গাজীপুরে ৫ হত্যা: পদ্মা সেতু থেকে ঝাঁপ দিয়ে ‘আত্মহত্যা’ করেছে ফোরকান?

গাজীপুরে ৫ হত্যা: পদ্মা সেতু থেকে ঝাঁপ দিয়ে ‘আত্মহত্যা’ করেছে ফোরকান?

উত্তরদক্ষিণ। বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২৬, আপডেট ১৯:১৩

গাজীপুরের কাপাসিয়ায় স্ত্রী-সন্তানসহ পাঁচ জনকে হত্যার ঘটনায় পলাতক স্বামী ফোরকান মোল্লার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি উদ্ধারের কথা জানিয়েছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বিকাল পৌনে ৪টায় গাজীপুর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সভাকক্ষে সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মো. শরিফ উদ্দীন এ তথ্য জানান।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, সোমবার মেহেরপুর সদর থানা এলাকা থেকে আসামি ফোরকানের ব্যবহৃত মোবাইলটি উদ্ধার করা হয়। এদিন সকাল ৬টা ৫০ মিনিটে ট্রাক চালকের একজন সহকারী পদ্মা সেতুর মাঝামাঝি স্থানে রেলিংয়ের পাশে মোবাইটি পড়ে থাকতে দেখে তুলে নেন। তারপর সেটি নিয়ে তিনি মেহেরপুরে চলে যান। পুলিশ তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তার সেটি উদ্ধার করে। তবে তার লাশ পাওয়া যায়নি।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার বলেন, ‌‌‘ঘটনার পর থেকেই আমাদের তিনটি টিম অভিযানে নামে। গোয়েন্দা (ডিবি) টিম চলে যায় গোপালগঞ্জে। জেলা পুলিশের আরেকটি টিম চলে যায় যশোরের বেনাপোলে। যেন সে দেশের বাইরে চলে যেতে না পারে এবং কাপাসিয়াতে একটি টিম কাজ করে। এর মধ্যে আমাদের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সংস্থায় জানিয়ে দিই যাতে বর্ডার ক্রস করতে না পারে। আমাদের কাছে তথ্য ছিল সে বেনাপোল দিলে চলে যেতে পারে। মেহেরপুর থেকে বাসের একজন হেলপারের কাছ থেকে আমরা তার ব্যবহৃত মোবাইল উদ্ধার করি। যে হেলপারের কাছ থেকে মোবাইল উদ্ধার করা হয়েছে, সে বাস থেকে পদ্মা সেতুর ওপর মোবাইল পড়ে থাকতে দেখে নিয়ে যায়। জিজ্ঞাসাবাদে হেলপার জানায় পদ্মা সেতুতে মোবাইল পেয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে আমাদের টিম পদ্মা সেতুতে যায় এবং সিসিটিভির ভিডিও ফুটেজ দেখে জানতে পারে প্রাইভেটকার থেকে কোন এক ব্যক্তি পদ্মা সেতুতে নামছে। নামার পর তার হাত থেকে মোবাইল এবং ব্যাগটি রাখছে। নামার পর সে দেড় থেকে দুই মিনিট অপেক্ষা করে। ঘটনার দিন সকাল ৬টা ৪৫ মিনিটে পদ্মা সেতুর র‌্যালিংয়ের ওপরে উঠে নদীতে ঝাঁপ দেয় সে। তবে ঝাঁপ দেওয়া ব্যক্তি ফোরকান কিনা সেটা আমরা নিশ্চিত হতে পারিনি। আমরা ভিডিও ফুটেজে এ পর্যন্ত পেয়েছি। মোবাইলটি যখন সেতুতে রাখে তখন আমরা সিসিটিভি ফুটেজে প্রাইভেটকার শনাক্ত করেছি এবং চালকের সঙ্গে কথাও বলেছি। ধারণা করা হয়, আসামি ফোরকান পূর্বপরিকল্পিতভাবে পাঁচ জনকে হত্যার পর নিজে আত্মহত্যার উদ্দেশে পদ্মা সেতু থেকে পদ্মা নদীতে ঝাঁপ দিয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘পরবর্তীতে ওই ভিডিও ফুটেজ মামলার বাদী শাহাদাত মোল্লা, বাদীর দুই ছেলে এবং তাদের ৮ থেকে ১০ জন স্বজনকে দেখানো হয়। দেখানোর পর তাদের বলা হয় ওই ব্যক্তি ফোরকান কিনা। তারা বলেছেন শিউর নয়। পোশাক দেখেও তারা নিশ্চিত করতে পারেননি। তবে তারা ধারণা করছেন ফোরকান, কিন্তু শিউর না। আমরাও শিউর না। এরপর ফোরকানের ভাই জব্বারকে আমরা জিজ্ঞাসা করি এবং তাদের গ্রামের স্থানীয় মেম্বারকে জিজ্ঞাসা করি। তারাও বলে আমরা ধারণা করছি, ফোরকান। কিন্তু শিউর না।’

তিনি বলেন, ‘মোবাইলটি ফোরকানের এটা আমরা নিশ্চিত এবং এক ব্যক্তি পদ্মা সেতু থেকে ঝাঁপ দিয়েছে এটাও নিশ্চিত। মোবাইল পাওয়া গেলেও আমরা তার ব্যাগ পাইনি। আমরা সব থানায় মেসেজ দিয়েছি যতক্ষণ পর্যন্ত লাশ না পাবো এবং ওই লাশের ডিএনএ টেস্ট করে নিশ্চিত হতে না পারবো, ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা বলতে পারবো না ওই ব্যক্তিই ফোরকান।’

তিনি বলেন, ‘ওই দিন সকালে আত্মীয় মারা যাওয়ার কথা বলে ঢাকার পল্টন এলাকার রেন্ট-এ কার থেকে প্রাইভেটকার ভাড়া করেছিল ফোরকান। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায় প্রাইভেটকার থেকে নেমে কারটি ছেড়ে দেয়। তবে হত্যাকাণ্ড ঘটানোর পর ফোরকান কাপাসিয়া থেকে কীভাবে পল্টন পর্যন্ত গিয়েছে, সেটা পুলিশ পায়নি। আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে। আমাদের টিম এখনও মাঠে আছে। যেভাবেই হোক ফোরকানকে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। আমরা এখন পর্যন্ত তদন্তে এ ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত হিসেবে শুধু ফোরকানকেই পাচ্ছি। অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা পাচ্ছি না।’

গত শনিবার সকালে কাপাসিয়ার রাউৎকোনা গ্রামে একটি বহুতল বাড়ি থেকে ওই পাঁচ জনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তারা হলেন গোপালগঞ্জ সদরের পাইককান্দি গ্রামের শাহাদাত হোসেন মোল্লার মেয়ে শারমিন খানম (৩০), নাতনি মীম খানম (১৫), উম্মে হাবিবা (৮), ফারিয়া (দেড় বছর) ও ছেলে রসুল মোল্লা (২৩)।

ইউডি/রেজা

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading