‘স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ওপর একা দায়িত্ব চাপিয়ে এসডিজি অর্জন সম্ভব নয়’
উত্তরদক্ষিণ। মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬, আপডেট ১৮:২৩
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ওপর এককভাবে দায়িত্ব চাপিয়ে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জন সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, পানি, স্বরাষ্ট্র, সমাজকল্যাণ ও স্থানীয় সরকারসহ সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়কে নিয়ে সমন্বিত পরিকল্পনা করতে হবে।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর শেরে বাংলা নগরে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এসডিজি বাস্তবায়ন ও পর্যালোচনা সম্পর্কিত জাতীয় সম্মেলনে বক্তব্যকালে তিনি এসব কথা বলেন।
পরিকল্পনা কমিশনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে নিয়ে প্রতি দুই মাসে একবার বৈঠক করে যৌথভাবে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে। তাহলেই কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জন সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, শিক্ষা, আইনশৃঙ্খলা ও জেন্ডার বৈষম্য কমানোর পাশাপাশি এসডিজির গোল-৩ অর্জনে স্বাস্থ্য খাতের সঙ্গে পানি, শিক্ষা ও সমাজকল্যাণের মতো খাতগুলোকে সমন্বিত করতে হবে। শুধু ওষুধ বা স্যালাইন দিয়ে এসডিজি অর্জন সম্ভব নয়; এর মূল ভিত্তি হতে হবে রোগ প্রতিরোধ।
গ্রামাঞ্চলের স্যানিটেশন ব্যবস্থার প্রসঙ্গ তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, বিশুদ্ধ পানি নিশ্চিত করার পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধে মানুষকে সচেতন করতে হবে। অস্বাস্থ্যকর অভ্যাস ও জীবনযাত্রা পরিবর্তনেও গুরুত্ব দিতে হবে।
উপকূলীয় এলাকার পানি সংকটের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে সুপেয় পানির তীব্র সংকট ও লবণাক্ততার কারণে মানুষ দূষিত পানি পান করতে বাধ্য হচ্ছে। বিষয়টি তিনি গত মাসে প্যারিস সম্মেলনে তুলে ধরেছেন এবং সেখানে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার আশ্বাস পাওয়া গেছে।
শিশুদের অতিরিক্ত মোবাইল স্ক্রিনে আসক্তি এবং জাঙ্ক ফুড বা ফাস্টফুডের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষায় অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
এ ছাড়া বাল্যবিয়ে রোধ, মায়েদের সচেতনতা, শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানোর গুরুত্ব এবং শাকসবজি ও পুষ্টির প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
অনুষ্ঠানে সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের সম্মানিত ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি এমপি। গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য আন্না মিনজ। এ ছাড়া স্বাস্থ্য সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. ফোয়ারা তাসমীমসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
ইউডি/রেজা

