ইউরোপের ইসলামবিদ্বেষী এমপিরা কাশ্মিরে কেন?
উত্তরদক্ষিণ মুদ্রতি সংস্করন । ৩১ অক্টোবর ২০১৯ । প্রকাশ ০০:০১। আপডেট ১০:২৫
ভারত অধিকৃত কাশ্মিরের পরিস্থিতি সরেজমিনে ঘুরে দেখতে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের ২৭ জন সদস্য গত মঙ্গলবার সেখানে পৌঁছেছেন। দিল্লির পক্ষ থেকে কাশ্মির সফরের আমন্ত্রণ পাওয়া এই ২৭ জনের মধ্যে ২২ জনই বিভিন্ন কট্টর দক্ষিণপন্থী দলের রাজনীতিক। উগ্র ইসলামবিদ্বেষী ও অভিবাসীবিদ্বেষী অবস্থানের জন্য তাদের আলাদা পরিচিতি রয়েছে। কাশ্মিরে পা রাখার আগেই দিল্লিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গেও দেখা করে এসেছেন তারা। এই সফরকে অবশ্য তাদের ‘ব্যক্তিগত সফর’ হিসেবেই বর্ণনা করা হচ্ছে। কেননা, আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের এ সফর ইউরোপীয় পার্লামেন্টের প্রতিনিধি হিসেবে নয়। আর শেষ মুহূর্তে এই সফর থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়া একজন ব্রিটিশ এমইপি (মেম্বার অব ইউরোপিয়ান পার্লামেন্ট)-ও এ সফরকে একটি প্রচারণার কৌশল হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
ভারতের বিরোধী দলগুলো প্রশ্ন তুলেছে, যেখানে ভারতের বিরোধী নেতাদেরই কাশ্মিরে যেতে দেওয়া হচ্ছে না, সেখানে কিভাবে এই এমইপি-রা অঞ্চলটি ঘুরে দেখার অনুমতি পেলেন? বস্তুত মাস-তিনেক আগে কাশ্মিরের বিশেষ মর্যাদা কেড়ে নেওয়ার পর এই প্রথম ভারত সরকার সেখানে কোনও বিদেশি প্রতিনিধি দলকে পা রাখতে দিলো। তবে তাত্পর্যপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, এদের বেশিরভাগই কোনও নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষক নন; বরং তারা উগ্র মুসলিমবিদ্বেষী হিসেবে পরিচিত। ২৭ জনের মধ্যে ২২ জনই বিভিন্ন কট্টর দক্ষিণপন্থী দলের হয়ে ইউরোপীয় পার্লামেন্টে নির্বাচিত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ফ্রান্সে জঁ মারি লঁ পেনের প্রতিষ্ঠিত দলের ছয় জন, পোল্যান্ডের একটি উগ্র দক্ষিণপন্থী দলের পাঁচ জন, যুক্তরাজ্যের ব্রেক্সিট পার্টির চারজন এবং ইতালি, জার্মানি, চেক প্রজাতন্ত্র, বেলজিয়াম ও স্পেনের কট্টর দক্ষিণপন্থী দলগুলোরও এক বা একাধিক সদস্য রয়েছেন এই প্রতিনিধি দলে।

