তেল বিক্রি ও মজুতে স্বচ্ছতা আনতে সরকারের ১৩ নির্দেশনা জারি
উত্তরদক্ষিণ। রবিবার, ২৯ মার্চ, ২০২৬, আপডেট ১৫:২০
দেশের জ্বালানি ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়ন এবং তেলের অবৈধ মজুদ ও কালোবাজারি চিরতরে বন্ধ করতে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। এখন থেকে দেশের প্রতিটি ফিলিং স্টেশনে সার্বক্ষণিক তদারকির জন্য বিশেষ ‘ট্যাগ অফিসার’ নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের অনলাইন সভায় এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
নতুন এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ট্যাগ অফিসাররা প্রতিটি পাম্পের তেলের মজুদ, ডিপো থেকে আসা সরবরাহের সঠিক পরিমাপ এবং দৈনিক বিক্রির হিসাব সরাসরি তদারকি করবেন।
কোনো পাম্পে জ্বালানি তেল আসার ১ ঘণ্টার মধ্যে তা খুচরা বিক্রি শুরু করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
এই নিয়ম লঙ্ঘন করলে প্রথমবার সতর্কতা, দ্বিতীয়বার মোবাইল কোর্ট এবং তৃতীয়বার পাম্পের কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করার মতো কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।
সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, ট্যাগ অফিসাররা পাম্পগুলোতে মূলত নিচের কাজগুলো সম্পাদন করবেন-ফিলিং স্টেশনের দৈনিক প্রারম্ভিক মজুদ রেকর্ডভুক্ত করা।
ডিপো হতে সরবরাহকৃত জ্বালানি তেল স্ব স্ব ফিলিং স্টেশনে উপস্থিত হয়ে পরিমাপপূর্বক গ্রহণ করা এবং ফিলিং স্টেশনের পে-অর্ডার ও ডিপোর চালান/ রিসিটের সঙ্গে তেলের পরিমাণ মিলিয়ে দেখা।স্ব স্ব ফিলিং স্টেশনে ডিপ পোড/ডিপ ইস্টিক-এর মাধ্যমে সরবরাহকৃত জ্বালানি তেল বুঝে নেওয়া।
ফিলিং স্টেশনে সংরক্ষিত রেজিস্ট্রারে ডিপো থেকে দৈনিক জ্বালানি তেল গ্রহণের হিসাব লিপিবদ্ধ হয়েছে কি না তা মনিটর করা।
ফিলিং স্টেশনের ডিসপেন্সিং মেশিনের দৈনিক মিটার রিডিং সংক্রান্ত রেজিস্ট্রার পর্যবেক্ষণ করে দৈনিক বিক্রয়ের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা।
দৈনিক বিক্রয় শেষে ফিলিং স্টেশনের সমাপনী মজুদ পর্যালোচনা।ফিলিং স্টেশনের ডিসপেন্সিং মেশিনের পরিমাপ যথাযথ হচ্ছে কিনা তা নিয়মিত তদারকি করা।
ফিলিং স্টেশন অনুমোদন প্রাপ্তির সময় বিস্ফোরক পরিদপ্তর হতে অনুমোদিত লে-আউট প্ল্যানে পণ্যভিত্তিক মজুদ ক্ষমতার তথ্য এবং বিদ্যমান মজুদ ক্ষমতার তথ্য যাচাই করা।
ফিলিং স্টেশনের আশেপাশে অননুমোদিত কোন ট্যাংক/স্থাপনা আছে কিনা তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা।ডিপো-থেকে-পাম্প-, পাম্প থেকে-ভোক্তা সরবরাহ ব্যবস্থাকে দৃশ্যমান করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা।প্রতিটি ডিপো, ট্যাংকার, পাম্প এবং খুচরা বিক্রির তথ্য একত্রে পর্যবেক্ষণ করা এবং প্রতিটি পাম্পে দিনে অন্তত ৩ বার (সকাল, দুপুর, সন্ধ্যা) স্টক আপডেট বাধ্যতামূলক করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা।
ডিপো থেকে জ্বালানি নেওয়ার পর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে খুচরা বিক্রি শুরু না করলে তা লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য করতে হবে। উদাহরণস্বরূপ, জ্বালানি গ্রহণের ১ ঘণ্টার মধ্যে বিক্রি শুরু বাধ্যতামূলক করতে হবে। প্রথমবার সতর্কতা, দ্বিতীয়বার মোবাইল কোর্ট, তৃতীয়বার সাময়িক স্থগিতাদেশ ইত্যাদির জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা।পাম্প খোলা আছে কিনা, স্টক রেজিস্টার সঠিক আছে কিনা, ডিসপ্লে বোর্ড আছে কিনা, ক্যাশ মেমো দেওয়া হচ্ছে কিনা, নির্ধারিত সীমা মানা হচ্ছে কিনা, কন্টেইনারে অবৈধ বিক্রি হচ্ছে কিনা, সারি ব্যবস্থাপনা কেমন—এসব বিষয় জিও-ট্যাগ প্রমাণসহ রিপোর্ট করা।
জ্বালানি বিভাগ সূত্র জানায়, ডিপো থেকে পাম্প এবং পাম্প থেকে ভোক্তা পর্যন্ত পুরো সরবরাহ ব্যবস্থাকে দৃশ্যমান করতেই এই উদ্যোগ।এর ফলে পাম্প মালিকদের তেল লুকিয়ে রাখা বা কৃত্রিম সংকট তৈরির পথ বন্ধ হবে। প্রতিটি ডিপো, ট্যাংকার ও পাম্পের তথ্য এখন থেকে একীভূতভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে, যা জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বড় ভূমিকা রাখবে।খুব শীঘ্রই দেশের প্রতিটি জেলায় এই ‘ট্যাগ অফিসার’ নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে জানা গেছে।
ইউডি/এআর

