ঢাকায় ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা ম্যাচ আয়োজনের চেষ্টা করবো: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী
উত্তরদক্ষিণ। শুক্রবার, ০৩ জুলাই, ২০২৬, আপডেট ১৯:৩৫
বাংলাদেশের ফুটবলের উন্নয়নে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার সহায়তা চেয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। শুক্রবার (৩ জুলাই) সকালে রাজধানীর গুলশান ইয়ুথ ক্লাবে এটিজেএফবি ফুটবল চাম্পিয়ানশিপ টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূত মার্সেলো কার্লোস সেসা ও ব্রাজিলের রাষ্ট্রদূত পাওলো ফার্নান্দোর কাছে এই সহায়তা চান তিনি।
এছাড়াও, ঢাকার মাঠে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের বর্তমান ফুটবলারদের নিয়ে একটি আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ আয়োজনের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল ইসলাম।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা দলের একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ আয়োজন করা যায় কি না সেই চেষ্টা করবো।
ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের মানুষ ফুটবলপ্রেমী। বিশেষ করে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনাকে ঘিরে মানুষের যে আবেগ ও উন্মাদনা, তা বিশ্বজুড়েই পরিচিত। সেই ফুটবল ভালোবাসাকে ধারণ করেই এ ধরনের আয়োজন দেশের ফুটবলকে আরও এগিয়ে নিতে ভূমিকা রাখবে।
আমরা মনে করি, বাংলাদেশও একদিন ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার মতো ফুটবল খেলবে। একদিন বাংলাদেশের ফুটবলও এমন অবস্থানে পৌঁছাবে, যখন দেশের মানুষ নিজেদের জাতীয় দলকে নিয়েও একই রকম আবেগ ও উন্মাদনায় উদ্যাপন করবে। খেলাধুলার প্রসারে এমন উদ্যোগ আরও বাড়বে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, সরকার স্পোর্টস ডিপ্লোম্যাসিতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। সরকার সর্বস্তরে খেলাকে ছড়িয়ে দিতে কাজ করছে। ফুটবল উন্মাদনাকে কাজে লাগিয়ে বিশ্ব সম্প্রীতি গড়ে তোলায় সরকারের চলমান প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার ফুটবলের যে স্ট্রাকচার রয়েছে, তাদের অবকাঠামো ও পরিকল্পনাকে কাজে লাগিয়ে এবং তাদের সাথে কথা বলে বাংলাদেশের ফুটবল ফেডারেশনের মাধ্যমে দেশের ফুটবলকে তৃণমূল পর্যায় থেকে উন্নয়নের চিন্তা রয়েছে।
এছাড়াও এই ফুটবল ম্যাচে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্রাজিলের রাষ্ট্রদূত পাউলো ফার্নান্দো জিয়াস ফেরেস ও আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূত মার্সেলো কার্লোস সেসা।
বাংলাদেশে নিযুক্ত আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূত মার্সেলো কার্লোস সেসা বলেন, ফুটবল বিভিন্ন দেশ ও সংস্কৃতির মানুষকে একত্র করে। বাংলাদেশ, আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল—সব দেশের মানুষের মধ্যে এই খেলাটি বন্ধুত্বের সেতুবন্ধন তৈরি করেছে।
সেসা বলেন, বাংলাদেশের ফুটবল আরও এগিয়ে যাক এবং দেশের তরুণ খেলোয়াড়রা যেন নিজেদের স্বপ্ন পূরণ করতে পারে—সেই প্রত্যাশা। একই সঙ্গে ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তিনি।
অ্যাভিয়েশন ও পর্যটন খাতের সাংবাদিকদের সংগঠন অ্যাভিয়েশন অ্যান্ড ট্যুরিজম জার্নালিস্টস ফোরাম অব বাংলাদেশ (এটিজেএফবি) টুর্নামেন্টটির আয়োজন করেছে। এর টাইটেল স্পন্সর এনভয়-শেলটেক এভিয়েশন এবং পাওয়ার্ড বাই ভিআইপি মোটরস।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (এমডি ও সিইও) কাইজার সোহেল আহমেদ বলেন, ফুটবল মানুষকে একত্র করে। এই টুর্নামেন্ট শুধু প্রতিযোগিতা নয়, অ্যাভিয়েশন খাতের দেশি-বিদেশি অংশীদারদের মধ্যে বন্ধুত্ব, সহযোগিতা ও পারস্পরিক সম্পর্ক আরো দৃঢ় করবে।
তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে বাংলাদেশকে একটি আঞ্চলিক অ্যাভিয়েশন হাবে পরিণত করার যে লক্ষ্য রয়েছে, তা বাস্তবায়নেও এ ধরনের পারস্পরিক যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও মাঠের বাইরে সবাই একসঙ্গে কাজ করবে—এটাই এই আয়োজনের মূল চেতনা।
প্রথমবারের মতো দেশে এমন আয়োজন নিয়ে অ্যাভিয়েশন অ্যান্ড ট্যুরিজম জার্নালিস্টস ফোরাম অব বাংলাদেশ (এটিজেএফবি) সভাপতি তানজিম আনোয়ার বলেন, গত এক দশকে বাংলাদেশের অ্যাভিয়েশন খাত উল্লেখযোগ্যভাবে বিকশিত হয়েছে। এই খাতের সঙ্গে যুক্ত দেশি-বিদেশি পেশাজীবীদের মধ্যে কর্মক্ষেত্রের বাইরে পারস্পরিক পরিচিতি, সৌহার্দ্য ও সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার জন্য একটি সম্মিলিত প্ল্যাটফরমের প্রয়োজন ছিল। এয়ারলাইনস ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ সেই প্রয়োজন পূরণে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
টুর্নামেন্ট ডিরেক্টর ও এটিজেএফবির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আদনান রহমান বলেন, এএফসি-২০২৬ শুধু একটি ফুটবল টুর্নামেন্ট নয়, বরং এটি দেশের অ্যাভিয়েশন খাতের দেশি-বিদেশি এয়ারলাইনসের মধ্যে সম্প্রীতি, নেটওয়ার্কিং ও সুসম্পর্ক জোরদারের একটি উদ্যোগ।
আয়োজকরা জানিয়েছেন, এবারের টুর্নামেন্টে অংশ নিয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস, নভোএয়ার, এয়ার অ্যাস্ট্রা, এমিরেটস, কাতার এয়ারওয়েজ, সৌদিয়া, টার্কিশ এয়ারলাইনস, এয়ার অ্যারাবিয়া, ইন্ডিগো, ইথিওপিয়ান এয়ারলাইনস, এয়ার ইন্ডিয়া, থাই এয়ারওয়েজ, এয়ারএশিয়া, সিল্কওয়ে ওয়েস্ট এয়ারলাইনস এবং ফ্লাই দুবাই।
ইউডি/রেজা

