নাইক্ষ্যংছড়িতে মা হাতির মৃত্যু, শোক জানাতে লোকালয়ে বন্য হাতির দল

নাইক্ষ্যংছড়িতে মা হাতির মৃত্যু, শোক জানাতে লোকালয়ে বন্য হাতির দল

উত্তরদক্ষিণ। রবিবার, ১৭ মে, ২০২৬, আপডেট ১৬:২৩

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় খাদ্যের অভাবে অসুস্থ হয়ে একটি মা হাতি মারা গেছে। আর এই মৃত হাতিটিকে দেখতে ও যেন শেষ ‘শোক জানাতে’ লোকালয়ে ছুটে এসেছে একদল বন্য হাতি।

রবিবার (১৭ মে) ভোরে উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী কাগজিখোলা লম্বা হাকখোলা পূর্ণ গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। বিরল ও আবেগঘন এই দৃশ্য দেখতে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (১৬ মে) সকাল থেকে কাগজিখোলা এলাকার নূর মোহাম্মদের বাড়ির পশ্চিম পাশে একটি মা হাতিকে অসুস্থ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। হাতিটির পাশে তার একটি ছোট শাবকও ছিল। মা হাতিটি অসুস্থ হয়ে পড়ায় শাবকটি তাকে আগলে রাখছিল।

স্থানীয় বাসিন্দা নূর মোহাম্মদ বলেন, ‘শনিবার সকাল থেকে হাতিটাকে অসুস্থ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখি। পাশে ছোট বাচ্চাটাও ছিল। মানুষ কাছে গেলেই শাবকটি ভয় পেয়ে চিৎকার করছিল। দৃশ্যটি খুবই হৃদয়বিদারক ছিল।’

আরেক বাসিন্দা ফয়েজ আহমেদ জানান, হাতিটির এই অবস্থা দেখে তারা দ্রুত বন বিভাগকে খবর দেন। পরে কক্সবাজারের ঈদগাঁও থেকে বন বিভাগের কর্মকর্তারা স্থানীয়দের সহায়তায় হাতিটিকে চিকিৎসা দেওয়া শুরু করেন।

ঈদগাঁও বন বিভাগ রেঞ্জ কর্মকর্তা উজ্জ্বল বলেন, ‘ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ওষুধ এনে হাতিটিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিল। তবে হাতিটির শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত দুর্বল ছিল। রাত ১২টার দিকে হাতিটি মারা যায়। মৃত হাতিটির নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে, তা ল্যাবে পাঠিয়ে মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ণয় করা হবে।’

স্থানীয়রা জানান, মা হাতিটির মৃত্যুর কিছুক্ষণ পরই গভীর রাতে প্রায় ১৫ থেকে ২০টি বন্য হাতির একটি দল ঘটনাস্থলের আশপাশে এসে অবস্থান নেয়। এ সময় শাবকটিকে মৃত মায়ের মরদেহের পাশেই দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। হাতির দলটি কিছু সময় সেখানে নীরব দাঁড়িয়ে থেকে আবার পাহাড়ের দিকে চলে যায়। পরে আজ রোববার ভোরবেলায় আবারও হাতির দলটি মৃত হাতিটিকে দেখতে লোকালয়ে ফিরে আসে।

বন বিভাগ ও স্থানীয়দের ধারণা, পাহাড়ি বনাঞ্চলে তীব্র খাদ্যসংকট দেখা দেওয়ায় প্রায়ই বন্য হাতির দল লোকালয়ে চলে আসছে। দীর্ঘদিন ধরে অপুষ্টি ও খাদ্যাভাবের কারণে শারীরিক শক্তি হারিয়েই মা হাতিটি অসুস্থ হয়ে পড়েছিল এবং শেষ পর্যন্ত মারা যায়।

ইউডি/রেজা

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading