১৯ গোলের ম্যাচ শ্বাসরুদ্ধকর লড়াইয়ে লিভারপুলের জয়

১৯ গোলের ম্যাচ শ্বাসরুদ্ধকর লড়াইয়ে লিভারপুলের জয়

উত্তরদক্ষিণ মুদ্রতি সংস্করন । ০১ নভেম্বর ২০১৯ । প্রকাশ ০০:০১। আপডেট ১০:৪২

এক ম্যাচে দুই দল মিলে গোল করেছে ১৯টি! তবে এর মধ্যে ৯ গোল অবশ্য পেনাল্টি শুট আউট থেকে। লিগ কাপের এমন নাটকীয় এক ম্যাচে আর্সেনালকে হারিয়েছে লিভারপুল। এই জয়ে ‘অল রেডস’দের জায়গা হলো কোয়ার্টার ফাইনালে। উভয় পক্ষই তাদের নিজেদের শেষ ম্যাচে খেলা একাদশের সবাইকে বাইরে রেখে এই ম্যাচে খেলতে নামে। ফলে স্বাভাবিকভাবে দুদলেই ছিল অনিয়মিত ও তরুণদের ছড়াছড়ি। আর্সেনালের ম্যাচের শুরুটা অবশ্য হয়েছিল ব্র বাজে। ষষ্ঠ মিনিটে আত্মঘাতী গোল করে বসেন জার্মান ডিফেন্ডার স্কোড্রান মুস্তাফি। ঘুরে দাঁড়াতে অবশ্য সময় নেয়নি লিগে শেষ দুই ম্যাচে জয়শূন্য থাকা দলটি। ১৭ মিনিটের মধ্যে তিন গোল করে ম্যাচে শক্ত অবস্থান নেয় তারা। আর্সেনাল প্রথম গোলের দেখা পায় ১৯তম মিনিটে। বুকায়ো সাকার শট গোলরক্ষক ঝাঁপিয়ে ঠেকানোর পর ফিরতি বল ফাঁকায় জালে ঠেলে দেন উরুগুয়ের মিডফিল্ডার লুকাস তররেইরা। ২৬তম মিনিটে তাদের দ্বিতীয় গোলও হয় কিছুটা একইভাবে। এক সতীর্থের শট গোলরক্ষক ঠিকমতো ঠেকাতে না পারলে একেবারে গোলমুখে বল পেয়ে জোরালো শটে জালে পাঠান মার্তিনেলি। ১০ মিনিট পর বাঁ দিক থেকে সাকার বাড়ানো বল ফাঁকায় পেয়ে প্লেসিং শটে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন ব্রাজিলিয়ান এই ফরোয়ার্ড।

চলতি মৌসুমে ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগের ক্লাবগুলোর মধ্যে টিনএজার হিসেবে সর্বোচ্চ সাত গোল করলেন মার্তিনেলি। এই গোলগুলো করতে সব প্রতিযোগিতা মিলে সাত ম্যাচ খেলেছেন ১৮ বছর বয়সী এই ফুটবলার। ৪৩তম মিনিটে সফল স্পট কিকে স্কোরলাইন ৩-২ করেন জেমস মিলনার। ১৬ বছর বয়সী মিডফিল্ডার হার্ভে এলিয়ট ডি-বক্সে ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টিটি পেয়েছিল লিভারপুল। দ্বিতীয়ার্ধের নবম মিনিটে মিলনারের হাস্যকর ভুলে আবারও গোল খেয়ে বসে প্রিমিয়ার লিগে এখন পর্যন্ত অপরাজিত লিভারপুল। তার গোলরক্ষককে বাড়ানো দুর্বল ব্যাকপাসে ছুটে গিয়ে টোকা দেন এইন্সলি মেইটল্যান্ড-নাইলস। বল দূরের পোস্ট ঘেঁষে চলে যাচ্ছিল বাইরে, দ্রুত গিয়ে গোলমুখে বল ফেরত পাঠান মেসুত ওজিল। অনায়াসে বাকিটুকু সারেন ইংলিশ মিডফিল্ডার মেইটল্যান্ড-নাইলস। ম্যাচের নাটকীয়তা তখনও ছিল ঢের বাকি। চার মিনিটের ব্যবধানে দুই গোল করে সমতায় ফেরে ইউরোপ চ্যাম্পিয়নরা। ৫৮তম মিনিটে প্রায় ২২ গজ দূর থেকে বুলেট গতির শটে লিভারপুলের তৃতীয় গোলটি করেন অ্যালেক্স-অক্সলেইড চেম্বারলেইন। ৬২তম মিনিটে সতীর্থের পাস ধরে শরীরটাকে ঘুরিয়ে জোরালো শটে স্কোরলাইন ৪-৪ করেন বেলজিয়ান ফরোয়ার্ড দিভোক ওরিগি। বল গোলরক্ষকের হাতে লেগে জালে জড়ায়। ৭০তম মিনিটে ম্যাচে দ্বিতীয়বারের মতো এগিয়ে যায় আর্সেনাল। বল পায়ে মাঝ বরাবর বেশ খানিকটা এগিয়ে গিয়ে জোরালো উঁচু শটে ক্রসবার ঘেঁষে ঠিকানা খুঁজে নেন ২০ বছর বয়সী মিডফিল্ডার জো উইলক। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে ম্যাচ যোগ করা সময়ে গড়ালে লিভারপুল সমর্থকদের মনে নিশ্চয়ই হারের শঙ্কা জেগে উঠেছিল। তবে একেবারে শেষ মুহূর্তে ওরিগির গোলে রক্ষা পায় লিভারপুল। ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। যেখানে নায়ক গোলরক্ষক কেলেহার। দানি সেবাইয়োসের শট ঠেকিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। বিপরীতে লিভারপুলের পাঁচ শট নেওয়া সবাই লক্ষ্যভেদ করেন।

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading