মহাকাশে নতুন ইতিহাস: ৫০ বছর পর চাঁদের পথে মানুষ
উত্তরদক্ষিণ। বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল, ২০২৬, আপডেট ১১:২০
চার নভোচারী নিয়ে নাসার আর্টেমিস-২ নভোযান চাঁদের দিকে রওনা দিয়েছে। বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার রাত ২টার দিকে আমেরিকার ফ্লোরিডার কেনেডি মহাকাশ কেন্দ্র থেকে আর্টেমিস-২ তার যাত্রা শুরু করে। গত ৫৩ বছরের মধ্যে এটি চাঁদের দিকে মানুষের প্রথম যাত্রা।
এই চার নভোচারী মোট ১০ দিনের মিশনে মহাকাশে অবস্থান করবেন। এ সময় তারা পৃথিবীর চারদিকে ঘুরে চাঁদের দিকে যাবেন। এরপর চাঁদকে একবার প্রদক্ষিণ করে আবার পৃথিবীতে ফিরে আসবেন। এটি চন্দ্রাভিযান হলেও নভোচারীদের কেউ চাঁদে পা রাখবেন না।
এবারের চন্দ্রাভিযানে গেছেন নাসার রেইড ওয়াইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার এবং ক্রিস্টিনা কোচ। তাদের সঙ্গে আছেন কানাডা মহাকাশ সংস্থার জেরেমি হানসেন। তিনি প্রথম কানাডিয়ান হিসেবে চাঁদের দিকে গেছেন।
যাত্রা শুরুর পর এসএলএস রকেটটির উপরের অংশ নভোচারীদের ক্যাপসুল থেকে আলাদা হয়। এরমাধ্যমে ওরিয়ন ক্যাপসুলটির ৭০ মিনিটের টেস্ট ড্রাইভ শুরু হয়।
এদিকে গত ৫৩ বছরের মধ্যে এবারই প্রথমবারের মতো মানুষ চাঁদের কাছে যাচ্ছেন। এবারের এই মিশনে নভোচারীরা পৃথিবী থেকে এতটা দূরে যাবেন যে, এর আগে কোনো মানুষ এতটা দূরে যাননি। এরমাধ্যমে অ্যাপেলোর দূরত্বের রেকর্ড ভেঙে যাবে। আর্টেমিস-২ এর নভোচারীরা চাঁদের নিম্নকক্ষ ছাড়িয়ে আরও দূরে ভ্রমণ করবেন।
২০২৮ সালে আবারও চাঁদের মানুষ পাঠানোর পরিকল্পনা করছে নাসা। আজকে থেকে শুরু হওয়া আর্টেমিস-২ মিশনের মাধ্যমে মূলত ওই মিশনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
নাসার আর্টেমিস কর্মসূচি কী?
নাসার কয়েক দশকের একটি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা হলো আর্টেমিস। ১৯৭২ সালের পর আবারও মানুষকে চাঁদে পাঠানো, সেখানে দীর্ঘমেয়াদী ঘাঁটি তৈরি এবং ভবিষ্যতে মঙ্গল গ্রহে মানুষের অভিযানের পথ প্রশস্ত করার উদ্দেশে এই প্রকল্প হাতে নিয়ে নাসা।
বর্তমানে পাঁচটি মিশনে এই কর্মসূচিকে বিভক্ত করেছে নাসা। সেগুলো হলো আর্টেমিস ১, ২, ৩, ৪ এবং ৫।
আর্টেমিস-১ ছিল একটি চালকহীন পরীক্ষামূলক ফ্লাইট; যা ২০২২ সালের ১৬ নভেম্বর উৎক্ষেপণ করা হয় এবং ২৫ দিন স্থায়ী হয়েছিল। এটি সফলভাবে ওরিয়ন মহাকাশযানকে পৃথিবীর কক্ষপথে স্থাপন এবং আর্টেমিস-২ এর জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সরবরাহ করে।
সূত্র: সিএনএন
ইউডি/কেএস

