শোলাকিয়া ঈদগাহে চার স্তরের নিরাপত্তা
উত্তরদক্ষিণ। শুক্রবার , ২০ মার্চ, ২০২৬, আপডেট ১৪:৪০
পবিত্র ঈদুল ফিতরের জামাতের জন্য প্রস্তুত দেশের বৃহত্তম কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ। এবার শোলাকিয়ায় ১৯৯তম ঈদুল ফিতরের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। শোলাকিয়া ঈদগাহে নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা থাকবে। চার স্তরের নিরাপত্তা বলয়ে ঈদের জামাত সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা ও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হবে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সকাল ১০টায় ঈদের জামাত শুরু হবে। এতে ইমামতি করবেন বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ মাওলানা মুফতি আবুল খায়ের মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ। বিকল্প ইমাম হিসেবে থাকবেন হয়বতনগর এ.ইউ. কামিল মাদ্রাসার তাফসির বিভাগের শিক্ষক মাওলানা যোবায়ের ইবনে আব্দুল হাই।
১৭৫০ সালে প্রতিষ্ঠিত ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহের ঐতিহ্য অনুযায়ী, জামাত শুরুর ১৫ মিনিট আগে তিনটি, ১০ মিনিট আগে দুটি এবং ৫ মিনিট আগে একটি শটগানের গুলি ছুড়ে নামাজের সময়ের সংকেত দেওয়া হবে।
ঈদের জামাত সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে মাঠ প্রস্তুত, পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা, আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ, মুসল্লিদের চিকিৎসাসেবা, আধুনিক শব্দযন্ত্র স্থাপন, মাঠ সজ্জা, সিসি ক্যামেরা স্থাপন, অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা, বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা এবং শহর সজ্জিত করা হয়েছে। ঈদ জামাত টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচার করবে চ্যানেল আই।
জামাতে জায়নামাজ ছাড়া অন্য কিছু সঙ্গে না আনতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ঈদগাহ মাঠের প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে।
বুধবার (১৮ মার্চ) সকালে কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা, পুলিশ সুপার ড. এস.এম. ফরহাদ হোসেন, শোলাকিয়া ঈদগাহের ইমাম আবুল খায়ের মোহাম্মদ সাইফুল্লাহসহ জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ ও র্যাবের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা মাঠের সার্বিক পরিস্থিতি পরিদর্শন করেন।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা বলেন, প্রতিবারের মতো এবারও পবিত্র ঈদুল ফিতরের জামাত সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত হবে। শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠের সব প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন। মুসল্লিদের সুবিধার্থে ঈদের দিন কিশোরগঞ্জ-ময়মনসিংহ ও ভৈরব-কিশোরগঞ্জ রুটে ‘শোলাকিয়া এক্সপ্রেস’ নামে দুটি বিশেষ ট্রেন চলাচল করবে।
পুলিশ সুপার ড. এস. এম. ফরহাদ হোসেন জানান, শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠ নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা থাকবে। চার স্তরের নিরাপত্তা বলয়ে ঈদের জামাত সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা ও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হবে। ড্রোন ক্যামেরা, বাইনোকুলারসহ বিজিবি, র্যাব, পুলিশ ও অন্যান্য গোয়েন্দা বাহিনী মোতায়েন থাকবে। এছাড়াও মাঠে ৬টি ওয়াচ টাওয়ার এবং সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে পুরো মাঠ মনিটরিং করা হবে। এ কাজে পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকেও পুলিশ মোতায়েন থাকবে। ৬টি অ্যাম্বুলেন্সসহ মেডিকেল টিম এবং ফায়ার সার্ভিসের ২টি ইউনিট সার্বক্ষণিক মোতায়েন থাকবে। বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটসহ পুলিশের কুইক রেসপন্স টিম দায়িত্বে থাকবে।
ইউডি/এআর

