অসম বাণিজ্য চুক্তি দেশের অর্থনীতি ও সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি: বাংলাদেশ যুব মৈত্রী
উত্তরদক্ষিণ। রবিবার, ১০ মে, ২০২৬, আপডেট ১৯:৩৪
আমেরিকার সঙ্গে সম্পাদিত সাম্প্রতিক বাণিজ্য চুক্তিকে “অসম, অগণতান্ত্রিক ও জাতীয় স্বার্থবিরোধী” আখ্যা দিয়ে এর তীব্র বিরোধিতা করেছে বাংলাদেশ যুব মৈত্রী। সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি তৌহিদুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক তাপস দাস এক যৌথ বিবৃতিতে এ অবস্থান তুলে ধরেন।
বিবৃতিতে নেতৃদ্বয় বলেন, চুক্তির আওতায় বাংলাদেশকে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ গম, সয়া, তুলা ও বিভিন্ন কৃষিপণ্য আমদানিতে বাধ্য করা হতে পারে, যা দেশের কৃষি অর্থনীতি ও খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়াবে। এতে স্থানীয় কৃষক ও উৎপাদকরা বহুজাতিক কোম্পানির সঙ্গে অসম প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন এবং দীর্ঘমেয়াদে দেশ কৃষিনির্ভর সক্ষমতা হারানোর ঝুঁকিতে পড়বে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, অশুল্ক বাধা কমানোর শর্ত দেশীয় শিল্পখাত, বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করবে। বিদেশি পুঁজি ও প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিষ্ঠানগুলো বাজার দখল করলে বেকারত্ব বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক বৈষম্য আরও তীব্র হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়।
বিবৃতিতে জ্বালানি, টেলিযোগাযোগ, বীমা ও খনিজ সম্পদ খাতে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য অতিরিক্ত সুযোগ সৃষ্টি জাতীয় অর্থনৈতিক নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলে উল্লেখ করা হয়। একই সঙ্গে তথাকথিত “নন-মার্কেট কান্ট্রি” সম্পর্কিত ধারা বাংলাদেশের স্বাধীন বাণিজ্যনীতি ও কূটনৈতিক ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে বলেও মন্তব্য করেন নেতারা।
তাদের দাবি, পারমাণবিক জ্বালানি ও প্রযুক্তি খাতে সম্ভাব্য বিধিনিষেধ দেশের উন্নয়ন ও জ্বালানি নিরাপত্তার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এছাড়া জনগণ, সংসদ ও বিশেষজ্ঞদের মতামত উপেক্ষা করে গোপনীয়তার মাধ্যমে এমন গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি সম্পাদন গণতান্ত্রিক চর্চার পরিপন্থি বলেও তারা উল্লেখ করেন।
বিবৃতিতে অবিলম্বে চুক্তির সব ধারা জনসম্মুখে প্রকাশ, জাতীয় সংসদে পূর্ণাঙ্গ আলোচনা এবং জাতীয় স্বার্থবিরোধী শর্তসমূহ পুনর্বিবেচনার দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে কৃষি, শিল্প, জ্বালানি ও অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক শক্তি, তরুণ সমাজ ও সচেতন জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
ইউডি/রেজা

