ঘাস খাওয়াতেও দিতে হয় টাকা, বাউফলে মহিষপ্রতি ২০০ টাকা আদায়ের অভিযোগ
উত্তরদক্ষিণ। মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬, আপডেট ১৮:০৮
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের লালচর এলাকায় সরকারি খাস জমিতে মহিষ চরানোকে কেন্দ্র করে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় মহিষ পালনকারীদের দাবি, প্রতিটি মহিষের জন্য ২০০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় মাঈনউদ্দিন (২৭) নামে এক সাবেক ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন তারা।
মহিষ পালনকারীদের ভাষ্য, লালচরের খাস জমিতে মহিষ চরাতে গেলে নির্ধারিত হারে টাকা দিতে হচ্ছে। টাকা না দিলে সেখানে মহিষ চরাতে নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হচ্ছে বলেও অভিযোগ তাদের।
স্থানীয় মহিষ পালনকারী রেজাউল খাঁ জানান, দীর্ঘদিন ধরে তারা লালচরের খাস জমিতে মহিষ চরিয়ে আসছেন। সম্প্রতি মহিষপ্রতি ২০০ টাকা করে দাবি করা হয়। পরে বাধ্য হয়ে অনেকে ওই টাকা পরিশোধ করেন। তার দাবি, এভাবে মোট ৪৭৮টি মহিষের বিপরীতে টাকা নেওয়া হয়েছে।
আরেক মহিষ পালনকারী ইদ্রিস দালাল বলেন, চরাঞ্চলের খাস জমিতে ঘাস খাওয়ানোর সুযোগের ওপর নির্ভর করে অনেক পরিবার মহিষ পালন করে। এর জন্য অতিরিক্ত অর্থ দিতে হলে তাদের ব্যয় বেড়ে যায় এবং মহিষ পালন থেকে প্রত্যাশিত লাভ পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, লালচরের খাস জমিতে মহিষ চরানো নিয়ে অর্থ আদায়ের বিষয়টি বেশ কিছুদিন ধরে এলাকায় আলোচিত হচ্ছে। সরকারি জমিতে মহিষ চরানোর বিনিময়ে এ ধরনের অর্থ নেওয়ার আইনগত বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে মাঈনউদ্দিন বলেন, তিনি পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি ছিলেন। তার দাবি, বিষয়টি মূলত স্থানীয় সালিশের সঙ্গে সম্পর্কিত। ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্যদের উদ্যোগে সালিশ চলছে।
মাঈনউদ্দিনের ভাষ্য, মাছ ধরার চাই ভেঙে যাওয়ার ঘটনায় জরিমানা হিসেবে টাকা নেওয়া হয়েছে। এমনকি তার নিজের মহিষের জন্যও তিনি জরিমানা দিয়েছেন। স্থানীয় মোস্তফা ফকির ও জামাল মাঝি বিষয়টি নিয়ে সালিশ করছেন। তাদের অনুরোধে তার কাছে টাকা রাখা হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি।
এ বিষয়ে বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম বলেন, অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইউডি/রেজা/রুবেল

