ঢাবির সনদ যাচাই ফি নিয়ে বিতর্কে প্রশাসনের ব্যাখ্যা

ঢাবির সনদ যাচাই ফি নিয়ে বিতর্কে প্রশাসনের ব্যাখ্যা

উত্তরদক্ষিণ। সোমবার, ০৬ এপ্রিল, ২০২৬, আপডেট ০৮:০০

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) প্রাক্তন শিক্ষার্থী জিনিয়া তাসনিমের সনদপত্র যাচাইয়ের ফি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে আলোচনার বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বিষয়টি উদ্দেশ্যমূলকভাবে উপস্থাপন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম ক্ষুণ্ন করা হয়েছে বলে দাবি করেছে প্রশাসন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলামের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কোনো বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় সরাসরি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সনদ যাচাইয়ের জন্য যোগাযোগ করে না। সাধারণত তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এই যাচাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।

ইউরোপ ও আমেরিকাসহ বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার জন্য আবেদন করার পর সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ওয়ার্ল্ড এডুকেশন সার্ভিসেস (ডব্লিউইএস), ফার্স্ট অ্যাডভান্টেজ, কোয়ালিফিকেশন চেক, ডেটা ফ্লো, এএমএস ইন্ডিয়া ও ইউনিভার্সাল হিউম্যান রিসোর্সেসের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সনদ যাচাই করে থাকে।

এ ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরা নির্ধারিত ফি দিয়ে মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে আবেদন করেন। পরে ওই প্রতিষ্ঠান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে সনদ যাচাইয়ের জন্য ইমেইল পাঠায়।

ঢাবি কর্তৃপক্ষ জানায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের ২০১৫ সালের ২২ নভেম্বরের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সনদ যাচাইয়ের জন্য জনপ্রতি ৫০ মার্কিন ডলার ফি নির্ধারিত রয়েছে। এই ফি কোনো বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় দেয় না; মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানই তা প্রদান করে।

ফি পাওয়ার পর পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরে সনদ যাচাই করা হয় এবং পরে রেজিস্ট্রার অফিস থেকে ইমেইলের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে যাচাই প্রতিবেদন পাঠানো হয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচিত জিনিয়া তাসনিমের সনদ যাচাই ব্যর্থ হওয়ার বিষয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, তার সনদ যাচাইয়ের জন্য মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠান ‘ইউএইচআর’ গত ৪ মার্চ ২০২৬ তারিখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইমেইল পাঠালেও নির্ধারিত ফি জমা দেয়নি। এ কারণে ফিরতি ইমেইলে তাদের কাছে ফি চাওয়া হয়েছিল।

কোনো মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠান ফি না দিলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থী নিজ দায়িত্বে সোনালী ব্যাংকের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখায় ফি জমা দিতে পারেন। এরপর স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় সনদ যাচাই সম্পন্ন করা হয় বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

নাফিজ বশির আলিফ নামের আরেক শিক্ষার্থীর দাবির প্রসঙ্গে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ইতালির বোলোনিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাঠানো কোনো ইমেইলের জবাব দেওয়া হয়নি—এ অভিযোগও সত্য নয়। এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো ইমেইল আসেনি বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

এ বিষয়ে নাফিজ গণমাধ্যমকে জানান, তিনি এখনো অষ্টম সেমিস্টারের শিক্ষার্থী এবং তাকে প্রাক্তন শিক্ষার্থী হিসেবে উল্লেখ করা সঠিক নয়। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত ইমেইল ও ফোন নম্বর বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যাও দাবি করেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সবশেষে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর ও অসত্য তথ্য প্রচারের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা হয়েছে। এ ধরনের উদ্দেশ্যমূলক প্রচারণা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

উল্লেখ্য, জিনিয়া তাসনিমের সুইডেনের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার স্বপ্ন সনদ যাচাই প্রক্রিয়ার জটিলতার কারণে ভেঙে যায়। প্রায় ২০ হাজার টাকা ব্যয় করে আবেদন করলেও পুরো প্রক্রিয়াটি সনদ যাচাইয়ের কারণে ভেস্তে যায়।

এদিকে নাফিজ বশির আলিফও প্রশাসনিক অবহেলার কারণে বিদেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন। তিনি দাবি করেন, ইতালির বোলোনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করার পর শিক্ষার্থী অবস্থান যাচাইয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। একই ধরনের সমস্যায় আরও শিক্ষার্থী বিদেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ হারাচ্ছেন বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

ইউডি/কেএস

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading