ঈদের ছুটিতে পর্যটকদের পদচারণায় মুখর রাঙামাটি-সাজেক
উত্তরদক্ষিণ। রবিবার, ৩১ মে, ২০২৬, আপডেট ১৮:৩৫
ঈদের দীর্ঘ ছুটিতে পাহাড়, হ্রদ আর মেঘের অপার সৌন্দর্য উপভোগ করতে পর্যটকদের ভিড়ে মুখর হয়ে উঠেছে রাঙামাটি ও সাজেক। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ভ্রমণপিপাসুরা পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের নিয়ে ছুটে এসেছেন প্রকৃতির সান্নিধ্যে কিছুটা স্বস্তির সময় কাটাতে।
রাঙামাটির অন্যতম আকর্ষণ কাপ্তাই হ্রদে নৌভ্রমণ, ঝুলন্ত সেতু, পলওয়েল পার্ক, শিশুপার্ক, আরণ্যক, রাঙাদ্বীপ ও বার্গী লেক ভ্যালিসহ বিভিন্ন পর্যটন স্পটে দেখা গেছে পর্যটকদের সরব উপস্থিতি। দুই পাহাড়ের মাঝখানে থাকা ঝুলন্ত সেতুতে দর্শনার্থীদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। কেউ প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করেছেন, কেউ আবার স্মৃতি ধরে রাখতে ব্যস্ত ছিলেন ক্যামেরায়।
কাপ্তাই হ্রদেও ছিল পর্যটকদের বাড়তি আগ্রহ। ইঞ্জিনচালিত বোটে হ্রদের বিস্তীর্ণ জলরাশি আর চারপাশের সবুজ পাহাড়ের সৌন্দর্য উপভোগ করেছেন দর্শনার্থীরা। পর্যটকদের অনেকেই জানান, রাঙামাটির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সবসময়ই তাদের মুগ্ধ করে। নিরাপদ ও শান্ত পরিবেশে ঈদের ছুটি কাটাতে পেরে তারা সন্তুষ্ট।
রাঙামাটি পর্যটন হলিডে কমপ্লেক্সের তথ্য অনুযায়ী, ঈদের ছুটির কয়েক দিনে ঝুলন্ত সেতুসহ বিভিন্ন পর্যটন স্পটে হাজারো পর্যটক ভ্রমণ করেছেন। পর্যটন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঈদের ছুটি উপলক্ষে পর্যটকদের এ আগমন স্থানীয় পর্যটন খাত ও ব্যবসা-বাণিজ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
পর্যটন হলিডে কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপক অলোক বিকাশ চাকমা বলেন, ঈদের চতুর্থ দিনে ৩ হাজার পর্যটক ঝুলন্ত সেতুতে ভ্রমণ করেছেন। ঈদের চতুর্থ দিনে সাড়ে তিন হাজার পর্যটক ভ্রমণ করেছিলেন। তবে সোমবার থেকে পর্যটক কমতে পারে। এছাড়া মোটেলে প্রায় ৬০ শতাংশ বুকিং রয়েছে ১ জুন পর্যন্ত।
অন্যদিকে ‘মেঘের রাজ্য’খ্যাত সাজেকেও ছিল উপচে পড়া ভিড়। ভোরের সূর্যোদয়, বিকেলের সূর্যাস্ত আর মেঘে ঢাকা পাহাড়ের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য দেখতে পর্যটকদের আগমন ছিল উল্লেখযোগ্য। ঈদের তৃতীয় ও চতুর্থ দিনে সবচেয়ে বেশি ভিড় দেখা গেছে সেখানে।
সাজেক রিসোর্ট ও কটেজ মালিক সমিতির তথ্য অনুযায়ী, ঈদের ছুটিতে অধিকাংশ রিসোর্ট ও কটেজের কক্ষ আগেভাগেই বুকিং হয়ে যায়। ফলে পুরো পর্যটনকেন্দ্রজুড়ে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ।
সাজেক রিসোর্ট ও কটেজ মালিক সমিতির অর্থ সম্পাদক ও হিলভিউ রিসোর্টের সত্বাধিকারী ইন্দ্র চাকমা বলেন, ঈদের চতুর্থ দিনে সাজেক পর্যটন কেন্দ্রে প্রায় আড়াই হাজারের অধিক পর্যটক ভ্রমণ করেছেন। তবে ঈদের তৃতীয় দিনে এ পর্যটনকেন্দ্রে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার অধিক পর্যটক ভ্রমণ করেছেন।
ইউডি/রেজা

