আফ্রিকা থেকে ৫৮ লাখ টাকায় চিড়িয়াখানায় এলো চার ‘ওয়াইল্ডবিস্ট’ ও ‘কমন ইল্যান্ড’
উত্তরদক্ষিণ। শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০২৬, আপডেট ০৯:০০
প্রায় চার বছর পর নতুন প্রাণী যুক্ত হলো ঢাকার মিরপুরে বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানায়। দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে দুটি পুরুষ ‘ওয়াইল্ডবিস্ট’ (ব্লু ওয়াইল্ডবিস্ট) এবং এক জোড়া ‘কমন ইল্যান্ড’ আনা হয়েছে জাতীয় চিড়িয়াখানার জন্য।
প্রাণীগুলো ক্রয়, পরিবহন ও চিড়িয়াখানায় পৌঁছানো পর্যন্ত মোট ব্যয় হয়েছে ৫৭ লাখ ৭৫ হাজার ৯২২ টাকা। চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ জানায়, গত ২৩ জুন আকাশপথে প্রাণীগুলো ঢাকায় পৌঁছায়।
বর্তমানে সেগুলোকে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। মিরপুর জাতীয় চিড়িয়াখানার পশ্চিম পাশে জিরাফ এনক্লোজার এলাকায় কমন ইল্যান্ডকে ‘এল-১৬’ এবং ওয়াইল্ডবিস্টকে ‘এল-২২’ নম্বর খাঁচায় রাখা হয়েছে।
চিড়িয়াখানার চিকিৎসক ডা. মো. শাহিনুর আলম বলেন, ই-জিপির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্র (ওটিএম) পদ্ধতিতে ঠিকাদার নিয়োগ করে প্রাণীগুলো আনা হয়েছে। বর্তমানে সব প্রাণী সুস্থ রয়েছে এবং নতুন পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার জন্য বিশেষ পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
চিড়িয়াখানায় আগে থেকেই দুটি স্ত্রী ওয়াইল্ডবিস্ট ছিল। দীর্ঘদিন ধরে সঙ্গীহীন থাকা ওই প্রাণীগুলোর জন্য দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে এক বছরের কিছু বেশি বয়সী দুটি পুরুষ ওয়াইল্ডবিস্ট আনা হয়েছে। কর্মকর্তারা জানান, নতুন প্রাণীগুলো কয়েক মাসের মধ্যে প্রাপ্তবয়স্ক হলে ধীরে ধীরে পুরোনো ওয়াইল্ডবিস্টগুলোর সঙ্গে একত্রে রাখা হবে।
ওয়াইল্ডবিস্ট আফ্রিকার সাভানা অঞ্চলের পরিচিত তৃণভোজী প্রাণী। দলবদ্ধভাবে বসবাস এবং শক্তিশালী গড়নের কারণে প্রাণীপ্রেমীদের কাছে এটি বিশেষ আকর্ষণের। অন্যদিকে কমন ইল্যান্ড বিশ্বের বৃহত্তম অ্যান্টেলোপ বা হরিণজাতীয় প্রাণীগুলোর অন্যতম। বিশাল দেহাকৃতি ও শিংয়ের জন্য এটি পরিচিত।
চিড়িয়াখানা সূত্র জানায়, অতীতে জাতীয় চিড়িয়াখানায় কমন ইল্যান্ড থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে এ প্রজাতির কোনো প্রাণী সেখানে ছিল না। নতুন করে এক জোড়া কমন ইল্যান্ড আনার মাধ্যমে প্রজাতিটি আবারও চিড়িয়াখানায় যুক্ত হলো।
বর্তমানে প্রাণীগুলোকে ভুসি, ছোলার ডাল, ভুট্টা, কাঁচা ঘাস ও পর্যাপ্ত পানি দেওয়া হচ্ছে। নতুন পরিবেশে মানিয়ে নিতে তাদের জন্য বিশেষ পরিচর্যার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকার যে অঞ্চল থেকে প্রাণীগুলো আনা হয়েছে, সেখানকার আবহাওয়া বাংলাদেশের আবহাওয়ার সঙ্গে অনেকটাই সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ায় অভিযোজন নিয়ে বড় কোনো শঙ্কা নেই বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রাণীগুলোর মানসিক চাপ কমাতে আপাতত দর্শনার্থীদের আড়ালে রাখা হয়েছে। সাধারণত ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারলে দর্শনার্থীদের জন্য এনক্লোজার উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।
দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময় ধরে বিদেশ থেকে বিভিন্ন প্রকার পশু-পাখি আমদানি করে ‘দ্য থুলকন ট্রেডার্স’। তারা বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানা, গাজীপুর সাফারি পার্ক, বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক ও চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানাসহ বিভিন্ন স্থানে বন্যপ্রাণী সরবরাহ করে আসছে।
এই চারটি প্রাণীও চিড়িয়াখানায় এনেছে ‘দ্য থুলকন ট্রেডার্স’। প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী মো. সোহেল আহমেদ বলেন, দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে প্রাণীগুলো আকাশপথে বাংলাদেশে আনতে প্রায় দুই দিন সময় লেগেছে। বর্তমানে ২১ দিনের কোয়ারেন্টাইন মেয়াদে প্রাণীগুলো তাদের তত্ত্বাবধানে রয়েছে। নির্ধারিত সময় শেষে সেগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
প্রাণীগুলোর খাবারের তালিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রাথমিক অবস্থায় আমরা ওদের ওখানকার কিছু খাবার সঙ্গে করে নিয়ে এসেছি। যেহেতু এরা তৃণভোজী প্রাণী, তাই এর পাশাপাশি আমাদের দেশীয় বিভিন্ন ধরনের ঘাস দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া এদের ‘পিলেট’ও দেওয়া হয়। পিলেট হলো মূলত এক ধরনের দানাদার ও পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবার। এটি শুকনো ফর্মে তৈরি করা হয়, যার মধ্যে প্রচুর পরিমাণে পুষ্টি উপাদান থাকে।
চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ জানায়, সঙ্গীহীন প্রাণীদের জোড়া মেলানো এবং দর্শনার্থীদের আগ্রহ বিবেচনায় নতুন প্রাণী সংগ্রহের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। এ লক্ষ্যে আগামী পাঁচ বছরের জন্য একটি প্রাণী সংগ্রহ মহাপরিকল্পনা অনুমোদন করা হয়েছে, যা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে।
ইউডি/কেএস

