগাহের চারপাশে পুলিশের পেট্রোলিং, স্পেশাল ব্রাঞ্চের সুইপিং টিম এবং ডিবি, সোয়াট সদস্যদের অবস্থান থাকবে।
এছাড়া ফায়ার সার্ভিসের ফায়ার টেন্ডার ও মেডিকেল ইমারজেন্সি টিমও প্রস্তুত থাকবে। বায়তুল মোকাররমে আলাদা নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।কমিশনার মুসল্লিদেরও সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়ে তিনি আহ্বান জানান, নিরাপত্তার স্বার্থে তল্লাশিতে সহযোগিতা করতে হবে, নির্ধারিত গেট দিয়ে প্রবেশ করতে হবে এবং সন্দেহজনক কিছু দেখলে ৯৯৯-এ জানাতে হবে।
ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে নির্দিষ্ট ক্রসিং ও রাস্তায় ডাইভারশন থাকবে, মুসল্লিদের পায়ে হেঁটে ঈদগাহে প্রবেশ করতে বলা হয়েছে।
ইউডি/এআর

