আজ শহীদ আবু সাঈদের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী: দেশজুড়ে নানা কর্মসূচি

আজ শহীদ আবু সাঈদের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী: দেশজুড়ে নানা কর্মসূচি

উত্তরদক্ষিণ। বৃহস্পতিবার, ১৫ জুলাই, ২০২৬, আপডেট ১৩:০৭

কিছ কিছু আত্মত্যাগ ইতিহাস সৃষ্টি করে, সময়ের গতিপথ বদলে দেয়। কিছু রক্তের দাগ কখনোই মুছে যায় না। আবার, রক্ত দিয়েই লেখা হয় বীরত্বগাঁথা। তেমনে করেই, শেষ রক্ত বিন্দু দিয়েও ইতিহাস লিখেছেন “শহীদ আবু সাঈদ”। আজ তাঁর দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী। দিনটিকে শোক, শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় “জুলাই শহীদ দিবস” হিসেবে স্মরণ করছে জাতি। তবে, প্রশ্নও রয়ে গেছে, যে আত্মত্যাগ একটি জাতির ইতিহাসে নতুন অধ্যায় লিখেছিল, সেই স্মৃতি কি যথাযথভাবে সংরক্ষিত হয়েছে?

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে সেই পরিচিত সড়ক। আজ থেকে দু বছর আগে যেখানে রচিত হয়েছিল বিরল এক বীরত্বগাথার গল্প। দাবি আদায়ে অসীম সাহস নিয়ে পুলিশের তাক করা বন্দুকের সামনে দু হাত প্রসারিত করে দাঁড়িয়ে ছিল এক যুবক।

সেদিন যারা খুব কাছ থেকে দেখেছিলেন সেই নির্মম মুহূর্ত, দুই বছর পরও তাদের চোখে ভেসে ওঠে একই দৃশ্য। গুলির শব্দ, ছুটে চলা মানুষ আর রক্তে ভেজা রাজপথ, যেন আজও তাড়া করে ফেরে তাদের।

যেখানে ইতিহাস কথা বলার কথা, সেখানে এখনো নীরবতা। যে স্থানটি হতে পারত নতুন প্রজন্মের অনুপ্রেরণার ঠিকানা, সেখানে স্থায়ী স্মৃতিচিহ্নের অভাব অনেকের মনেই জন্ম দিয়েছে অপূর্ণতার বেদনা।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলছে, শহীদ আবু সাঈদের স্মৃতি সংরক্ষণে ইতোমধ্যে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম তাঁর আত্মত্যাগের ইতিহাস জানতে পারে।

এদিকে, পীরগঞ্জের নিভৃত গ্রামের সেই ছোট্ট কবরটি যেন শুধু একটি সমাধি নয় বরং একটি পরিবারের অসীম শূন্যতার প্রতিচ্ছবি। প্রতিদিনের মতো আজও সেখানে বসে থাকেন বাবা-মা। ছেলের কবরের মাটি ছুঁয়ে নীরবে কথা বলেন, চোখের জলে ভিজিয়ে দেন স্মৃতির প্রতিটি মুহূর্ত।

আবু সাঈদের মৃত্যু শুধু একজন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীর মৃত্যু নয়। সেটি ছিল অন্যায়ের বিরুদ্ধে উচ্চারিত এক অবিনাশী উচ্চারণ। যে উচ্চারণ পরিণত হয়েছিল গণঅভ্যুত্থানের এক দুর্বার শক্তিতে।

ইউডি/রেজা

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading