৩ গোলের জয়ে গ্রুপ শীর্ষে ব্রাজিল

৩ গোলের জয়ে গ্রুপ শীর্ষে ব্রাজিল

উত্তরদক্ষিণ। শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬, আপডেট ০৮:৩৫

হেক্সা মিশনের শুরুতেই ধাক্কা খেয়েছিল ব্রাজিল। ষষ্ঠ বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ের অভিযানে নেমে নিজেদের প্রথম ম্যাচে মরক্কোর বিপক্ষে ড্রয়ে হতাশ করেছিলেন সেলেসাওরা, পারফর্ম্যান্সের ছিল না প্রত্যাশার প্রতিচ্ছবি। প্রথম ম্যাচেই পয়েন্ট খোয়ানোর পর এবার ঘুরে দাঁড়িয়ে দুর্দান্ত এক জয় উপহার দিল কার্লো আনচেলত্তির শিষ্যরা। নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে হাইতির বিপক্ষে বড় জয়ই পেয়েছে পাঁচবারের বিশ্বজয়ীরা। প্রথমার্ধেই জোড়া মাথেউস কুনিয়ার জোড়া গোলের পর ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের দুর্দান্ত এক গোলে ৩ গোলের লিড নেয় লাতিনের পরাশক্তিরা। তবে দ্বিতীয়ার্ধে আর জালের দেখা না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত ৩ গোলের জয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে ব্রাজিলকে।

ম্যাচের ১২ মিনিটেই প্রথম গোলের দেখা পেয়েছিল ব্রাজিল। মাঝমাঠ থেকে পাওয়া পাসে দারুণ এক দৌড়ে জালের দেখা পেয়েছিলেন রাফিনিয়া। তবে বাঁ পায়ের শটে বল জালে পাঠালেও রাফিনিয়ার এই গোল বাতিল হয় অফ-সাইডের কারণে। তবে এই ব্রাজিলের ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত পাওয়া যায় বাতিল হওয়া এই গোল থেকেই।

ম্যাচের শুরুর ১০ মিনিট ব্রাজিলের বিপক্ষে ভালোই লড়েছেন হাইতির ফুটবলাররা। তবে এরপর থেকেই নিয়ন্ত্রণ নিতে শুরু করে সেলেসাওরা। নিজেদের মাঝে দারুণ বোঝাপড়ায় আক্রমণ সাজাতে থাকেন ভিনি, কুনিয়ারা। এরই ধারাভিকতায় আসে প্রথম গোলের দেখাও।

২২ মিনিটে দলকে এগিয়ে দেওয়ার আরও এক সুযোগ পান রাফিনিয়া। ২২ মিনিটে ডান দিক থেকে থ্রু পাস পেয়ে হাইতি গোলকিপারকে একা পেয়ে যান রাফিনিয়া। চিপ করলেও অবিশ্বাস্যভাবে ফাঁকা পোস্টে গোল মিস করেন তিনি। তবে রাফিনিয়া দুইবারের চেষ্টায় গোল না পেলেও ব্রাজিলকে খুব একটা অপেক্ষা করতে হয়নি।

২৩ মিনিটেই দলকে আনন্দে ভাসান কুনিয়া। ডান প্রান্ত থেকে বল নিয়ে হাইতির বক্সে ঢুকে শট নেন ভিনিসিয়ুস। হাইতি গোলকিপার জনি প্লাসিড শটটি ঠেকালেও হাতে রাখতে পারেননি। এমন সময়ে ফিরতি বলে গোলপোস্টের একেবারের সামনে থেকে কুনিয়ার নেওয়া শট আশ্রয় নেয় জালে। দারুণ এক গোলে দলকে এগিয়ে দেওয়ার পর উদযাপনের সময় সাম্বা নাচে দর্শকদের মাতান কুনিয়া-ভিনিরা।

লিড নেওয়ার পর ব্যবধান বাড়াতেও খুব বেশি সময় নেননি সেলেসাওরা। ৩৬ মিনিটে দলকে দ্বিতীয়বারের মত এগিয়ে দেন কুনিয়া। মাঝমাঠ থেকে দারুণ এক মুভ শুরু করেন ভিনিসিয়ুস। দৌড়ে তাঁর বাঁ দিকে চলে যাওয়া কুনিয়াকে ডিফেন্সচেরা থ্রু পাস দেন ভিনি। সেখান থেকে বাঁ পায়ের শটে ম্যাচে দ্বিতীয় গোল কুনিয়ার। নিজের এবং দলের দ্বিতীয় গোলের পরও ফের সাম্বা নাচে উদযাপন করেন ব্রাজিলিয়ান তারকারা।

এদিকে দুই গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর হাইতির রক্ষণে আক্রমণের তীব্রতা বাড়ান সেলেসাওরা। এরই ধারাভিকতায় দলের তৃতীয় এবং নিজের প্রথম গোলের দেখাও পেয়ে যান ভিনি জুনিয়র। প্রথমার্ধের খেলা শেষে তখন চলছে ইনজুরি টাইমের খেলা। অতিরিক্ত এই সময়ের তৃতীয় মিনিটেই আসে ভিনি ম্যাজিক।

এবার মাঝমাঠ থেকে বল এগিয়ে দেন লুকাস পাকেতা। পাকেতার এগিয়ে দেওয়া বল পেয়ে গোলের লক্ষ্যে ছুটেন ভিনি। হাইতি গোলকিপার জনি প্লাসিডকে একা পেয়ে তাঁর দুই পায়ের ভেতর দিয়ে ক্লিনিক্যাল ফিনিশিংয়ে গোল করেন ভিনিসিয়ুস। বিশ্বকাপে এটি ভিনির দ্বিতীয় গোল। এদিকে ভিনির গোলের আগে চোটের কারণে ৪০ মিনিটে মাঠ ছাড়লেন রাফিনিয়া। তাঁর বদলি হিসেবে মাঠে নামলেন বোর্নমাউথ উইঙ্গার ১৯ বছর ৩২০ দিন বয়সী রায়ান।

রাফিনিয়া চোট নিয়ে মাঠ ছাড়লেও কুনিয়ার জোড়া গোল এবং ভিনির দুর্দান্ত এক গোলে ৩ গোলের বড় ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই প্রথমার্ধ শেষ করে ব্রাজিল।

এদিকে বিরতির পর হাইতির জালে গোল উৎসব করবেন ভিনিরা, এমনটাই ভেবেছিলেন ব্রাজিলের সমর্থকরা। তবে তাদের এমন ভাবনা বাস্তবে রূও পায়নি। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে যেন ঝিমিয়েই পড়ে ব্রাজিলের আক্রমণভাগ। শুরুর ১০-১৫ মিনিটে হাইতির রক্ষণে তেমন কোনো বিপদ তৈরি করতে পারেনি বারজিলের ফুটবলাররা।

এদিকে ৬৩ মিনিটে কর্ণার থেকে গোল আদায়ের খুব আছে পৌঁছে গিয়েছিল হাইতি। দারুণ এক হেডে জালের দেখা পেয়েই গিয়েছিল দলটি, তবে পোস্টের একেবারে নিচ থেকে তা ঠেকিয়ে দেন সেলেসাও গোলরক্ষক আলিসন বেকার যা ক্লিয়ার করেন ডগলাস সান্তোস। ৬৪ মিনিটে লুকাস পাকেতা ও কুনিয়াকে তুলে নেন আনচেলত্তি, বদলে মাঠে নামেন গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি ও এন্দ্রিক। বিশ্বকাপে এন্দ্রিকের প্রথম ম্যাচও এটি।

মাঠে নেমেই গোল করার দারুণ এক প্রচেষ্টা নিয়েছিলেন মার্তিনেল্লি। ৬৯ মিনিটে গোলের দেখা প্রায় পেয়েই গিয়েছিলেন তিনি। গিমারেশের পাস থেকে বক্সের ভেতরে বল পেয়েছিলেন ভিনি যা দারুণ এক ব্যাক হিল পাসে পেছনে থাকা মার্তিনেল্লিকে দেন তিনি। সেখান থেকে বুলেট গতির শট নেন মার্তিনেল্লি, তবে আর্সেনাল উইঙ্গারের নেওয়া শট বারে লেগে ফিরে আসলে গোলবঞ্চিত হয় ব্রাজিল।

এদিকে ৭৮ মিনিটে জালের দেখা পেয়েছিলেন ব্রাজিল। নিজের প্রথম গোল ভেবে যখন উদযাপনের শুরু করেছেন তরুণ এই তারকা তখনই অফ০-সাইডের পতাকা দেখান রেফারি। ফলে স্কোরলাইন ৪-০ করা হয়নি সেলেসাওদের। ম্যাচের ৮১ মিনিটে ভিনি ও গিমারেশকে তুলে নেন আনচেলত্তি। মাঠে নামেন দানিলো সান্তোস ও এদেরসন। এরপর ম্যাচের বাকি সময় গোলের বেশ কয়েকটি প্রচেষ্টাই নিয়েছে সেলেসাওরা। তবে কোনোটিই সফল হয়নি। ম্যাচের অতিরিক্ত সময়েই আর গোলের দেখা না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত ৩ গোলের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় ব্রাজিলিয়ানদের।

ইউডি/কেএস

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading