এপ্রিলে বাড়ছে না জ্বালানি তেলের দাম

এপ্রিলে বাড়ছে না জ্বালানি তেলের দাম

উত্তরদক্ষিণ। মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ, ২০২৬, আপডেট ১৭:৩০

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সংকটের মধ্যেও জ্বালানি তেলের দাম না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এপ্রিল মাসেও দেশে বর্তমান দামেই বিক্রি হবে জ্বালানি তেল।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রায় এক মাস ধরে ইরানে ইসরায়েল ও আমেরিকা একযোগে হামলা চালাচ্ছে। ইরানও পাল্টা জবাব দিচ্ছে। এতে যুদ্ধ পরিস্থিতি ছড়িয়ে পড়েছে পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে। এই অবস্থায় আন্তর্জাতিক বাজারে হু হু করে বাড়ছে জ্বালানি তেলের দাম। হরমুজ প্রণালিতে ইরান নিয়ন্ত্রণ নেওয়ায় জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটছে। এই অবস্থায় সারা বিশ্বেই প্রকট আকার ধারণ করছে জ্বালানি সংকট। বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়।

বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় এসেছে প্রায় দেড় মাস হলো। ইতোমধ্যে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই মুহূর্তে জ্বালানি তেলের দাম না বাড়ানোর নির্দেশনা দেন।

সরকার প্রতি মাসে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করে। সে হিসেবে আজ মঙ্গলবার এপ্রিল মাসের দাম সমন্বয় করার ঘোষণা দেওয়া হয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশেও অতি গুরুত্বপূর্ণ পণ্যটির দাম বাড়তে পারে এমন আশঙ্কা ছিল জনমনে। তবে শেষ পর্যন্ত সরকার জনগণকে স্বস্তি দিলো। আপাতত আগামী এক মাস জ্বালানি তেলের দাম বাড়ছে না।

এদিকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ও যুগ্মসচিব মনির হোসেন চৌধুরী মঙ্গলবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দেশের জ্বালানি পরিস্থিতি তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, বর্তমানে দেশে জ্বালানি তেলের মজুত পরিস্থিতিও স্থিতিশীল রয়েছে। দেশে ডিজেলের মজুত রয়েছে ১ লাখ ২৮ হাজার ৯৩৯ টন, অকটেন ৭ হাজার ৯৪০ টন এবং পেট্রোল ১১ হাজার ৪৩১ টন। এছাড়া জেট ফুয়েলের মজুত রয়েছে ৪৪ হাজার ৬০৯ টন। সর্বমোট এক লাখ ৯২ হাজার ৯১৯ টন।

যুগ্ম সচিব বলেন, ‘নিয়মিত আমদানির মাধ্যমে জ্বালানির সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে। সামনে হজ মৌসুমকে সামনে রেখে জেট ফুয়েলের মজুত পরিস্থিতিও বিবেচনায় রেখে পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।’

মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘এসব পরিসংখ্যান থেকে দেশে বিভিন্ন স্থানে অবৈধ জ্বালানি মজুতের ব্যাপকতা স্পষ্ট হয়ে উঠছে। এদিন সারাদেশে মোট ৩৯১টি অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসব অভিযানে ১৯১টি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং ৯ লাখ ৩ হাজার ৫৭০ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া তিনজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সাতক্ষীরায় এক ব্যক্তিকে দুই বছর, চাঁদপুরে এক বছর এবং অন্য এক স্থানে এক মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।’

ইউডি/রেজা

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading