জঙ্গল সলিমপুরে কোনো সন্ত্রাসীকে ছাড় দেয়া হবে না: পুলিশ সুপার
উত্তরদক্ষিণ। সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, আপডেট ১৫:২৭
সন্ত্রাসীদের রুখতে যা যা করা দরকার সব করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মাসুদ আলম। তিনি বলেন, ‘সন্ত্রাসীদের সাম্রাজ্য হাত ছাড়া হয়ে যাচ্ছে। তাই তারা ঝাঁকুনি দেবে এটাই স্বাভাবিক। তাদের এটা করতে দেওয়া হবে না।’
সোমবার (২৫ মে) সকালে জঙ্গল সলিমপুরে হামলার বিষয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন তিনি।
সোমবার ভোরে অভিযান চালিয়ে ক্যাম্পের চারপাশে প্রবেশ করে যৌথবাহিনী। কোনো ধরনের বাধা ছাড়াই অভিযান পরিচালনা করে। পনের থেকে বিশ জনকে আটক করা হয়েছে।
মাসুদ আলম আরও বলেন, ‘জঙ্গল সলিমপুরে অপরাধী যে হোক না কেন- ইয়াসিন, রোকন কিংবা অন্য যে কেউ সবাইকে খুঁজে বের করা হবে। এই চক্রের পেছনে যারা কলকাঠি নাড়ছে, তাদেরও আইনের মুখোমুখি হতে হবে।’
পুলিশ সুপার বলেন, ‘এই জঙ্গল সলিমপুরকে কেন্দ্র করে কোটি কোটি টাকার একটি বিশাল অবৈধ আর্থিক স্বার্থ জড়িয়ে রয়েছে। বছরের পর বছর ধরে যারা এই এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছিল, এখন তাদের সেই সাম্রাজ্য হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে। আর সেই রাজত্ব হারানোর ভয়েই অপরাধীরা শেষ চেষ্টা হিসেবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর এই পাল্টা আঘাত বা ঝাঁকুনি দেওয়ার চেষ্টা করছে।’
তিনি আরও উল্লেখ করেন, জঙ্গল সলিমপুরের সার্বিক পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনী মাঠে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। আগামী দিনগুলোতে এই অবস্থান আরও জোরদার করা হবে। এখান থেকে পিছু হটার কোনো প্রশ্নই আসে না।
কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে এসপি মাসুদ আলম বলেন, আমাদের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে এই জনপদে স্থায়ী শান্তি ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা। দেশের অভ্যন্তরে কোনো আলাদা রাষ্ট্র বা অপরাধের অভয়ারণ্য গড়ে তুলতে দেওয়া হবে না। জঙ্গল সলিমপুরকে সন্ত্রাসমুক্ত করতে আইনগত যত ধরনের পদক্ষেপ প্রয়োজন, তার সবই নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ১৯ জানুয়ারি জঙ্গল সলিমপুরের দুর্গম এলাকায় সন্ত্রাসীদের হামলায় র্যাবের ডিএডি মোতালেব হোসেন নিহত হয়েছিলেন। গত দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে জঙ্গল সলিমপুর এলাকাটি দুর্ধর্ষ অপরাধীদের আস্তানা হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
২০১৭ এবং ২০২২ সালে প্রশাসন এই এলাকাটি অপরাধমুক্ত করতে এবং অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে উদ্যোগ নিলেও স্থানীয় সন্ত্রাসীদের বাধা ও বিভিন্ন প্রতিকূলতার কারণে তা সফল হয়নি।
ইউডি/রেজা

