টানা বর্ষণে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি মহাসড়ক, দুর্ভোগ চরমে

টানা বর্ষণে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি মহাসড়ক, দুর্ভোগ চরমে

উত্তরদক্ষিণ। মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই, ২০২৬, আপডেট ১৬:১৩

টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি মহাসড়কের হাটহাজারী উপজেলার বড়দিঘীপাড় এলাকায় ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। কোমরসমান পানিতে তলিয়ে গেছে মহাসড়কের একাংশ। এতে যান চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থী, অফিসগামী মানুষ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকাল থেকে টানা ভারী বৃষ্টির সঙ্গে পাহাড়ি ঢলের পানি নেমে এসে চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি মহাসড়কের বড়দিঘীপাড় এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। মহাসড়কের বিভিন্ন অংশ কোমরসমান পানিতে তলিয়ে যায়। সড়কের দুই পাশে পানি জমে পড়ায় স্থানীয়দের অনেককে সেখানে জাল ফেলে মাছ ধরতেও দেখা যায়।

দেখা যায়, মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে কোমরসমান পানি জমে রয়েছে। পানির মধ্যে চলাচল করতে গিয়ে অনেক গাড়ি বিকল হয়ে পড়ে। এতে নগরের মুরাদপুর থেকে খাগড়াছড়িগামী এবং খাগড়াছড়ি থেকে মুরাদপুরমুখী উভয় লেনেই দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানবাহনে আটকে থেকে দুর্ভোগে পড়েন যাত্রীরা।

এদিকে পানি জমে যাওয়ায় স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগও বেড়ে যায়। বিভিন্ন পরীক্ষায় অংশ নিতে অনেক শিক্ষার্থীকে কোমরসমান পানি পেরিয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে যেতে দেখা যায়। অনেক অভিভাবক সন্তানদের কাঁধে তুলে বা হাত ধরে পানি পার করে কেন্দ্রে পৌঁছে দেন।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. আবদুল মান্নান বলেন, প্রতি বছর বর্ষা এলেই এই সড়ক পানিতে তলিয়ে যায়। বৃষ্টিতে চলাচল বন্ধ হওয়ার মতো অবস্থা তৈরি হয়। খাল-ড্রেনগুলো ভরাট ও সংকুচিত হয়ে যাওয়ায় পানি নামতে পারে না। কিন্তু স্থায়ী সমাধানে কোনো উদ্যোগ আমরা দেখছি না।

আরেক বাসিন্দা রোকসানা বেগম বলেন, বাড়ি থেকে বের হওয়াই কঠিন হয়ে পড়েছে। শিশু, বৃদ্ধ ও শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাচ্ছে। পানি কমতে অনেক সময় লাগে। দ্রুত ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নত করে মহাসড়ক উঁচু না করলে এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি মিলবে না।

এদিকে, আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে প্রায় ৩৩১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। যা এই মৌসুমে সর্বোচ্চ রেকর্ড। মৌসুমি নিম্নচাপের প্রভাবে সৃষ্ট এই টানা বৃষ্টিতে নিচু এলাকাগুলো তলিয়ে গিয়ে জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে।

আবহাওয়া অফিস আরও জানায়, বৃষ্টির এই ধারা আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে। পরিস্থিতির উন্নতির জন্য আরও কিছুটা সময় লাগবে। এমতাবস্থায় পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসরত বাসিন্দাদের এবং নিচু এলাকার লোকজনকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ভারী বর্ষণের ফলে পাহাড়ি ঢলের আশঙ্কা থাকায় পাহাড়ধসের বিষয়েও বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে সংস্থাটি।

ইউডি/রেজা

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading