ভবিষ্যতের জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় কী পরামর্শ বিশেষজ্ঞের?

ভবিষ্যতের জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় কী পরামর্শ বিশেষজ্ঞের?

উত্তরদক্ষিণ। উত্তরদক্ষিণ। রবিবার, ২৯ মার্চ, ২০২৬, আপডেট ১১:৩৫

জ্বালানি আমদানিতে একদিকে ভোগাচ্ছে দ্বিগুণ ব্যয়, অন্যদিকে সংকট আতংকে বাড়তি চাপে ফিলিং স্টেশন। এমন প্রেক্ষাপটেও অতিরিক্ত নয়, ষান্মাসিক পরিকল্পনার ভিত্তিতেই তেল কেনার কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। তবে ভবিষ্যতের সংকট মোকাবিলায় বাজার বিকেন্দ্রিকরণ ও পরিশোধন প্রতিষ্ঠানে সক্ষমতা বাড়ানোর পরামর্শ বিশেষজ্ঞের।

সরকারিভাবে চুক্তির মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো বিভিন্ন দেশে তেল রফতানি করে। কিন্তু যুদ্ধ পরিস্থিতি আর তেল পরিশোধন প্রতিষ্ঠানগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় কাজে আসছে না জিটুজি চুক্তি। এতে অনিশ্চিত হয়ে গেছে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী সরবরাহের পরিমাণ। তাই চাহিদা মেটাতে আমদানিকারকদের বেশির ভাগই এখন স্পট মার্কেট নির্ভর।

অনেক দেশ সংকট দীর্ঘমেয়াদির আশঙ্কায় জোর দিয়েছে মজুত বৃদ্ধিতে। যদিও এমন প্রেক্ষাপটেও বাংলাদেশ অতিরিক্ত তেল কেনার পথে হাঁটবে না বলে সাফ জানিয়েছে আমদানিকারক সংস্থা বিপিসি।

আমদানিকারক সংস্থাটির চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান বলেন, ‘৬ মাস করে করে প্রোগ্রাম করি। জিটুজি এবং ওপেন কম্পিটিশনের মাধ্যমে এটা নিই। দুটিই ৬ মাস করে করে প্রোগ্রাম করা হয়।’

এদিকে, যুদ্ধের আগে বিশ্ববাজারে যেখানে প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ছিল ৬০ মার্কিন ডলার। বর্তমানে দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১০ ডলারে। যুদ্ধ দীর্ঘ হলে লাগামহীন হবে অপরিহার্য এই তেলের বাজার। শঙ্কা জানিয়ে এমন প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক একক আমদানি নির্ভরতা থেকে বেরিয়ে আসার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের।

সাপ্লাই চেইন বিশেষজ্ঞ মো. মুজিবুল হক বলেন, ‘রাশিয়ার সঙ্গে যখন ইউরোপের সমস্যা হচ্ছিল, তখন তারা কাতারের সঙ্গে চুক্তি করে। কাতারের সঙ্গে তারা এমনভাবে চুক্তি করলো, যাতে রাশিয়ার পুরোটা বন্ধ করে দেয়া হলো। এখন তাদের এরইমধ্যে যুদ্ধের প্রথম দিন ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ গ্যাসের দাম বেড়ে গেল। সুতরাং, এটা খুবই ক্ষতিকর। ব্যালেন্সটা এমন কৌশলগতভাবে করতে হবে, যাতে সাপ্লাই চেইন স্মুথ থাকে।’

দেশীয় প্রতিষ্ঠানের তেল পরিশোধন সক্ষমতা বাড়ানোর দিকেও জোর দিচ্ছেন এই বিশেষজ্ঞ। তিনি বলেন, ‘আমাদের রিফাইনারি ইন্ডাস্ট্রিতে বিনিয়োগ আসা উচিত। সেটা বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে বাংলাদেশ সরকার অথবা বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে বাংলাদেশের কোম্পানির হোক। আমাদের নেগোসিয়েশন দক্ষতাও অনেক দুর্বল। এ বিষয়ে আমাদের সরকারকে আরও দূরদর্শী হতে হবে।’

তথ্য বলছে, চলতি বছরে বিভিন্ন ক্যটাগরির ৬৫ থেকে ৭০ লাখ মেট্রিক টন জ্বালানি কেনার লক্ষ্য বিপিসির। ছয় মাসে যার পরিমাণ দাঁড়ায় ৩২ থেকে ৩৫ লাখ মেট্রিক টন। অতিরিক্ত না কিনে সাশ্রয়ী নীতির অংশ হিসেবে গ্রাহক পর্যায়ে তেলের রেশনিং উঠিয়ে দিলেও ব্যবহার কমাতে ফিলিং স্টেশনগুলোতে কিছুটা রেশনিং করছে বিপিসি।

ইউডি/কেএস

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading