দেড় মাস বন্ধ থাকার পর ডলার কিনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক

দেড় মাস বন্ধ থাকার পর ডলার কিনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক

উত্তরদক্ষিণ। বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬, আপডেট ১৩:১৩

দীর্ঘ প্রায় দেড় মাস বিরতির পর আবারও বাজার থেকে ৭ কোটি ডলার কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গতকাল বুধবার একটি ব্যাংক থেকে প্রতি ডলার ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা দরে এই ডলার কেনা হয়। এর আগে সর্বশেষ ২ মার্চ কেন্দ্রীয় ব্যাংক আড়াই কোটি ডলার কিনেছিল, তখন দর ছিল ১২২ টাকা ৩০ পয়সা।

চলতি অর্থবছরে এ পর্যন্ত বিভিন্ন ব্যাংক থেকে মোট ৫৫৬ কোটি ৩৫ লাখ ডলার কিনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর ফলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আবারও ৩০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে।

আন্তর্জাতিক মানদণ্ড (বিপিএম-৬) অনুযায়ী রিজার্ভ এখন ৩০ দশমিক ২০ বিলিয়ন ডলার এবং গ্রস রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৪ দশমিক ৮৭ বিলিয়ন ডলার।

ডলার কেনার ফলে বাজারে টাকার প্রবাহও বেড়েছে। সর্বশেষ কেনাকাটার বিপরীতে প্রায় ৮৫৯ কোটি টাকা বাজারে ছাড়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর আগে ২ মার্চ পর্যন্ত ডলার কেনার বিপরীতে ব্যাংকগুলোতে ৬৭ হাজার কোটি টাকার বেশি সরবরাহ করা হয়েছিল, যা ব্যাংক খাতে তারল্য বাড়াতে ভূমিকা রাখে।

ডলার বাজারে গত কয়েক মাসে কিছুটা ওঠানামা দেখা গেলেও সামগ্রিকভাবে স্থিতিশীলতা বজায় ছিল। তবে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাবে মার্চের শুরুতে ডলারের দর কিছুটা বাড়তে শুরু করে।

দীর্ঘদিন ১২২ টাকা ২৫–৩০ পয়সার মধ্যে থাকা দর মার্চের মাঝামাঝি ১২২ টাকা ৭৫ পয়সায় ওঠে। এরপর কেন্দ্রীয় ব্যাংক কিছুদিন বাজার থেকে ডলার কেনা স্থগিত রাখে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, আন্তঃব্যাংক বাজারে বর্তমানে প্রতি ডলার ১২২ টাকা ৮৪ থেকে ১২২ টাকা ৮৮ পয়সার মধ্যে লেনদেন হচ্ছে, যা কয়েকদিন আগের তুলনায় কিছুটা কম।

এদিকে আমদানি ব্যয় বাড়লেও রপ্তানি আয় কমে যাওয়ায় বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে ফেব্রুয়ারি শেষে প্রায় ১৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। তবে আশঙ্কার বিপরীতে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স প্রবাহ শক্ত অবস্থানে রয়েছে, যা ডলার বাজারে চাপ কমাতে সহায়ক হচ্ছে।

চলতি এপ্রিল মাসের প্রথম ১৪ দিনে ব্যাংকিং চ্যানেলে প্রায় ১৬১ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২৫ শতাংশ বেশি। আর চলতি অর্থবছরের এ পর্যন্ত মোট রেমিট্যান্স দাঁড়িয়েছে ২৭৮২ কোটি ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ২০ দশমিক ৬০ শতাংশ বেশি।

বিশ্লেষকদের মতে, রেমিট্যান্সের এই ইতিবাচক প্রবাহ এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সতর্ক হস্তক্ষেপ ডলার বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তবে বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা, আমদানি ব্যয় এবং ঋণ পরিশোধের চাপ বিবেচনায় বাজার পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি ঝুঁকিমুক্ত নয়।

ইউডি/রেজা

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading