সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে চাপ কম, বাড়তি ভাড়া-বৃষ্টিতে ভোগান্তি

সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে চাপ কম, বাড়তি ভাড়া-বৃষ্টিতে ভোগান্তি

উত্তরদক্ষিণ। শুক্রবার , ২০ মার্চ, ২০২৬, আপডেট ১৫:৩৫

পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগের দিন শুক্রবারও থামেনি ঘরমুখো মানুষের স্রোত। তবে আগের দিনের তুলনায় রাজধানীর সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে ভিড় কিছুটা কমেছে। শুক্রবার (২০ মার্চ) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত টার্মিনালে যাত্রীদের আসা-যাওয়া অব্যাহত থাকলেও চাপ তুলনামূলক স্বাভাবিক। তবুও ভোগান্তি যেন পিছু ছাড়ছে না—বাড়তি ভাড়া আর গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিতে দুর্ভোগ বেড়েছে কয়েকগুণ।

সকাল থেকেই বরিশাল, খুলনা, মাদারীপুরসহ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন রুটে যাত্রীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। তবে হুড়োহুড়ি বা উপচে পড়া ভিড় নেই। অনেকেই শেষ মুহূর্তে পরিবার-পরিজনের কাছে ফিরতে ছুটছেন। বাসগুলোও একের পর এক ছেড়ে যাচ্ছে, আবার নতুন যাত্রী এসে ভিড় জমাচ্ছেন কাউন্টারগুলোতে।

যাত্রীদের অভিযোগ, ভিড় কমলেও কমেনি বাড়তি ভাড়া আদায়ের প্রবণতা। বরগুনাগামী যাত্রী ফিরোজ বলেন, ভাড়া ৫০০-৫৫০ টাকা, কিন্তু ৭৫০–৮০০ টাকা ছাড়া টিকিট দিচ্ছে না। ঈদের সময়ের কারণে কিছু বলতেও পারছি না।

একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানান খুলনাগামী যাত্রী ইউসুফ আলী। ক্লান্ত কণ্ঠে তিনি বলেন, সকাল থেকে ৩টা কাউন্টার ঘুরছি। ৬০০ টাকার ভাড়ায় ৩০০ টাকা বেশি চাচ্ছে। শিশু সন্তান আছে, তাই বাধ্য হয়ে বেশি দিয়েই যাচ্ছি।

তবে সব পরিবহনে একই চিত্র নয়। কিছু বাস নির্ধারিত ভাড়াতেই যাত্রী তুলছে। তবুও সামগ্রিকভাবে বাড়তি ভাড়ার বিষয়টি যাত্রীদের জন্য বড় উদ্বেগ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ট্রাফিক পুলিশের কর্মকর্তা শরিফুল হাসান বলেন, আজ যাত্রী চাপ স্বাভাবিক। আমরা নিয়মিত মনিটরিং করছি। অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার প্রমাণ পেলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তিনি জানান, যাত্রীদের অভিযোগ জানাতে উৎসাহিত করা হচ্ছে এবং টার্মিনালে পুলিশের উপস্থিতিও বাড়ানো হয়েছে।

অন্যদিকে পরিবহন মালিকদের পক্ষ থেকে ভাড়ার তারতম্যের ব্যাখ্যাও দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ পরিবহন মালিক সমিতির সদস্য সানোয়ার হোসেন বলেন, ঈদের সময় একমুখী যাত্রীর চাপ থাকে। অনেক বাস খালি ফিরে আসে। আবার কিছু রুটে সরাসরি বাস না থাকায় বিকল্প পথে যাত্রী নিতে হয়। এতে ভাড়ায় কিছুটা পার্থক্য দেখা দেয়।

এর মধ্যেই নতুন করে দুর্ভোগ বাড়িয়েছে আবহাওয়া। দুপুরের দিকে শুরু হওয়া গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিতে কাদা ও পানিতে নাজেহাল হয়েছেন যাত্রী ও বাসকর্মীরা। অনেককে শরীরে ভেজা জামা-কাপড়ে বাসে উঠতে দেখা গেছে। কেউ কেউ ব্যাগ মাথায় দিয়ে দৌড়ে বাসে উঠছেন, আবার বাসের হেলপারদেরও ভেজা অবস্থায় যাত্রী ডাকতে দেখা গেছে।

টার্মিনালের এক পাশে বসে থাকা শ্রমিকের কাজ করা রবিউল ইসলাম বলেন, টাকা বেশি লাগছে, বৃষ্টিও হচ্ছে। কিন্তু না গেলে পরিবার কষ্ট পাবে। তাই কষ্ট করেই যাচ্ছি।

সব মিলিয়ে ঈদের আগের দিন সায়েদাবাদে ভিড় কিছুটা কমলেও মানুষের নাড়ির টান কমেনি একটুও। বাড়তি ভাড়া, অনিশ্চয়তা আর বৃষ্টির ভোগান্তি পেরিয়েই ঘরে ফিরছেন মানুষ। কারণ, এই যাত্রা শুধু পথ পাড়ি দেওয়ার নয়—এটি আপনজনের কাছে ফিরে যাওয়ার এক গভীর টান।

ইউডি/কেএস

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading